• ভোটের ১৪ দিন আগে খড়্গপুরে কর্মীদের ‘চাঙ্গা’ করার মন্ত্র দিলেন অভিষেক! সাংসদ জুনের দাবি, ‘সমন্বয়’ নিয়ে সমস্যা নেই
    আনন্দবাজার | ১০ এপ্রিল ২০২৬
  • পশ্চিম মেদিনীপুরে তৃণমূল টিকিট দেয়নি কয়েক জন বিধায়ককে। তা নিয়ে অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল জেলার নেতা-কর্মীদের একাংশের মধ্যে। এই আবহে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার ১৫ জন প্রার্থী এবং দলীয় নেতাদের নিয়ে ভোটের ১৪ দিন আগে, বৃহস্পতিবার বন্ধ ঘরে দু’দফায় বৈঠক করলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সূত্রের খবর, দলীয় নেতৃত্বকে চাঙ্গা হওয়ার জন্য ‘ডোজ়’ দেন তিনি। যদিও বৈঠক শেষে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কোনও কথা বলেননি অভিষেক। মেদিনীপুরের সাংসদ জুন মালিয়া জানান, দলকে চাঙ্গা করার মন্ত্র দিয়েছেন অভিষেক। ‘সমন্বয়’ নিয়ে কোনও সমস্যা নেই বলেও দাবি করেছেন জুন।

    পশ্চিম মেদিনীপুরে ১৫টি বিধানসভা আসনের মধ্যে ১৩টিই রয়েছে তৃণমূলের দখলে। মাত্র দু’টি রয়েছে বিজেপির। দলের একটি সূত্র বলছে, এ বার ১৫টি আসনই দখল করতে মরিয়া তৃণমূল। মনে করা হচ্ছে, জেলা নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করে সে কথাই স্পষ্ট করেছেন অভিষেক। খড়্গপুরের চৌরঙ্গী এলাকার একটি লজে বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে দু’দফায় বৈঠক করেন অভিষেক। তৃণমূল সূত্রে খবর, পশ্চিম মেদিনীপুরে যাঁরা তৃণমূলের প্রার্থী হয়েছেন, তাঁরা ছাড়াও স্থানীয় কয়েক জন নেতা এবং মেদিনীপুরের সাংসদ জুন হাজির ছিলেন ওই বৈঠকে।

    পশ্চিম মেদিনীপুরে প্রথম দফায় অর্থাৎ ২৩ এপ্রিল নির্বাচন। তার আগে তৃণমূলের ‘সেনাপতি’ অভিষেকের বৈঠকের পরে তাঁরা অনেকটাই উজ্জীবিত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় নেতৃত্বের একাংশ। সূত্রের খবর, অনেকে মনে করেন, এই ‘ডোজ়’ প্রয়োজন ছিল। সূত্রের খবর, প্রার্থী হতে না-পেরে কয়েক জন নেতার মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। দলের একটি সূত্র বলছে, কারা প্রচারে থেকেও নেই, কারা নেপথ্যে থেকে খোঁচা দিচ্ছেন, সেই বিষয়ে সর্বোচ্চ নেতৃত্বের কাছেও খবর গিয়েছে। গত মাসের শেষে নারায়ণগড়ে সভা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর ভাষণেও সেই ইঙ্গিত মিলেছিল। মমতা বলেছিলেন, ‘‘আমরা এ বারে এই (নারায়ণগড়) কেন্দ্রে প্রার্থী বদল করেছি (বিধায়ক ছিলেন সূর্যকান্ত অট্ট)। নতুনদের সুযোগ দিতে হবে। যদি কেউ মনে করেন আজীবন আমি থাকব, এটা মনে করা ভুল। সকলকে নিয়ে চলতে হয়। মানুষের সঙ্গে থাকুন, মানুষের কাজ করুন। টিকিট পাননি বলে বিরোধিতা করতে হবে, এটা ঠিক নয়।’’

    মমতা আরও বলেছিলেন, ‘‘এখানে (নারায়ণগড়) প্রতিভা মাইতি প্রার্থী, তাঁকে ভোট দেওয়া মানে তৃণমূলকে ভোট দেওয়া। নারায়ণগড়ে কওসর আলি দীর্ঘ দিনের, সে কোনও দিন টিকিট চায়নি। দীনেন রয়েছেন আমার সঙ্গে, দাঁতনের বিধায়ক বিক্রম প্রধান এ বারে টিকিট পাননি। আমি বিক্রমদার সঙ্গে কথা বলে নেব। সম্মান ফিরিয়ে দেব, আপনার সমর্থন আমরা প্রার্থনা করি।’’

    প্রসঙ্গত, তৃণমূলের প্রার্থিতালিকায় স্থান হয়নি দলের ৭৪ জন বিধায়কের! অনুপাতের হিসাবে যা ৩৩ শতাংশ। দলীয় সূত্রের খবর, আসন ধরে ধরে গত পাঁচ বছরের ‘পারফরম্যান্স’ বিচার করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ‘পারফরম্যান্সে’ বিশ্বাসী অভিষেক ‘কাজ করলে পদে থাকুন, নইলে রাস্তা দেখুন’ নীতি সংগঠনের অন্দরে অনেকাংশেই কার্যকর করেছেন। তৃণমূলের ‘সেনাপতি’ চান, সেই নীতি সরকার এবং প্রশাসনেও কার্যকর হোক। সে কারণে টিকিট নিয়েই পশ্চিম মেদিনীপুরে নেতাদের একাংশের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল বলে খবর। বৃহস্পতিবার বৈঠক করে সেই নিয়েই অভিষেক ‘ডোজ়’ দিয়েছেন বলে খবর।

    বৈঠক শেষে সাংসদ জুন বলেন, ‘‘যথেষ্ট ভিটামিন ডোজ দিয়ে গিয়েছেন। আর তো প্রচারের ১২ দিন। সেনাপতি হিসেবে অভিষেক তাঁর কর্তব্য, দায়িত্ব পালন করেছেন। সবাইকে এনার্জাইস করেছেন। বলেছেন, আমাদের ভাল রেজাল্ট করতে হবে। যে এনার্জি বুস্ট দিয়ে গিয়েছেন, তা সাহায্য করবে।’’ তার পরেই জুন বলেন, ‘‘সমন্বয় নিয়ে কোনও সমস্যা নেই, যা রয়েছে বিজেপির। ২৯৪ আসনে দিদি প্রার্থী, তাই দিদিকে জেতাতে হবে। গোষ্ঠী সমন্বয় হবে আবার নির্বাচনের পর। এখন আর ওই সব মাথায় নেই।’’
  • Link to this news (আনন্দবাজার)