রাহুলের মৃত্যুর জেরে বন্ধ ‘ম্যাজিক মোমেন্টস্’-এর ধারাবাহিক, কী ভাবছেন সংস্থার কর্মীরা?
আনন্দবাজার | ১০ এপ্রিল ২০২৬
এক দিনের নোটিসে ঘোষণায় বন্ধ হয়ে যাচ্ছে লীনা গঙ্গোপাধ্যায় , শৈবাল বন্দ্যোপাধ্যায়ের সংস্থা ‘ম্যাজিক মোমেন্টস্’ প্রযোজিত দুই ধারাবাহিক—‘ভোলেবাবা পার করেগা’, ‘চিরসখা’। নেপথ্য কারণ, রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের আকস্মিক মৃত্যু। লীনা-শৈবাল প্রযোজিত ‘ভোলেবাবা পার করেগা’ ধারাবাহিকের শুটিং করতে গিয়েছিলেন রাহুল। সেখানেই ঘটে মর্মান্তিক ঘটনা। এই প্রেক্ষিতে আর্টিস্ট ফোরাম সিদ্ধান্ত নেয়, আপাতত ওই সংস্থার সঙ্গে কাজ করবেন না কোনও শিল্পী এবং টেকনিশিয়ান।
এই সিদ্ধান্তের পরে অভিনেতাদের একাংশ, বিশেষত উপরোক্ত দুই ধারাবাহিকের সঙ্গে যুক্ত অনেক শিল্পীই টেকনিশিয়ানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। যে বিষয় নিয়ে গত দু’দিনে দফায় দফায় বৈঠক হয়েছে টেকনিশিয়ান স্টুডিয়োয়। সেই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় থেকে শিল্পী এবং টেকনিশিয়ানেরা। এরই পাশাপাশি প্রশ্ন উঠেছে, লীনা-শৈবালের সংস্থা ‘ম্যাজিক মোমেন্টস্’-এর যাঁরা কর্মী, তাঁদের কী অবস্থা?
এই পরিস্থিতিতে তাঁরা কী ভাবছেন? লীনার ছেলে অর্ক গঙ্গোপাধ্যায়েরও একটি প্রযোজনা সংস্থা রয়েছে। তার নাম ‘অরগ্যানিক্স’। তাদের প্রযোজিত ধারাবাহিকের নাম হল ‘কনে দেখা আলো’। সেই কাহিনির শুটিংও বন্ধ রয়েছে দু’দিন হল। সব মিলিয়ে ‘ম্যাজিক মোমেন্টস্’ এবং ‘অরগ্যানিক্স’-এর কর্মীরা এই পরিস্থিতিতে কী ভাবছেন?
এ প্রসঙ্গে আনন্দবাজার ডট কম-এর তরফে যোগাযোগ করা হয় সংস্থার পোশাকশিল্পী, কার্যনির্বাহী প্রযোজক-সহ আরও কয়েক জনের সঙ্গে। স্বাভাবিক কারণেই নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তাঁরা। তবে টালমাটাল পরিস্থিতিতে তাঁরা চিন্তিত।
সংস্থার এক পোশাকশিল্পী অনেক দিন ধরেই লীনার সঙ্গে কাজ করছেন। তিনি বললেন, “আমি এবং আমার স্বামী দু’জনেই বহু দিন ধরে এই সংস্থায় কাজ করছি। তাই এই পরিস্থিতিতে শুধুই নিজের কথা ভাবতে পারছি না। অসময়ে কি ছেড়ে যাওয়া যায়? আশা করছি, তাড়াতাড়ি সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। এখনও সময় আছে। পরে ভাবা যাবে বাইরে কাজ করব কি করব না।”
আর এক কর্মীরও একই মত। তিনি এখনই সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না। এ দিকে আগামিদিনে সংসার চলবে কী করে? তা নিয়েও প্রতি দিন চিন্তা বাড়ছে। কাজ বন্ধ থাকলে মাসিক বেতনের উপরেও নিশ্চয়ই প্রভাব পড়বে, সেই শঙ্কাও রয়েছে তাঁর মনে।
সংস্থার এক কার্যনির্বাহী প্রযোজকের কথায়, তিনি নিজের ডিউটি রোজ করবেন। তিনি বললেন, “আমার যে কাজ সেটা আমি চালিয়ে যাব। কারণ, আমার কাজে আমি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ভবিষ্যতে কী হবে, এই প্রশ্ন অবশ্যই ভাবাচ্ছে। কিন্তু এই পরিস্থিতিতে কার সঙ্গে কথা বলা উচিত? সেটাও বুঝে উঠতে পারছি না। কারণ, আমাদের মতো সবারই চিন্তা রয়েছে। কিন্তু এই সময়ে বাইরে কাজ করতে চলে যাব, সেটাও যুক্তিসঙ্গত মনে হচ্ছে না আমাদের।”
তিনটি ধারাবাহিকে যে সব টেকনিশিয়ানেরা কাজ করতেন, যাঁরা ফেডারেশনের সদস্য, তাঁরা যাতে বসে না থাকেন, তা নিয়ে বৈঠক চলছে। কিন্তু প্রযোজনা সংস্থার নিজস্ব কর্মীদের ভবিষ্যৎ কী? সেই প্রশ্ন থেকেই যায়। এখনও পর্যন্ত সংস্থার তরফে এই বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি।