• দ্বিতীয় দফার প্রচারে বেশি আসবেন যোগী
    আনন্দবাজার | ০৯ এপ্রিল ২০২৬
  • পাঁচ বছর আগে বাংলার ভোট প্রচারে নরেন্দ্র মোদী-অমিত শাহের পরে যদি আর কারও চাহিদা ছিল, তা হলে তিনি ছিলেন যোগী আদিত্যনাথ। এমন নয় যে উত্তরপ্রদেশের ‘বুলডোজ়ার বাবা’ তথা মুখ্যমন্ত্রী যোগীর এ বারে চাহিদা কিছু কম। বিজেপি সূত্রের মতে, যোগী নামক ব্রহ্মাস্ত্রকে ভোটের উত্তাপ আরও চড়লে, বিশেষ করে দ্বিতীয় দফা ভোটের আশেপাশে বেশি করে ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে।

    যে কোনও রাজ্যেই ভোট প্রচারে সবচেয়ে বেশি চাহিদা থাকে নরেন্দ্র মোদী-অমিত শাহের। পশ্চিমবঙ্গ তার ব্যতিক্রম নয়। যে কারণে দ্বিতীয় দফার ভোট পর্যন্ত আরও এক ডজন করে জনসভা করার পরিকল্পনা রয়েছে মোদী-শাহদের। ওই জুটিকে বাদ দিলে প্রচারে যে মুখ সবথেকে জনপ্রিয়, তিনি হলেন যোগী আদিত্যনাথ। ইতিমধ্যেই অসমে একাধিক জনসভা করলেও পশ্চিমবঙ্গের প্রচারে সে ভাবে দেখা যায়নি। অথচ পাঁচ বছর আগে পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ত্রিশটি জনসভা করেছিলেন যোগী। এ বারেও তারকা প্রচারকের তালিকায় রয়েছেন তিনি। অন্য বিজেপিশাসিত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা যখন নিত্যদিন রাজ্যে পা দিচ্ছেন, তখন যোগী কোথায়, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বিজেপির অন্দরমহলে। অনেক প্রার্থীই দাবি তুলেছেন যোগীকে তাঁদের এলাকায় প্রচারে চাই বলে।

    বিজেপি সূত্রের মতে, যোগীকে মেপে ব্যবহারের পরিকল্পনা নিয়েছে দল। প্রথম দফায় উত্তরবঙ্গে ভোট। সেখানে দলের পরিস্থিতি ভাল। ভাল ফল হবে এমনটাই আশা বিজেপি নেতৃত্বের। তুলনায় দ্বিতীয় দফায় কলকাতা, শহরতলি, উত্তর ও দক্ষিণ চব্বিশ পরগণার সীমান্ত সংলগ্ন এলাকাগুলিতে ভোট। এই এলাকাগুলির অনেক কেন্দ্রই মূলত সংখ্যালঘু অধ্যুষিত। সেখানে একমাত্র হিন্দু ভোটের সামগ্রিক মেরুকরণই বিজেপিকে ভোটে জিততে সাহায্য করতে পারে বলে মনে করে দল। তাই ওই এলাকায় হিন্দুত্ব ও অনুপ্রবেশ নিয়ে মেরুকরণের হাওয়ায় গতি আনতে যোগীকে ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে গেরুয়া শিবিরের। তাই প্রথম দফার চেয়ে দ্বিতীয় দফার ভোট প্রচারে যোগীকে বেশি করে ব্যবহারের কথা ভাবা হয়েছে। দলীয় এক নেতার কথায়, ‘‘এমন নয় যে যোগী প্রথম দফার প্রচারে আসবেন না। তিনি প্রথম দফাতেও প্রচার করবেন। অনুপ্রবেশজনিত সমস্যা রয়েছে, এমন কেন্দ্রগুলির ক্ষেত্রে যোগীকে বেশি করে ব্যবহারের কথা ভাবা হয়েছে। কারণ এক দিকে তাঁর হিন্দুত্ব পরিচয় অন্য দিকে তিনি বুলডোজ়ার বাবা, যিনি দুষ্কৃতীদের ডান্ডায় ঠান্ডা করার নিদানে বিশ্বাস করেন।’’ যোগীর ওই দুই ছবি রাজ্যে হিন্দু ভোটকে একজোট করতে সাহায্য করবে বলে দলের আশা।
  • Link to this news (আনন্দবাজার)