বিধানসভা নির্বাচনের জন্য রাজ্যে এসেছে বিপুল সংখ্যক কেন্দ্রীয় বাহিনী। শিক্ষাঙ্গনে তাদের থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ফলে, পড়ুয়াদের পরীক্ষা বাতিল হওয়ায় ক্ষুব্ধ শিক্ষক থেকে অভিভাবকেরা।
বৃহস্পতিবার থেকে ভাঙড় ২ ব্লকের সাতুলিয়া ইসলামিয়া সিনিয়র হাই মাদ্রাসার পরীক্ষা ছিল। কিন্তু বাহিনী মাদ্রাসার ভবনে থাকায় পরীক্ষা বাতিল হয়েছে। বুধবার থেকে ওই মাদ্রাসার ফ্রি প্রাইমারি থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত পরীক্ষাশুরু হয়। কিন্তু সে দিন বিকেলেই মাদ্রাসায় দু’কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনীর থাকার ব্যবস্থা করা হয়। মাদ্রাসার ৩২টি ক্লাসঘরের মধ্যে প্রায় ২৪টি ঘর নিয়ে নেওয়া হয়। শুধু তাই নয়, বাহিনীর জন্য শিক্ষকদের ঘরও নিয়ে নেওয়া হয়েছে। এ দিন মাদ্রাসার পড়ুয়ারা পরীক্ষা দিতে এলে কর্তৃপক্ষ তাদের জানিয়ে দেন, বাহিনী থাকার জন্য আপাতত পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে। পরে পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হবে।
প্রশাসন সূত্রের খবর, ভাঙড়ের বিভিন্ন থানায় আসা কেন্দ্রীয় বাহিনীর থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে বিভিন্ন স্কুল, মাদ্রাসায়। তার জেরে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে অভিভাবকদের মধ্যে। অভিভাবক মিন্টু মোল্লা বলেন, ‘‘এ ভাবে হঠাৎ করে ছাত্রছাত্রীদের পরীক্ষা বন্ধ করে দিলে তাদের পঠনপাঠনের ক্ষতি হবে।’’ একটি মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক শেখ গোলাম মইনুদ্দিন বলেন, ‘‘কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকার জন্য প্রায় অধিকাংশ ক্লাসঘর নিয়ে নেওয়া হয়েছে। ফলে পরীক্ষা নেওয়ার পরিবেশ নেই। সে কারণে পরীক্ষা স্থগিত রাখতে হয়েছে।’’
ভাঙড় ২ ব্লকের পোলেরহাট হাই স্কুলও বাহিনীরথাকার জন্য নিয়ে নেওয়া হয়েছে। সেখানে প্রধান শিক্ষকের কার্যালয়ও জোর করে নিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। পোলেরহাটহাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক সন্দীপ সরকার বলেন, ‘‘আমার ঘরে স্কুলের সমস্ত দরকারি ফাইল,কম্পিউটার থেকে শুরু করে গুরুত্বপূর্ণ নথি রয়েছে। রাতারাতি বিনা নোটিসে আমার ঘর বাহিনী নিয়ে নিয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েও কাজ হয়নি। তাই স্কুলের পঠনপাঠন বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছি।’’
এ বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কেউ কোনও মন্তব্য করতে চাননি।