রাত ১০টা থেকে ২টো পর্যন্ত এলাকা পরিদর্শন করতে হবে! জয়েন্ট সিপি, ডিসিদের নির্দেশ কলকাতার পুলিশ কমিশনারের
আনন্দবাজার | ১০ এপ্রিল ২০২৬
রাত ১০টা থেকে ২টো পর্যন্ত রাস্তায়থাকতে হবে কলকাতার সিনিয়র পুলিশ আধিকারিকদের। এমনটাই নির্দেশ দিলেন পুলিশ কমিশনারঅজয় নন্দ। বৃহস্পতিবার তিনি শহরের সিনিয়র পুলিশকর্তাদের সঙ্গে একটি বৈঠক করেছেন।সেখানেই এই নির্দেশ দিয়েছেন। জানিয়েছেন, সিনিয়র আধিকারিকদের আরও বেশি করেপ্রকাশ্যে আসতে হবে। রাতবিরেতে এলাকা পরিদর্শন করতে হবে। নির্বাচন সংক্রান্ত যেকোনও মামলায় অফিসারদের কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করতে বলেছেন সিপি। ঘটনার গুরুত্ব বুঝে প্রয়োজনীয় নির্দেশও দিতে পারবেন এই অফিসারেরা।
বৃহস্পতিবারের বৈঠকে ছিলেন শহরেরযুগ্ম পুলিশ কমিশনার এবং ডিসি পদমর্যাদার অফিসারেরাও। তাঁদেরও রাতে এলাকা পরিদর্শনেরনির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নাকা তল্লাশির সময় এই আধিকারিকেরা উপস্থিত থাকবেন। নজরদারিচালাবেন গোটা প্রক্রিয়ার উপর। এমনকি, কেন্দ্রীয় বাহিনীর সঙ্গেও এই সিনিয়রআধিকারিকদের থাকতে বলা হয়েছে। ভোটের আগে এলাকা পরিদর্শন এবং নজরদারিতেই জোর দেওয়াহচ্ছে।
আগামী ২৩ এবং ২৯ এপ্রিল দুই দফায় পশ্চিমবঙ্গের ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ হবে। কলকাতায় ভোট রয়েছে ২৯ তারিখ। ভোটের ফলাফল জানা যাবে ৪ মে। এই পর্যায়ে রাজ্যের পুলিশ প্রশাসন নির্বাচন কমিশনের নিয়ন্ত্রণে। কলকাতায় একাধিক অশান্তির ঘটনায় ইতিমধ্যে পুলিশ কমিশনার ভর্ৎসিত হয়েছেন। ভবানীপুরে শুভেন্দু অধিকারীর মনোনয়ন জমা দেওয়াকে কেন্দ্র করে অশান্তির ঘটনায় দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার কলকাতার সিপি অজয়কে উদ্দেশ করে বলেছিলেন, ‘‘আইপিএস হয়ে কলকাতা সামলাতে পারছেন না? আপনাকে কি প্রশিক্ষণ দিতে হবে?’’ এর পর শহরের নিরাপত্তা নিয়ে ব্যক্তিগত ভাবে সিপি বৈঠক করলেন লালবাজারের কর্তাদের সঙ্গে।
ভোটের মুখে সুপ্রতিম সরকারকে কলকাতার সিপি পদ থেকে সরিয়ে অজয়কে নিয়োগ করেছে কমিশন। পুলিশের ভূমিকা নিয়ে বৃহস্পতিবারও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিযোগ, তাঁর পদযাত্রায় নিরাপত্তার সঠিক ব্যবস্থা করেনি পুলিশ। এই পরিস্থিতিতে পুলিশের তরফেসাধারণ মানুষের উদ্দেশে শান্তি বজায় রাখার বার্তা দেওয়া হচ্ছে। বলা হচ্ছে, ভয়,প্রলোভনমুক্ত পরিবেশে ভোট করানোর জন্য কলকাতা পুলিশ বদ্ধপরিকর। যে কোনও অশান্তিকঠোর হাতে দমন করা হবে। ছাপ্পা বা বুথ জ্যামের চেষ্টা হলে কমিশনের নির্দেশঅনুযায়ী যথোপযুক্ত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জনগণকে নির্ভয়ে ভোট দেওয়ার জন্যউৎসাহিত করছে পুলিশ। কেউ ভোট দিতে বাধা পেলে থানায় জানাতে বলা হয়েছে।