• আধাসেনা নিয়ে মমতার মন্তব্যে কমিশনে বিজেপি
    আনন্দবাজার | ০৯ এপ্রিল ২০২৬
  • মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে বুধবার তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিনিধিদলের সাক্ষাৎ ঘিরে দিল্লিতে চাপান-উতোর তৈরি হয়েছে। আর এই দিনই আধাসেনার বিরুদ্ধে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লোক খেপাচ্ছেন বলে অভিযোগ তুলে তাঁর প্রচারে ‘নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নিষেধাজ্ঞা’ জারি চেয়ে সিইসি-র সঙ্গে দেখা করে দাবি জানাল বিজেপির প্রতিনিধিদল। সেই দলে ছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অর্জুন রাম মেঘওয়াল, দলের নেতা বীরেন্দ্র কুমার, অরুণ সিংহ, ওম পাঠক। একই সঙ্গে, তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি মন্তব্যকে হাতিয়ার করে তাঁর ভাষণেও বিধিনিষেধ আরোপ চেয়ে সিইসি-কে ই-মেল করেছে বিজেপি।

    বিজেপির দাবিপত্রে বলা হয়েছে, ৭ এপ্রিল প্রচার-সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, ‘সিআরপি-র দু’শোটি গাড়ি আপনাদের উপরে হামলা করতে আসছে।’ সিআরপি-র গাড়ি ব্যবহার করে টাকা আনার কথাও মমতা বলেছিলেন বলে বিজেপি অভিযোগ করেছে। পাশাপাশি, বিজেপির অভিযোগ অনুযায়ী, একটি সভায় ‘বিজেপির মাথা, ঘাড়, হাত, পা, মেরুদণ্ড ভেঙে’ দেওয়ার কথা বলেছিলেন অভিষেক।

    মমতার মন্তব্যকে ‘রাষ্ট্রবিরোধী’ বলে অভিযোগ করেছে বিজেপি। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মেঘওয়াল বলেছেন, “সিআরপি-কে আক্রমণকারী হিসাবে ব্যাখ্যা করা আসলে পরিকল্পিত বিভেদ সৃষ্টিকারী আবেদন। ভোটারদের মনে ভয় ও শত্রুতা সৃষ্টি করতেই এমন বলা হয়েছে।” বিজেপির অভিযোগ, এমন উস্কানিমূলক কথা বলে আদর্শ আচরণবিধধি ভাঙার পাশাপাশি বিভাজন উস্কে দেওয়ার কৌশল নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। বিজেপির আরও দাবি, মমতা আধাসেনাকে ঠেকাতে যার কাছে যা রয়েছে, তা দিয়ে প্রতিরোধ গড়ার যে ডাক দিয়েছেন, সেটি হিংসায় উস্কানি দেওয়ার আদর্শ উদাহরণ। এই পরিস্থিতিতে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৪৭ ধারায় (সরকারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা/ দেশদ্রোহিতা) মমতার বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করার আবেদন জানিয়েছে বিজেপি। সূত্রের মতে, বিজেপির দাবি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছে কমিশন। মমতার সিআরপি সংক্রান্ত মন্তব্য নিয়ে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী আবার বলেছিলেন, “মুর্শিদাবাদ, মালদহ, মেটিয়াবুরুজ, নন্দীগ্রামের গড়চক্রবেড়িয়া, হাজরাকাটাতে ওই গাড়িগুলো লাগবে!”

    পাশাপাশি, অভিষেকের মন্তব্যে তাঁদের কর্মীদের উপরে হিংসা চালানোর কথা বলা হয়েছে বলে সরব হয়েছেন বিজেপি নেতা শিশির বাজোরিয়া। রাজ্যে ২০২১-এর বিধানসভা ভোটের পরে ৫৫ জন দলীয় কর্মী ‘খুনে’র অভিযোগের কথাও মনে করিয়ে দিয়েছে বিজেপি।

    এই প্রেক্ষিতে তৃণমূলের মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তী পাল্টা বলেছেন, “মিঠুন চক্রবর্তী যখন ‘এক ছোবলে ছবি’ বলেছিলেন, তখন কি বিজেপি অভিযোগ করেছিল? রাজনৈতিক সংলাপের শব্দগত না ভাবগত অর্থ ধরা হবে? বিজেপি আহাম্মক হলে শব্দগত অর্থ ধরবে। মুখ্যমন্ত্রী ও অভিষেক যা বলেছেন, সেটা বিজেপিকে রাজনৈতিক ভাবে অকেজো করার কথা।”
  • Link to this news (আনন্দবাজার)