• ঝড়ে ভাঙছে গাছ, ক্ষতিপূরণে ৯১টি চারা
    আনন্দবাজার | ১০ এপ্রিল ২০২৬
  • ঝড়বৃষ্টির জেরে গত ১৬ মার্চ থেকে ৫ এপ্রিল পর্যন্ত কলকাতায় ভেঙে পড়েছে ৪৩টি গাছ। সেই গাছের পরিবর্ত হিসেবে কলকাতা পুরসভা রোপণ করেছে ৯১টি গাছ। তার পরে গত সোমবারের ঝড়েই ফের ভেঙে যায় ৩০টি গাছ।

    কলকাতা পুরসভা সূত্রের খবর, গাছ ভেঙে পড়ার ছবি নজরেআসে নতুন পুর কমিশনার স্মিতা পাণ্ডের। তার পরেই তিনি পুরসভার উদ্যান বিভাগের আধিকারিকদের নির্দেশ দেন, যে সমস্ত জায়গায়গাছ ভেঙেছে, সেখানে কমপক্ষে দু’টি করে গাছ লাগাতে হবে।স্মিতা পুর কমিশনারের পাশাপাশি ডিস্ট্রিক্ট ইলেকশন অফিসার (নর্থ কলকাতা)-এর দায়িত্ব পালন করছেন বর্তমানে। নির্দেশ পেয়ে পুরসভার উদ্যানবিদরা কোথায় কত গাছভেঙে পড়েছে, তার তালিকা তৈরি করেন। উদ্যান বিভাগের এক আধিকারিকের কথায়, ‘‘আমরা দেখেছি, ১৬ মার্চ থেকে ৫ এপ্রিল পর্যন্ত ৪৩টি গাছ ভেঙে পড়েছে। এখনও পর্যন্ত তার বদলে ৯১টি চারা রোপণ হয়েছে। এই সংখ্যাটা বাড়তে থাকবে।’’ কলকাতা পুরসভা সূত্রের খবর, জারুল, বাক্সবাদাম, অমলতাস, আম, বকুল, দেবদারুর চারা রোপণ করা হয়েছে।

    নিয়ম মতো পুরসভা শহরের রাস্তার দু’পাশে, পুর উদ্যানে গাছ লাগায়। ঝড়বৃষ্টিতে গাছ ভেঙে পড়েছে মৌলানা আজাদ কলেজ, বেহালার পর্ণশ্রীর বিবেকানন্দ কলেজেও। কলেজে গাছ লাগানোর দায়িত্ব পুরসভার নয়। কিন্তু ‘উদ্ভিদপ্রেমী’ কমিশনার নির্দেশ দেন, শহরের যে যে জায়গায় গাছ ভেঙেছে, সেখানেই যেন কমপক্ষে দু’টি করে গাছ লাগানো হয়। তাই মৌলানা আজাদ কলেজের ভিতরে নিম, বিবেকানন্দ কলেজে লাগানো হয়েছে দেবদারু।

    প্রসঙ্গত, এখন গাছ লাগানোর মরসুম নয়। তবু অনেক গাছ পড়ে যাওয়ায় পরিপূরক গাছ লাগানোর পরামর্শ দিয়েছেন কমিশনার। পরিবেশবিজ্ঞানী স্বাতী নন্দী চক্রবর্তী বলছেন, ‘‘উদ্যোগটা ভাল, তবে এই সময়ে গাছ বাঁচানো কঠিন। ফলে এর জন্য অতিরিক্ত সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে।’’

    পরিবেশকর্মী সুভাষ দত্ত বলেন, ‘‘স্থান-কাল-পাত্র বলে একটা কথা আছে। এখনই গাছ পড়েছে বলে চারা লাগানো হয়েছে। কিন্তু ওই সব চারার অর্ধেক বাঁচানোই দায় হবে। বরং বর্ষায় গাছ লাগানো হলে সেগুলি বাঁচানোর সুযোগ বাড়ে।’’
  • Link to this news (আনন্দবাজার)