• মমতা, অটলবিহারী, বুদ্ধদেব তাঁর পছন্দের রাজনীতিবিদ! ভোটের মুখে ব্যক্ত হল কুমার বসুর মনের কথা
    আনন্দবাজার | ১৩ এপ্রিল ২০২৬
  • ১. মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে কাকে দেখতে চান?
    কুমার বসু: পশ্চিমবঙ্গে এই মুহূর্তে আমার মনে হয় না মমতাদির কোনও বিকল্প আছেন বলে।

    ২. দল দেখে ভোট দেন না কি প্রার্থী দেখে?
    কুমার: কাজ দেখে ভোট দিই।

    ৩. প্রার্থী বাছাইয়ের পরীক্ষা হলে কেমন হয়? আর জেতার পরে যদি হয় বিধায়কের প্রশিক্ষণ?
    কুমার: অবশ্যই দরকার। প্রার্থীর যোগ্যতা দেখে নেওয়া দরকার। শুধু যোগ্য ও শিক্ষিতই নয়, স্বচ্ছতাও জরুরি। এই যে দুষ্কৃতীরা ভোটে দাঁড়িয়ে যাচ্ছে, এগুলো বন্ধ হওয়া উচিত। বিধায়কের প্রশিক্ষণের থেকেও আমার জরুরি মনে হয় যিনি সুপ্রিমো, তাঁর প্রত্যেকের খবর গোপন সূত্রে নেওয়া উচিত, যে সকলে ঠিকঠাক কাজ করছেন কি না।

    ৪. নিজে বিধায়ক হলে কী বদলাতে চাইতেন?
    কুমার: আমার মনে হয় রাজ্য তথা দেশের মানুষকে বদলানোর প্রয়োজন আছে। কারণ, মানুষের উচ্চাকাঙ্ক্ষা থেকে যে ব্যাপারগুলো ঘটছে, তাতেই দুর্নীতি বাড়ছে। অর্থাৎ, আমি একটা জিনিস যেনতেন প্রকারেণ পেতে চাই। তার জন্য আমি ঘুষ দিতে প্রস্তুত, আপস করতেও প্রস্তুত! এই মানসিকতা বদলাতে হবে। তাতে সমাজ সুস্থ থাকবে।

    ৫. আপনার পেশার জগতের কোনও অভিযোগ কি ভোট প্রচারে গুরুত্ব পাওয়া দরকার?
    কুমার: শিল্প-সাহিত্য ক্ষেত্রে অনেক রকম অভাব-অভিযোগ তো আছেই। তাই আবেদন রাখব যে, এই ব্যাপারে অভাব-সমস্যা যতখানি সম্ভব যদি কমিয়ে ফেলা যায়। কারণ, শিল্প-সাহিত্য যদি বার বার আঘাত পেতে থাকে, তা হলে সেটা সমাজের পক্ষে ভাল নয়।

    ৬. নির্বাচন প্রক্রিয়াকে দুর্নীতিমুক্ত রাখতে পারে কী কী?
    কুমার: একটা উপায় হল ব্যালট। আর একটা উপায় হল প্রাইভেট ভোটিং, যাতে প্রয়োজনে বাড়িতে বসেই গোপনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারা যায়। বিদেশে কিছু কিছু জায়গায় এ রকম ব্যবস্থা আছে।

    ৭. ঘন ঘন দলবদলের বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নেওয়া দরকার?
    কুমার: এক হাতে তালি বাজে না। আমারা এমন মানুষও চিনি, যিনি কাজ করতে চান কিন্তু করতে পারছেন না। কখনও কখনও উপরওয়ালাদের থেকে সাহায্য পাচ্ছেন না, এ রকম আর কী। আবার এর উল্টোটাও ঘটছে। নিজের সুবিধার জন্য দল বদলাচ্ছে এ রকমও আছে। তাই একটি পক্ষকে দোষ দেওয়া যাবে না।

    ৮. রাজনীতিতে অপশব্দের প্রয়োগ কি জরুরি?
    কুমার: অবশ্যই বন্ধ হওয়া জরুরি। কারণ রাজনীতিতে আমার মনে হয় না অপশব্দের কোনও স্থান থাকা উচিত বলে। ভাষাও সংযত হওয়া দরকার।

    ৯. দেশজ সংস্কৃতি, উন্নয়ন না কি সমান অধিকার— ভোট প্রচারে কোনটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ?
    কুমার: আমার মনে হয় একটা আর একটার সঙ্গে জুড়ে আছে। একটা ভাল হলেই অন্যটা ভাল হয়। যদি উন্নয়ন হয়, মানুষ নিজের অধিকার পান, তবেই তা দেশের সংস্কৃতির পক্ষে ভাল।

    ১০. ভাতা-র রাজনীতি সমাজের উন্নতি করে কি?
    কুমার: কিছু কিছু ক্ষেত্রে লাভ হয়। যাঁরা নিম্নমধ্যবিত্ত মানুষ, গরিব মানুষ তাঁরা অনেকে লাভবান হন ভাতা পেলে। তাঁরা যদি কোনও সরকারি প্রকল্পে কিছু পেয়ে থাকেন, তাতে আমার অন্তত কোনও আপত্তি নেই। গরিব মানুষ এটুকুই বা কোথায় পাবেন!

    ১১. প্রায় বিরোধীশূন্য রাজনীতি কি স্বাস্থ্যকর?
    কুমার: বিরোধীশূন্য রাজনীতি মোটেই স্বাস্থ্যকর নয়। কারণ, যিনি ক্ষমতায় থাকেন, তাঁর ভুল ধরিয়ে দেওয়ার লোক তো বিরোধীরাই। কিন্তু যে রূপ এখন বিরোধীরা নিচ্ছেন, অনেক ক্ষেত্রে সেটাও সঠিক নয়। বিরোধীদেরও দায়িত্ব আছে। শিষ্টাচার থাকা উচিত।

    ১২. তারকারা কি ভোট টানার শর্টকাট?
    কুমার: কিছু কিছু ক্ষেত্রে তো বটেই। কারণ যাঁরা রাজনীতির কিছুই বোঝেন না তাঁরা কিছু একটা দেখে তো ভোট দেবেন। এমন অনেকে আছেন যাঁরা দিন আনি দিন খাই করতে গিয়ে এত ব্যস্ত থাকেন যে, অত খোঁজই রাখেন না কোন পার্টি কী করল। তাঁরা সিনেমার মানুষকে প্রচারে দেখে একটু আনন্দ পান।

    ১৩. পছন্দের রাজনীতিবিদ কে?
    কুমার: মমতাদিকে আমার পছন্দ রাজনীতিক হিসাবে। তিনি যে চেষ্টা করেন ভাল কিছু করার জন্য, সেটা বেশ বুঝতে পারা যায়। অটলবিহারী বাজপেয়ীকেও আমার ভাল লাগত। বুদ্ধদেববাবুকে আমি খুব পছন্দ করতাম। এঁদেরও যে কমতি ছিল না, তা নয়। ভুলভ্রান্তি এঁদেরও হয়েছে। তবুও চেষ্টা করেছেন প্রত্যেকেই নিজের মতো করে।
  • Link to this news (আনন্দবাজার)