• ৯০ দিনেও চার্জশিট দিতে ব্যর্থ এনআইএ! বেলডাঙাকাণ্ডের ১৫ অভিযুক্ত শর্তসাপেক্ষে জামিন পেয়ে গেলেন বিশেষ আদালতে
    আনন্দবাজার | ১৯ এপ্রিল ২০২৬
  • বেলডাঙাকাণ্ডের পরে ৯০ দিন কেটে গেলেও ধৃতদের বিরুদ্ধেচার্জশিট বা তদন্তের কোনও প্রামাণ্য রিপোর্ট পেশ করতে পারেনি জাতীয় তদন্তকারীসংস্থা এনআইএ। শনিবার এনআইএর বিশেষ আদালত ওই ঘটনায় ধৃত ৩৫ জনের মধ্যে ১৫ জনেরজামিন মঞ্জুর করল। ১০ হাজার টাকার বন্ডের বিনিময়ে তাঁদের জামিন দেওয়া হয়েছে।পাশাপাশি, অভিযুক্তদের গতিবিধির উপর কড়া নজর রাখার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। এনআইএর আইনজীবী শ্যামল ঘোষ জানিয়েছেন, এই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে হাই কোর্টে যাচ্ছেন তাঁরা।

    গত জানুয়ারি মাসে ঝাড়খণ্ডে এক পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যুকেকেন্দ্র করে রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছিল মুর্শিদাবাদের বেলডাঙা। দফায় দফায় ভাঙচুর, রেলঅবরোধ, জাতীয় সড়কে বিক্ষোভ থেকে শুরু করে সংবাদমাধ্যমকেআক্রমণের অভিযোগ উঠেছিল। রাজ্য পুলিশ তদন্ত শুরু করে সিসিটিভি ফুটেজ দেখে ধরপাকড়করলেও, পরবর্তী কালে হাইকোর্টের নির্দেশে মামলার ভার নেয়এনআইএ। বিভিন্ন সময়ে মোট ৩৫ জনকে গ্রেফতার করে নিজেদের হেফাজতে নিয়েছিল এনআইএ। আদালত সূত্রে খবর, নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে ধৃতদের বিরুদ্ধে আদালতে চূড়ান্তচার্জশিট জমা দিতে পারেনি তারা। এমনকি, তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে সদুত্তর দিতেও ব্যর্থহয় এনআইএ। তার পরেই শনিবার জামিন পান ১৫ জন।

    জামিন মঞ্জুর করার সময় আদালত বেশ কিছু শর্ত দিয়েছে। বিচারকস্পষ্ট জানিয়েছেন,জামিন পাওয়া ১৫ জন আপাতত কলকাতা পুরসভাএলাকার বাইরে যেতে পারবেন না। মামলার প্রতিটি শুনানিতে সশরীরে আদালতে উপস্থিতথাকতে হবে তাঁদের।

    এর আগে অভিযুক্তদের বেলডাঙা থেকে কলকাতায় আনা নিয়ে সমস্যাদেখা দিয়েছিল, যা শুনানিতে বিঘ্ন ঘটায়। সেই জটিলতা এড়াতেই তাদেরকলকাতায় থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আপাতত আদালতের নির্দেশে কলকাতায় থাকতে হবেঅভিযুক্তদের। তবে বাকি ২০ জন এখনও রয়েছেন জেল হেফাজতেই।

    ঝাড়খণ্ডে মুর্শিদাবাদের পরিযায়ী শ্রমিকআলাউদ্দিন শেখের মৃত্যুর খবরে অশান্ত হয়ে উঠেছিল বেলডাঙা। গত ১৬ জানুয়ারিআলাউদ্দিনের দেহ সেখানে পৌঁছোতেই সাধারণ মানুষ রাস্তায় নামেন। ভিন্‌রাজ্যেপশ্চিমবঙ্গের শ্রমিকদের মৃত্যুর প্রতিবাদে বিক্ষোভ শুরু হয়। সেই বিক্ষোভ থেকেঅশান্তি ছড়ায়। পুলিশের গাড়িতে ভাঙচুরও করা হয়। সেই অশান্তির ঘটনায় প্রথমে তদন্তশুরু করে পুলিশ। তবে সেই ঘটনা নিয়ে বেশ কয়েকটি মামলা হয় কলকাতা হাই কোর্টে।শুনানিতে হাই কোর্ট জানিয়েছিল, কেন্দ্রীয় সরকার যদি চায়,এনআইএ-কে দিয়ে বেলডাঙার ঘটনার তদন্ত করাতে পারে।

    আদালতের কথা মতো এনআইএ-র হাতে তদন্তভার হাতেযায়। আদালতে এনআইএ অভিযোগ করেছিল,তদন্ত শুরু করলেও কেস ডায়েরি তারা হাতে পায়নি। এই নিয়ে আদালতে বার বার প্রশ্নেরমুখে পড়ে রাজ্য সরকার। শুধু তা-ই নয়, অভিযুক্তদেরআদালতে হাজিরা নিয়েও টানাপড়েন চলছিল। জেল কর্তৃপক্ষের দাবি ছিল, পর্যাপ্ত পুলিশি নিরাপত্তা না-থাকায় অভিযুক্তদের আদালতে হাজির করানোযাচ্ছে না। তখন এনআইএর তরফে জানানো হয়, প্রয়োজনে তাঁরানিরাপত্তার ব্যবস্থা করবে। টালবাহানার পর ফেব্রুয়ারির অভিযুক্তদের আদালতেহাজির করানো হয়। পরে এনআইএ আদালতে জানায়, তারা কেস ডায়েরি হাতে পেয়েছে।
  • Link to this news (আনন্দবাজার)