• দু’জনের সঙ্গে এখনই কাজ নয়, প্রযোজক বদলালে চলতে পারে ‘চিরসখা’, ‘কনে দেখা আলো’: প্রসেনজিৎ
    আনন্দবাজার | ১২ এপ্রিল ২০২৬
  • রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুর ১৪ দিন পার। তাঁর অস্বাভাবিক মৃত্যুর সুরাহা এবং ইন্ডাস্ট্রির প্রত্যেকের নিরাপত্তা চেয়ে ৭ এপ্রিল প্রথম বৈঠক করেছিল আর্টিস্ট ফোরাম-ফেডারেশন। সে দিন টেকনিশিয়ান স্টুডিয়োয় জড়ো হয়েছিলেন অভিনেতা-কলাকুশলী এবং সমস্ত মাধ্যমের প্রযোজক।

    এক সপ্তাহ পরে টেকনিশিয়ান স্টুডিয়োয় ফের বৈঠকে আর্টিস্ট ফোরাম। এ দিন কি কোনও নতুন পদক্ষেপ করার সিদ্ধান্ত নিলেন সদস্যেরা?

    বৈঠকের পর আগের দিনের মতোই এ দিনও সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছিলেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, শান্তিলাল মুখোপাধ্যায়, ভরত কল, দেবদূত ঘোষ, দিগন্ত বাগচী, বিদীপ্তা চক্রবর্তী, বাসবদত্তা চট্টোপাধ্যায়, পায়েল দে প্রমুখ। সাংবাদিকদের প্রসেনজিৎ জানান, এ দিন অভিনেতা-কলাকুশলীরা ভোট দিয়ে জানিয়েছেন, কারা ‘ম্যাজিক মোমেন্টস’ প্রযোজনা সংস্থার কর্ণধারজুটির সঙ্গে কাজ করতে চান, কারা চান না। তাঁর কথায়, “এখনও অধিকাংশ জন ওই দু’জনের সঙ্গে কাজ করতে ভয় পাচ্ছেন। রাহুলের মৃত্যু কিছুতেই ভুলতে পারছেন না কেউ। ফলে, নিরাপত্তার বিষয়টি ভাবাচ্ছে প্রত্যেককে।”

    একই সঙ্গে আর্টিস্ট ফোরামের কার্যকরী সভাপতি এ-ও জানান, যদি কেউ বা কারা ওই দু’জনের সঙ্গে কাজ করতে চান, তাতেও আর্টিস্ট ফোরামের আপত্তি নেই। কারণ, টলিউড কাউকে কোনও দিন ‘ব্যান’ বা ‘বয়কট’ করেনি। আগামী দিনেও করবে না।

    ভোটাভুটির মাধ্যমে ‘ম্যাজিক মোমেন্টস’-এর পক্ষে-বিপক্ষে কারা, বিষয়টি নির্ধারণ করার পাশাপাশি নতুন কী সিদ্ধান্ত গৃহীত হল?

    এ প্রসঙ্গে প্রসেনজিৎ বলেন, “যত দিন না ওঁরা দু’জন নির্দোষ প্রমাণিত হচ্ছে, তত দিন ওঁদের সঙ্গে কেউ কাজ করতে রাজি নন। একই ভাবে ওঁদের সঙ্গে যুক্ত কোনও কাজও নতুন করে হবে না। যদি না প্রযোজনার হাতবদল হয়।” টলিউডের ‘ইন্ডাস্ট্রি’ হিসাবে খ্যাত অভিনেতা-প্রযোজক-পরিচালকের দাবি, এর আগেও প্রযোজনা হাতবদল হয়ে অনেক কাজ হয়েছে। চ্যানেল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি মেনে নিলে ‘চিরসখা’ এবং ‘কনে দেখা আলো’র সম্প্রচার বন্ধ না-ও হতে পারে। এ প্রসঙ্গে তিনি জানান, ইতিমধ্যেই দু’টি ধারাবাহিকের অভিনেতারা আর্টিস্ট ফোরামের সঙ্গে কাজ হারানো নিয়ে কথা বলেছেন। সেই জায়গা থেকেই এই ভাবনা সংগঠনের। চ্যানেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলবে সংগঠন। তাঁর কথায়, “তার পরেও বলব, সংগঠন কাউকে কাজ দিতে পারে না। কোনও সমস্যা তৈরি হলে সমাধানের রাস্তা খুঁজতে পারে মাত্র।”

    এ ছাড়া, নতুন আদর্শ পরিচালন পদ্ধতি বা স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর (এসওপি) তৈরির কাজও যে চলছে, সে প্রসঙ্গেও আশ্বাস দেন প্রসেনজিৎ।

    ‘ম্যাজিক মোমেন্টস’ প্রযোজনা সংস্থার ধারাবাহিক ‘ভোলেবাবা পার করেগা’র আউটডোর শুটিং করতে গিয়ে তালসারির সমুদ্রে তলিয়ে যান রাহুল। তাঁর অস্বাভাবিক মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনও জানা যায়নি। কলকাতা এবং তালসারি, এই দুই জায়গায় প্রযোজনা সংস্থার দুই কর্ণধার, ধারাবাহিকের পরিচালক, প্রোডাকশন ম্যানেজার-সহ মোট পাঁচ জনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করছেন সদ্যপ্রয়াত অভিনেতার স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা সরকার।

    রাহুলের আকস্মিক অস্বাভাবিক মৃত্যুতে থমকে গিয়েছে টলিউড। প্রযোজনা সংস্থার দুই কর্ণধার লীনা গঙ্গোপাধ্যায়, শৈবাল বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে অভিনেতা-কলাকুশলীদের তীব্র ক্ষোভ আছড়ে পড়েছে। ৭ এপ্রিল একদিনের কর্মবিরতির দিন টেকনিশিয়ান স্টুডিয়োতে মুখোমুখি বৈঠকে বসেন আর্টিস্ট ফোরাম এবং ফেডারেশনের সদস্যরা। উপস্থিত ছিলেন সিনেমা এবং চ্যানেল কর্তৃপক্ষ, ধারাবাহিকের প্রযোজকেরাও। ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে যুক্ত প্রত্যেকের নিরাপত্তা আরও আঁটোসাঁটো করতে ওই দিন নতুন করে আলোচনা হয় নতুন আদর্শ পরিচালন পদ্ধতি বা স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর (এসওপি) নিয়ে। অভিনেতা এবং কলাকুশলীরা একযোগে জানান, যত ক্ষণ না নির্দোষ প্রমাণিত হচ্ছেন প্রযোজনা সংস্থার কর্ণধারেরা, তত ক্ষণ তাঁদের সঙ্গে কাজ করতে ভয় পাচ্ছেন তাঁরা।

    সেই জায়গা থেকে ধারাবাহিক ‘চিরসখা’ এবং ‘কনে দেখা আলো’র ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল। কারণ, ‘চিরসখা’ ধারাবাহিকের প্রযোজক ‘ম্যাজিক মোমেন্টস’। ‘কনে দেখা আলো’র প্রযোজক ‘ম্যাজিক মোমেন্টস’-এর প্রযোজকজুটির অন্যতম এক প্রযোজকের ছেলে। ধারাবাহিকের গল্পও ওই প্রযোজকের লেখা।
  • Link to this news (আনন্দবাজার)