পশ্চিমবঙ্গে কয়লাচুরি মামলার তদন্তে পদক্ষেপ ইডির, ১৫৯ কোটির সম্পত্তি আটক, আবার উঠে এল সেই লালার নাম
আনন্দবাজার | ১৬ এপ্রিল ২০২৬
পশ্চিমবঙ্গের ইস্টার্ন কোলফিল্ডস লিমিটেড (ইসিএল)-এর এলাকায় অবৈধ কয়লা খনন এবং চুরির একটি মামলায় ১৫৯ কোটি ৫১ লক্ষ টাকার সম্পত্তি সাময়িক ভাবে বাজেয়াপ্ত (অ্যাটাচ) করল কেন্দ্রীয় সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। বেআইনি আর্থিক লেনদেন প্রতিরোধ আইন (২০০২) অনুযায়ী এই পদক্ষেপ করা হয়েছে বলে ইডি জানিয়েছে।
অবৈধ খনন এবং কয়লাচুরি সংক্রান্ত এই মামলাতেই উঠে এসেছে অনুপ মাজি ওরফে লালার নাম। ইডির বিবৃতিতে দাবি, তদন্তে লালার নেতৃত্বে একটি চক্রের সন্ধান পাওয়া গেছে, যা এই অবৈধ কার্যকলাপ পরিচালনা করছিল। বলা হয়েছে, “পশ্চিমবঙ্গের কিছু সুবিধাভোগী সংস্থা নাকি নগদ টাকার বিনিময়ে অবৈধ ভাবে খনন করা কয়লা কিনত, যার মাধ্যমে এই আয়কে বৈধ আয় হিসেবে দেখিয়ে অর্থ তছরুপ করা হত।’’ ১৫৯ কোটি ৫১ লক্ষ টাকার সম্পত্তির মধ্যে রয়েছে কর্পোরেট বন্ড এবং বিকল্প বিনিয়োগ তহবিল, যা ‘শ্যাম সেল অ্যান্ড পাওয়ার লিমিটেড’ এবং ‘শ্যাম ফেরো অ্যালয়স লিমিটেড’-এর সঙ্গে যুক্ত।
ইডির বিবৃতি বলছে, ‘‘এই সংস্থাগুলি শ্যাম গ্রুপের অধীনে, যা সঞ্জয় অগ্রবাল এবং ব্রিজ ভূষণ অগ্রবালের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।” রাজ্যে কয়লা পাচার সংক্রান্ত মামলায় মোট বাজেয়াপ্ত করা সম্পদের পরিমাণ ৪৮২ কোটি ২২ লক্ষ টাকা বলে জানিয়েছে ইডি। প্রসঙ্গত, ২০২০ সালে কয়লা পাচার মামলার তদন্ত শুরু করে সিবিআই প্রথমে লালার সন্ধান পেয়েছিল। রাজ্যে রেলের বিভিন্ন সাইডিং এলাকা থেকে কয়লা চুরির ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই প্রথমে আয়কর দফতর, তার পরে সিবিআই কয়লাকাণ্ডের তদন্তে নামে। আদতে পুরুলিয়ার রঘুনাথপুরের বাসিন্দা লালার বিভিন্ন বাড়ি ও অফিসে তল্লাশি, সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত শুরু হয়। লালা, তাঁর সঙ্গী বলে পরিচিত গুরুপদ মাজি-সহ চার জন গ্রেফতার হন। ২০২৪-এ জামিন পেয়েছিলেন লালা।