• ১০০ ভরি সোনার মালিক লাভলি, পাঁচ বছরে পাঁচ গুণ হয়েছে সম্পত্তি! নিজের নামে বাড়ি নেই তৃণমূল বিধায়কের
    আনন্দবাজার | ১২ এপ্রিল ২০২৬
  • ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে সোনারপুর দক্ষিণ কেন্দ্র থেকেই তৃণমূলের টিকিটে লড়েছিলেন তিনি। জিতেওছিলেন। এ বারেও ওই বিধানসভা কেন্দ্রের জন্য তাঁর উপর ভরসা রাখল পশ্চিমবঙ্গের শাসকদল তৃণমূল। তিনি অরুন্ধতী মৈত্র। সকলে তাঁকে লাভলি মৈত্র নামেই চেনেন। অনেকের মতোই তিনিও অভিনয় জগৎ থেকে রাজনীতিতে এসেছেন। ২০২১ সালে প্রথম বার ভোটে লড়ে জিতেছিলেন। এ বার ভোটের ময়দানে লড়ার জন্য জমা করেছেন নিজের মনোনয়নপত্র। সেই সঙ্গে দাখিল করেছেন হলফনামাও। সেই হলফনামা অনুযায়ী, ২০২১ সালের তুলনায় লাভলির সম্পত্তি, গয়নার পরিমাণ বেশ কিছুটা বেড়েছে!

    এ বারের বিধানসভা নির্বাচনে সোনারপুর দক্ষিণ কেন্দ্রে চতুর্মুখী লড়াই। গত বার সিপিএম এবং কংগ্রেস জোট বেঁধে লড়েছিল। এ বার তারা ওই কেন্দ্রে আলাদা আলাদা প্রার্থী দিয়েছে। সিপিএমের টিকিটে লড়ছেন পারমিতা দাশগুপ্ত এবং কংগ্রেসের প্রার্থী সুব্রত দত্ত। তবে রাজনৈতিক কারবারিদের মতে, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে সোনারপুর দক্ষিণ কেন্দ্রে মূল লড়াই দুই ‘ওজনদার’ প্রার্থীর মধ্যেই। লাভলির বিপরীতে ওই কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী করেছে রূপা গঙ্গোপাধ্যায়কে। তিনিও অভিনয় জগৎ থেকে রাজনীতিতে এসেছেন।

    ২০২১ সালে সোনারপুর দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্র থেকে লড়লেও লাভলি ছিলেন খড়দহের ভোটার। তবে ভোটে জিতে ওই কেন্দ্রের বিধায়ক হওয়ার পর নিজের ঠিকানা বদল করেন লাভলি। বর্তমানে তিনি ওই কেন্দ্রেরই ভোটার। তিনি যে হলফনামা জমা দিয়েছেন, তাতে দেখা গিয়েছে গত পাঁচ বছরে তাঁর অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ পাঁচ গুণ বেড়েছে। শুধু লাভলির নয়, তাঁর স্বামী সৌম্য রায়েরও সম্পত্তির পরিমাণ আগের তুলনায় অনেকটাই বেড়েছে। তবে দু’জনের কারও নামেই জমিজমা, বাড়িঘর নেই!

    হলফনামা অনুযায়ী, ২০২১ সালে লাভলির মোট অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ছিল ৪৮ লক্ষ ৮৭ হাজার ৫০০ টাকার। আর ৪১ লক্ষ ২৬ হাজার ৮০০ টাকার সম্পত্তি ছিল তাঁর স্বামীর নামে। তবে এ বার কয়েক গুণ বেড়েছে। হাতে ৯০ হাজার টাকা নগদ নিয়ে আসন্ন ভোটে লড়তে নামছেন লাভলি। সৌম্যের হাতে রয়েছে নগদ ২০ হাজার টাকা। একই রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কে দু’টি অ্যাকাউন্ট আছে সোনারপুর দক্ষিণের তৃণমূল প্রার্থীর। একটি অ্যাকাউন্টে রয়েছে ৩৯ লক্ষ ৬৫ হাজার ৮৬৮ টাকা আর অপরটিতে ১৯ লক্ষ ১৪ হাজার ৫৯৩ টাকা। দুই ব্যাঙ্কে ৪৫ লক্ষের বেশি স্থায়ী আমানত রয়েছে লাভলির। ব্যাঙ্ক-ডাকঘরে কেন্দ্রীয় সরকারি প্রকল্পের অধীনে ‘পাবলিক প্রভিডেন্ট ফান্ড’ বা পিপিএফ আছে তাঁর নামে। পরিমাণ প্রায় আড়াই লক্ষের। এ ছাড়াও, স্বামী-স্ত্রী দু’জনেরই বিনিয়োগ, জীবনবিমা রয়েছে বলে হলফনামায় জানিয়েছে লাভলি। হিসাব অনুযায়ী, লাভলির বর্তমানে অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ২ কোটি ৬৯ লক্ষ ৩৮ হাজার ৫২৫ টাকার, যা ২০২১ সালের তুলনায় পাঁচ গুণেরও বেশি। আর তাঁর স্বামী সৌম্যের মোট অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ১ কোটি ৪৫ লক্ষ ৩৫ হাজার ১৩২ টাকার।

    হলফনামায় দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, লাভলি এবং সৌম্যের কাছে কোটি টাকার গয়না রয়েছে। ২০২১ সালে লাভলির কাছে গয়না ছিল ৭৫০ গ্রাম অর্থাৎ ৭৫ ভরি। সেই সময় তার বাজারমূল্য ছিল ৩৪ লক্ষ ৬৩ হাজার ৫০০ টাকা। সে বছর সৌম্যের কাছে গয়না ছিল ৪০০ গ্রাম অর্থাৎ ৪০ ভরি। পাঁচ বছরে দু’জনেরই গয়নার পরিমাণ কিছুটা বেড়েছে। এ বারের দেওয়া হলফনামা অনুযায়ী, লাভলির কাছে রয়েছে ১০০০ গ্রাম গয়না। ১০০ ভরি গয়নার বর্তমান বাজারমূল্য ১ কোটি ৩৫ লক্ষ টাকা। আর সৌম্যের গয়নার পরিমাণ বেড়েছে ১০ ভরি (মোট ৫০ ভরি), যার বাজারমূল্য ৬৭ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা। ২০২১ সালে দু’জনের নামেই কোনও ঋণ ছিল না। তবে এ বারের হলফনামা অনুযায়ী, লাভলির নামে ৫০ লক্ষ টাকার ঋণ রয়েছে।

    ২০২১ সালে লাভলি বা তাঁর স্বামীর নামে কোনও গাড়ি ছিল না। তবে ২০২৩ সালে লাভলি ২৫ লক্ষ ১৮ হাজার ৬৪ টাকা দিয়ে একটি গাড়ি কিনেছিলেন। এ বারে হলফনামায় সেই গাড়ির কথা উল্লেখ করেছেন সোনারপুর দক্ষিণের বিদায়ী বিধায়ক। ২০২৪-২৫ সালে তিনি আয়কর দিয়েছেন ৩৮ লক্ষ ২৮ হাজার ৩৬০ টাকার। আর ২৩ লক্ষ ৮২ হাজার ৮৬০ টাকার আয়কর দিয়েছেন তাঁর স্বামী। দু’জনের কারও নামেই বাড়ি নেই।

    লাভলির বিরুদ্ধে কোথাও কোনও অপরাধের রেকর্ড নেই। কোনও থানায় তাঁর নামে এফআইআর দায়ের হয়নি। ফলে কোনও মামলাতে তাঁর বিরুদ্ধে চার্জ গঠনেরও প্রশ্ন নেই। ২০২১ সালেও তাঁর বিরুদ্ধে কোনও মামলা ছিল না। কোনও অপরাধের সঙ্গে নাম জড়ায়নি লাভলির।

    ২০২০ সালে লাভলি নেতাজি সুভাষ মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কলাবিভাগে স্নাতক হন। পড়াশোনা চলাকালীনই অভিনয় শুরু করেন তিনি। কয়েকটি সিরিয়ালে তাঁর অভিনয় নজর কেড়েছিল। সেই জগত থেকে রাজনীতিতে এবং ভোটের ময়দানে লাভলি।
  • Link to this news (আনন্দবাজার)