ছোটপর্দা অনেক বদলেছে, নিয়মিত কাজের মধ্যে থাকায় অভিনেতারা এখন আরও পাকাপোক্ত: পরমব্রত
আনন্দবাজার | ১৪ এপ্রিল ২০২৬
শুধু টলিউড নয়, বলিউডেও তিনি অতিপরিচিত। পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়। ১৮ বছর পরে আবার ছোটপর্দায়। কেন? প্রশ্ন ছিল আনন্দবাজার ডট কম-এর। অভিনেতা বলেছেন, “যে চ্যানেলে ফিরেছি, তাদের সঙ্গে আমার বহু বছরের সম্পর্ক। তাই ডাক ফেরাতে পারিনি। কাজ করে বেশ আনন্দও পেয়েছি।”
পরমব্রত আরও জানিয়েছেন, ঈশ্বরের আশীর্বাদে তিনি সব মাধ্যমে সুনামের সঙ্গে যথেষ্ট কাজ করছেন। ‘‘জ়ি বাংলার ‘কমলা নিবাস’ ধারাবাহিকে বড়পর্দার একজন খ্যাতনামী অভিনেতাকে খুঁজছিলেন চ্যানেল কর্তৃপক্ষ। ওরা আমার সঙ্গে তাই যোগাযোগ করেন। দীর্ঘ দিনের পেশাগত সুসম্পর্কের কারণে আমি সেই ডাক ফেরাতে পারিনি।’’ এ ছাড়াও, দীর্ঘ দিন পরে ছোট পর্দায় কাজ করার ইচ্ছা জেগেছিল তাঁর মনে। সব মিলিয়েই তাই টেলিভিশনে অভিনেতার প্রত্যাবর্তন।
তবে পরমব্রত বিনোদনদুনিয়ার একাধিক মাধ্যমে কাজ করে দেখেছেন, কাজের অভাবে প্রথম সারির তারকারাও এখন ‘মাইক্রো ড্রামা’য় অভিনয় করছেন! “কিছু দিন আগে পর্যন্ত তাঁরা ওই মাধ্যমের নাম শুনলে নাক সিঁটকাতেন। এখন আর অগ্রাহ্য করতে পারছেন না। কারণ, কাজের অভাব।” এই জায়গা থেকেই খ্যাতনামীরা এখন পৌঁছে যাচ্ছেন সব মাধ্যমে। হতে পারে সেটি ওয়েব প্ল্যাটফর্ম। হতে পারে সেটি টেলিভিশন।
১৮ বছর ছোটপর্দা থেকে দূরে। অথচ, অভিনেতা পরমব্রতের জন্ম কিন্তু ছোটপর্দাতেই। তখন ১৯৯৯-এর শেষাশেষি। কলকাতায় অল্প শীত পড়েছে। এমন এক দিনে পরমব্রত পৌঁছে গিয়েছিলেন ইন্দ্রপুরী স্টুডিয়োয়। প্রথম টিভি ক্যামেরার মুখোমুখি। প্রথম শো ‘হাফ চকোলেট’। দীর্ঘ সময়ের ব্যবধান পেরিয়ে ২০২৬-এর ফেব্রুয়ারি। অভিনেতা-পরিচালক-প্রযোজক আবার একই স্টুডিয়োয়। তখনও কলকাতা থেকে শীত বিদায় নেয়নি।
২৫ ফেব্রুয়ারি পরমব্রতের জীবনে যেন ‘ঘর ওয়াপসি’! জ়ি বাংলার নতুন ধারাবাহিক ‘কমলা নিবাস’-এ দেখা যাবে তাঁকে। “যেন একটি বৃত্ত সম্পূর্ণ হল”, অনুভূতি ভাগ করে বললেন অভিনেতা। দর্শকও তাঁর প্রত্যাবর্তনে খুশি। সে কথা সমাজমাধ্যমে বা ব্যক্তিগত বার্তায় অনেকেই জানিয়েছেন। গত দেড় বছর কাজ থেকে বিরতি নিয়েছিলেন। নেপথ্যে নানা কারণ। তাই কি সব মাধ্যমে আরও বেশি করে ছড়িয়ে পড়তে চাইছেন? “আমি তো সব মাধ্যমেই ছিলাম। বেশি করেই ছিলাম”, দাবি তাঁর। সম্পর্কের খাতিরে পুরনো জীবনে ফেরার ডাক অগ্রাহ্য করতে পারেননি, এই মাত্র।
দুই যুগ কাটিয়ে টেলিদুনিয়ায় পা রেখেই পরমব্রত দেখলেন, টেলিপাড়ার পৃথিবী বদলে গিয়েছে। “সব কিছু অনেক বেশি আধুনিক। ঝাঁ চকচকে। প্রফেশনালিজ়মে মোড়া।” এতে কি মঙ্গল হয়েছে ছোটপর্দার? প্রশ্ন ছিল তাঁর কাছে। “অবশ্যই হয়েছে। কাজ নিয়ে অনেক বেশি সজাগ সবাই। ভুলত্রুটির পরিমাণ তাতে অনেকটাই কমেছে”, বক্তব্য অভিনেতার। সেই সঙ্গে এ-ও স্বীকার করেছেন, সামান্য হলেও ক্ষতি হয়েছে। যেমন? “যেমন, একটি ফর্মুলা হিট হলে সেটাই পরের বার বা তারও পরের বার চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। যেটা আগে হয়তো তুলনায় কম হত।” পর ক্ষণেই পরমব্রতের দাবি, “এই ট্রেন্ড এখন সর্বত্র। কি বাংলা কি হিন্দি।”
অভিনেতা ফের ছোটপর্দার প্রশংসায় পঞ্চমুখ। বিনোদনদুনিয়া জানে, একটা সময় মঞ্চ ছিল অভিনেতা তৈরির কারখানা। একটা সময় কেন, মঞ্চ এখনও সেই দায়িত্ব পালন করে চলেছে। পাশাপাশি উঠে এসেছে আরও একটি মাধ্যম। সেটি ছোটপর্দা বা টেলিভিশন। “এখানে রোজ শুটিং করতে করতে অভিনেতারা অভিনয়ে পোক্ত হয়ে যাচ্ছেন”, ছোটপর্দায় ফিরে উপলব্ধি পরমব্রতের। সম্প্রতি, তিনি ‘রক্তফলক’ সিরিজ়ে ছোটপর্দার অভিনেতা মোহনা মাইতিকে পরিচালনা করেছেন। ‘কমলা নিবাস’-এ অভিনয় করছেন দেবাদৃতা বসুর বিপরীতে। তাঁর দু’বারের অভিজ্ঞতা বলছে, “অভিনয়ের বেসিক ট্রেনিং তৈরি করে দেয় টেলিভিশন। তাই এখানে যাঁরা নিয়মিত কাজ করেন, তাঁরা খুব কম বয়সেই পাকাপোক্ত অভিনেতা। যেমন, মোহনা কিংবা দেবাদৃতা। এঁদের সঙ্গে কাজ করতে তাই অসুবিধা হয় না।”
আর ধারাবাহিকে দেবশঙ্কর হালদার, সোহিনী সেনগুপ্তের উপস্থিতি। এঁদের ঘিরেই এগোবে ধারাবাহিকের গল্প। পরমব্রতের কথায়, “দেবুদা, সোহিনীদির নাম অবশ্যই আগ্রহ বাড়িয়েছে।” এই ধারাবাহিকের পরে কি আরও একটি ধারাবাহিক? সেটা হবে না, জানালেন তিনি। বললেন, “ঘন ঘন কাজ করা হবে না ছোটপর্দায়। আমার অন্যান্য অনেক কাজ রয়েছে।”
এ যেন সুযোগ পেয়ে পুরনো জীবন আরও একবার ফিরে দেখা, ছুঁয়ে যাওয়ার চেষ্টা পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়ের।