আসন পুনর্বিন্যাস নিয়ে স্পষ্ট কৌশল এখনও নেয়নি তৃণমূল
আনন্দবাজার | ১০ এপ্রিল ২০২৬
ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ৯১ লক্ষ নাম বাদ পড়ার পরে নিজেদের জমি ধরে রাখার লড়াইয়ে ব্যস্ত তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্ব। রয়েছে প্রচারের ব্যস্ততাও। এই পরিস্থিতিতে লোকসভার আসন পুনর্বিন্যাসের ‘বিপদ’ নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের কোনও স্পষ্ট অবস্থানের ইঙ্গিত এখনও মেলেনি। অথচ একাধিক বিরোধী দল ইতিমধ্যেই এ নিয়ে সক্রিয়।
ডিএমকে নেতা এম কে স্টালিন বিস্তৃত বিবৃতি দিয়েছেন বিষয়টি নিয়ে। কংগ্রেস কাল ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠক ডেকেছে। শীঘ্রই সমস্ত বিরোধী দলের বৈঠকও ডাকবে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ১৩ তারিখে মহিলা সংগঠনগুলির সঙ্গে বসবেন আসনপুনর্বিন্যাসের সঙ্গেই যুক্ত, মহিলাদেরজন্য আসন সংরক্ষণ বিল নিয়ে আলোচনা করতে। সংবাদমাধ্যমে সওয়াল করে বিলটির সিংহভাগ কৃতিত্ব নেওয়ার প্রয়াস শুরু করেছেন তিনি। এই বিল পাশের জন্যই ছ’দিন পরে বিশেষ অধিবেশন বসছে সংসদের।
অথচ তৃণমূল এখনও আসন পুনর্বিন্যাস নিয়ে প্রকাশ্যে নীরব। সূত্রের খবর, কোনও সুনির্দিষ্ট কৌশলও স্থির করে ওঠার সময় মেলেনি। কয়েকটি পথের মধ্যে কোনটিকে বাছা হবে, তা নিয়ে ভাবনাচিন্তা শুরু হয়েছে। যদিও অনেকের মতে, এই বিল কার্যকর হলে পশ্চিমবঙ্গের বিপদ যথেষ্ট। এখন পশ্চিমবঙ্গের লোকসভা আসন ৪২টি। উত্তরপ্রদেশের ৮০টি। ৩৮টির ফারাক। আসন পুনর্বিন্যাস হলে পশ্চিমবঙ্গের লোকসভা আসন বেড়ে ৬৩টি হবে। উত্তরপ্রদেশে আসন হবে ১২০টি। ফলে তখন দুই রাজ্যের ফারাক হবে ৫৭টি আসনের।
ভোটের মুখে দাঁড়ানো স্ট্যালিন আজ এক দীর্ঘ পোস্টে লেখেন, ‘এটি আসন পুনর্বিন্যাস নয়, ক্ষমতার পুনর্বিন্যাস’। তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, ‘এই প্রস্তাব বিজেপি সরকারেরই স্লোগান ‘ন্যূনতম সরকার সর্বোচ্চ প্রশাসন’-এর পরিপন্থী। এর ফলে শুধুমাত্র খরচ ও করদাতাদের উপরে চাপ বাড়বে, সংসদীয় কাজকর্ম লঘু হয়ে যাবে। সংবিধানের ১ নম্বর অনুচ্ছেদের বিরোধী এই পদক্ষেপ। রাজ্যগুলিকে এড়িয়ে গিয়ে একতরফা সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। সবচেয়ে আতঙ্কের বিষয়, এই পদক্ষেপের ফলে উত্তর ভারতের রাজ্যগুলির দিকে পাল্লা হেলে পড়বে, যেখানে বিজেপির শাসন। দক্ষিণের স্বর রুদ্ধ করে দেওয়া হবে।’ কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়ার কথাও উদ্ধৃত করে তিনি লেখেন, ‘এটি কোনও নিরপেক্ষ প্রক্রিয়া নয়, হিসাব কষে রাজনৈতিক পুনর্বিন্যাস। উত্তর ভারতের রাজ্যগুলি দ্বিগুণের বেশি আসন লাভ করবে। দক্ষিণ ভারত আটকে যাবে মোট আসনের ২৪ শতাংশে।’
তৃণমূল আসন পুনর্বিন্যাস নিয়ে সংসদীয় রণনীতি এখনও স্থির না করলেও আসন সংরক্ষণ নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক যাত্রাপথ ও দলে নারীদের প্রতিনিধিত্বের দিকটিকেতুলে ধরবে আসন্ন অধিবেশনে। এক নেতার কথায়, “নারী-প্রতিনিধিত্বের বিষয়টি আমাদের শক্তির জায়গা। শুধু সংসদীয় প্রতিনিধিত্ব নয়, তৃণমূল সরকার গত পনেরো বছরে প্রত্যন্ত গ্রামে নারীদের জীবন বদলে দিয়েছে। ভোটের কয়েক দিন আগে এই বিল পাশ করিয়ে রাজ্যের মহিলা ভোটারদের মন জয় করা যায় না।” তৃণমূলের রাজ্যসভার উপ-নেতা সাগরিকা ঘোষের কথায়, “‘দিদি ও দিদি’ বলে ভেঙানো, শশী তারুরের স্ত্রীকে ‘৫০ কোটির বান্ধবী’ বলা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এখন নারীশক্তি নিয়ে জ্ঞান দিচ্ছেন। যে পার্টি যৌন অপরাধীকে আড়াল করে, তাকে মালা পরায়, তাদের কোনও অধিকার নেই এই বক্তৃতা দেওয়ার। এ সব নির্বাচনী নাটক মাত্র।”