• মহাভারতের কৃষ্ণকে আমার অসম্ভব বড় মাপের একজন রাজনীতিবিদ বলে মনে হয়: গৌতম হালদার
    আনন্দবাজার | ০৯ এপ্রিল ২০২৬
  • ১. মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে কাকে দেখতে চান?
    গৌতম হালদার: মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে এমন কাউকেই চাই যিনি বাঙালি জাতি, বাংলা ভাষা, তার সংস্কৃতি নিয়ে গর্ব বোধ করবেন। এটা যেন সত্যিকারের কাজের জায়গা থেকেই তৈরি হয়। না হলে বাঙালি জাতির অবস্থা তো বেশ খারাপ, দেখাই যাচ্ছে সব জায়গা থেকে। তাই এমন মুখ্যমন্ত্রী চাই যিনি সার্বিক ভাবে বাঙালি জাতির উন্নয়ন ঘটাতে পারেন।

    ২. দল দেখে ভোট দেন না কি প্রার্থী দেখে?
    গৌতম: যখন যে রকম মনে হয় আর কী! দুটোই দেখতে হয় আসলে।

    ৩. প্রার্থী বাছাইয়ের পরীক্ষা হলে কেমন হয়? আর জেতার পরে যদি হয় বিধায়কের প্রশিক্ষণ?
    গৌতম: পৃথিবীর কোনও দেশে পরীক্ষা দিয়ে পাশ করে তার পর ভোটে দাঁড়াতে হয় কি না, আমি জানি না। যদি কোথাও এমন হয়, তা হলে সেই দেশের সম্পর্কে খানিকটা জানার পর ব্যাপারটা বলতে পারব।

    ৪. নিজে বিধায়ক হলে কী বদলাতে চাইতেন?
    গৌতম: প্রথম কথা, আমি বিধায়ক হতে চাই না। দ্বিতীয় কথা, আমার বিধায়ক হওয়ার যোগ্যতাও নেই।

    ৫. আপনার পেশার জগতের কোনও অভিযোগ কি ভোট প্রচারে গুরুত্ব পাওয়া দরকার?
    গৌতম: থিয়েটার একটা সমাজকল্যাণমূলক কাজ। বরাবরই তাই শুনে এসেছি। সেই কাজের দিকে সরকারের দৃষ্টি যদি বেশি থাকে, তা হলেই ভাল লাগবে।

    ৬. নির্বাচন প্রক্রিয়াকে দুর্নীতিমুক্ত রাখতে পারে কী কী?
    গৌতম: মনে হয় না নির্বাচন প্রক্রিয়াকে পুরোপুরি দুর্নীতিমুক্ত করা যায়। ছোটবেলা থেকেই শুনে এসেছি নির্বাচনের প্রক্রিয়ার মধ্যেই দুর্নীতি আছে। আজও শুনছি। আবার, ‘দুর্নীতিমুক্ত হোক, দুর্নীতিমুক্ত হোক’ বলে আওয়াজও শুনেছি। কিন্তু এটা ঠিক এ ভাবে বলা যায় না। অনেক কিছু জড়িয়ে আছে।

    ৭. ঘন ঘন দলবদলের বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নেওয়া দরকার?
    গৌতম: ভোটে জেতার পরে কেউ দল বদলালে কোন প্রক্রিয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে? যে প্রক্রিয়ায় সেটা করা হবে, সেটি সম্পূর্ণ দুর্নীতিমুক্ত কি না, সেটাই তো বলা মুশকিল!

    ৮. রাজনীতিতে অপশব্দের প্রয়োগ কি জরুরি?
    গৌতম: সমাজে সারা ক্ষণ যে ভাষা চর্চিত হচ্ছে, তারই তো একটা রূপ রাজনীতিতে আসছে। আমাদের ভাষা পাল্টে যাচ্ছে, পাল্টানো হচ্ছে। কী ভাবে পাল্টে যাচ্ছে, তা ভাষাবিদরা ভাল বলতে পারবেন। আমাদের ভাষায় অন্য রাজ্যের এবং অন্য দেশের শব্দ আসছে, নোংরা শব্দ ঢুকছে বহু পথ ধরে। রাজনীতিতেও তা-ই ঢুকে পড়ছে। হয়তো রাজনীতিকরা ভাবছেন, এই ভাষাই তো চলছে, তাই এটাই ব্যবহার করি।

    ৯. দেশজ সংস্কৃতি, উন্নয়ন না কি সমান অধিকার— ভোট প্রচারে কোনটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ?
    গৌতম: সংস্কৃতিই আমার কাছে প্রধান। সংস্কৃতির অঙ্গই তো সমান অধিকার এবং উন্নয়ন। আমাদের দেশে সব ধর্মকে এক ভাবে দেখার চেষ্টা হয়েছিল, এর থেকে বড় সাম্যবাদ আর কোথায়? ধরা যাক আমাদের গৌতম বুদ্ধের কথা। তিনিও তো অন্য এক অর্থে সাম্যবাদই চেয়েছিলেন। চৈতন্যও তাই।

    ১০. ভাতা-র রাজনীতি সমাজের উন্নতি করে কি?
    গৌতম: সাহায্য করা তো ভালই। কিন্তু কাকে সাহায্য করছি, কেন করছি, তা বোঝা দরকার। সরকারি সাহায্য কেন থাকবে না? নিশ্চয়ই থাকবে। অনেক রকমের ভাতাই তো আছে। কিন্তু এই ভাতা দিয়ে আমি কাউকে কর্মক্ষম করছি না কি কর্মবিমুখ করছি, সেটা গুরুত্বপূর্ণ।

    ১১. প্রায় বিরোধীশূন্য রাজনীতি কি স্বাস্থ্যকর?
    গৌতম: এমন অনেক দেশ আছে, যেখানে সে অর্থে বিরোধী প্রায় নেই। কিন্তু সে সব দেশেও বিশাল উন্নতি হয়েছে। কথা হচ্ছে, দিনের শেষে উন্নতি করতেই হবে। আমি একটা জায়গা একেবারে ঝাড়েবংশে বিরোধীশূন্য করে দিলাম, কিন্তু উন্নতি করতে পারলাম না! তখন কী হবে?

    ১২. তারকারা কি ভোট টানার শর্টকাট?
    গৌতম: এর উত্তর আমি দিতে পারব না। যাঁরা তারকাদের নিয়ে আসেন, তাঁরা বলতে পারবেন (হাসি)।

    ১৩. পছন্দের রাজনীতিবিদ কে?
    গৌতম: আমার তো অসম্ভব বড় রাজনীতিবিদ মনে হয় মহাভারতের কৃষ্ণকে! অথবা বিবেকানন্দ, রামমোহন, শ্রীচৈতন্য— যাঁরা সত্যিকারের রাজনৈতিক কাজ করেছেন। এঁরা এমন এমন কাজ করেছেন যে, দল তৈরি হয়ে গিয়েছে। মানুষ দলে দলে এঁদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন। আর যুগে যুগে সেই দল বেড়েছে। যেমন রামমোহন তাঁর কাজের সময়ে সমর্থন পেয়েছিলেন ঠিকই, কিন্তু বিরোধিতা ছিল প্রবল। তবু ধীরে ধীরে তাঁর সমর্থকের সংখ্যা বেড়েছে অনেক।
  • Link to this news (আনন্দবাজার)