দলীয় কার্যালয়ে পতাকা লাগানো নিয়ে দু’দলের গোলমালের সময় নির্বাচনী আধিকারিককে মারধর এবং গালার ‘সিল’ ছাড়াই পোস্টাল ব্যালটে ভোট করানো নিয়ে কমিশনের আধিকারিকদের সঙ্গে দু’দলের গোলমাল। বুধবার উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুরের দুই পৃথক ঘটনায় উত্তেজনা ছড়ায়। দু’টি ঘটনাই বিশদে খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রশাসনের আধিকারিকেরা।
উত্তর দিনাজপুরের কালিয়াগঞ্জের তালতলায় বুধবার রাতে কংগ্রেসের দলীয় কার্যালয়ে বিজেপির পতাকা লাগানোর অভিযোগ ওঠে। বৃহস্পতিবার সকালে দলীয় কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ দেখায় কংগ্রেস। সে সময় বিজেপির শহর মণ্ডল সভাপতি অপূর্ব রায় কংগ্রেসের কার্যালয় থেকে বিজেপির পতাকা খুলে নিতে গেলে, তাঁর সঙ্গে কংগ্রেসের নেতা-কর্মীদের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। ঘটনাস্থলে পৌঁছলে পক্ষপাতের অভিযোগে নির্বাচন কমিশনের এফএসটি দলের ম্যাজিস্ট্রেট মুকুল মজুমদারকে গালিগালাজ ও মারধরের অভিযোগ ওঠে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে। মুকুল বলেন, “আমাকে বেধড়ক মারধর করা হয়। যাঁদের সমস্যার সমাধান করতে গিয়েছিলাম, তাঁরাই মারধর করেছেন।”
রায়গঞ্জ পুলিশ-জেলার সুপার কুলদীপ সুরেশ সোনওয়ানে বলেন, “কংগ্রেস কর্মীদের বিরুদ্ধে এফআইআর হয়েছে। অভিযুক্তদের ধরার চেষ্টা চলছে।” ব্লক কংগ্রেস সভাপতি সুজিত দত্তের দাবি, “বিজেপির কর্মী ভেবে ওই নির্বাচনী আধিকারিককে ধাক্কা দেওয়া হয়। মারধর করা হয়নি।”
দক্ষিণ দিনাজপুরের দুই মহকুমায় এ দিন ছিল পোস্টাল ব্যালটে ভোট। বালুরঘাট আদর্শ হাই স্কুলে কুশমণ্ডি, গঙ্গারামপুর, তপন, কুমারগঞ্জ এবং বালুরঘাটের পোস্টাল ব্যালটের ভোট শুরু হয়েছিল। এক ভোটার একটি বাক্সে ব্যালট ফেলতে গিয়ে অন্য বাক্সে ফেলায়, বাক্স খুলে তা বার করতে যান আধিকারিকেরা। তখনই নজরে আসে, ব্যালট বাক্সের তালায় গালার ‘সিল’ না করেই কুশমণ্ডি এবং গঙ্গারামপুর আসনের ভোট শুরু হয়েছে। তখন ঘরে সব দলের এজেন্ট, পর্যবেক্ষক ছিলেন। বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ জানায় তৃণমূল। বালুরঘাটের পুরপ্রধান তৃণমূলের সুরজিৎ সাহা বলেন, “ভোট চলাকালীন বাক্স খোলা যায় না। এটা পর্যবেক্ষক জানতেন না? পুলিশকে বাইরে বার করে আধিকারিকেরা এ সব করাচ্ছেন।” বিজেপি প্রার্থী বিদ্যুৎ রায়ও যান ঘটনাস্থলে। তিনি বলেন, “কমিশনে অভিযোগ জানাচ্ছি।” অতিরিক্ত জেলাশাসক (নির্বাচন) এজাজ আহমেদ বলেন, “বিষয়টি দেখা হচ্ছে।”