• ‘বিয়ে করব’! বায়না করে পুরুলিয়ায় জলের ট্যাঙ্কের মাথায় ‘শোলের বীরু’, পুলিশ, দমকলের সামনে পণ করল পরিবার
    আনন্দবাজার | ১২ এপ্রিল ২০২৬
  • এ যেন ‘শোলে’ ছবির পুনর্নির্মাণ। সাত সকালে পরিবারের কাছে বিয়ের বায়না করেছিল যুবক। পরিবার তেমন গুরুত্ব না দেওয়ায় সটান ওভারহেড জলের ট্যাঙ্কের উপরে উঠে পড়লেন ২২ বছরের অভিমানী যুবক। পুরুলিয়ার মফস্‌সল থানার দুলমি এলাকায় এমন ঘটনায় রবিবার সকালে হুলস্থুল পড়ে যায়। সূত্রের খবর, সাড়ে ৩ ঘন্টার বেশি সময় ধরে সেখানে বসে ছিলেন নাছোড় যুবক। অবশেষে দমকল ও পুলিশের উপস্থিতিতে পরিবারের লোকজন বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিলে তবেই আব্বাস আনসারি নামে ওই যুবক ওভারহেড ট্যাঙ্ক থেকে নেমে আসেন।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, আব্বাস রবিবার সাতসকালে পরিবারের কাছে বিয়ের বায়না করেন। পরিবার ওই যুবকের বিয়ে নিয়ে অমত প্রকাশ না করলেও প্রথমে তেমন গুরুত্ব দেয়নি। আর তাতেই অসন্তুষ্ট হন আব্বাস। অভিমানে সটান গ্রামের অদূরে দুলমী এলাকায় ওভারহেড পানীয় জলের ট্যাঙ্কে উঠে বসে পড়েন। বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে পড়ে। খবর পেয়ে তড়িঘড়ি ঘটনাস্থলে ছুটে আসে দমকল ও পুলিশ। তাদের অনুরোধ সত্ত্বেও জলের ট্যাঙ্ক থেকে নামতে রাজি হননি ওই যুবক।

    খবর পেয়ে সেখানে হাজির হন যুবকের পরিবারের লোকজন। পুলিশ ও দমকলের কর্মীদের সামনে পরিবার যুবকের বিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়। তার পর রবিবার সকাল সাড়ে ৯টা নাগাদ ধীরে ধীরে জলের ট্যাঙ্ক থেকে নেমে আসেন ওই যুবক। হাঁফ ছেড়ে বাঁচেন দমকল ও পুলিশের আধিকারিকেরাও।

    যুবকের বাবা হাবিব আনসারি বলেন, ‘‘বেশ কিছু দিন ধরেই নিজের বিয়ে নিয়ে জোরাজুরি করছিল আব্বাস। আমরা রাজিও ছিলাম। শনিবার রাতেও এ নিয়ে ছেলের সঙ্গে কথা হয়। রবিবার সকালে আবার বিয়ে করার আবদার করে বসে ছেলে। আমরা তাকে বুঝিয়ে সব কিছু ব্যবস্থার জন্য একটু সময় চাই। এর পর আমরা কাজে বেরিয়ে যাই। পরে শুনি ছেলে জলের ট্যাঙ্কে চড়ে বসেছে।’’ তিনি জানান, শীঘ্রই ছেলের বিয়ের ব্যবস্থা করবেন তাঁরা।

    দুলমির এই ঘটনা ‘শোলে’ সিনেমার কথা মনে করায়। ওই ছবিতে ‘বাসন্তী’ হেমা মালিনীকে বিয়ে করতে চেয়ে জলের ট্যাঙ্কের মাথায় চড়ে বসেছিলেন ‘বীরু’ ধর্মেন্দ্র। যদিও ছবির সমালোচকেরা প্রায়ই পরিহাস করে প্রশ্ন করেন, সিনেমার প্রেক্ষাপট ওই রামগড়ে বিদ্যুৎ ছিল না। তা হলে কী ভাবে ওভারহেড ট্যাঙ্কে জল তোলা হত!
  • Link to this news (আনন্দবাজার)