• অধীনস্থ কলেজগুলির অনুমোদন মূল্য বৃদ্ধি করতে চায় কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়! কমিটি গঠন
    আনন্দবাজার | ১৯ এপ্রিল ২০২৬
  • কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় অধীনস্থ বেসরকারি কলেজগুলিকে অনুমোদন দেওয়ার জন্য ‘অ্যাফিলিয়েশন ফি’ নেওয়া হয়। এই মূল্য বৃদ্ধি করা যায় কিনা, তা খতিয়ে দেখতে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করলেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। সূত্রের খবর, শুক্রবার সিন্ডিকেট বৈঠকে এমনই সিদ্ধান্ত হয়েছে।

    বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কর্তা জানান, এই ফি বৃদ্ধি করা হতে পারে বেসরকারি কলেজের ক্ষেত্রে। কোনও কোনও সেলফ ফিনান্সিং কোর্সের ক্ষেত্রেও এই ভাবনা রয়েছে। বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী বেসরকারি কলেজের থেকে অনুমোদনের জন্য ১০ হাজার টাকা নেওয়া হত। তিন বছর পর ফের তদন্ত কমিটি বসিয়ে সম্পূর্ণ অবস্থা যাচাই করা হয়। তার পর তাঁদের সুপারিশের উপর ভিত্তি করে ফের অমুমোদন পুনর্নবীকরণ করা হয়। পরিদর্শনের জন্য ১ হাজার টাকা আর অনুমোদনের জন্য ১০ হাজার টাকা নেওয়া হত। অর্থাৎ বছরে প্রায় তিন হাজার টাকার সামান্য বেশি।

    খরচের বহর বেড়েছে, বিভিন্ন খাতে সরকারি সাহায্য কমেছে। এমনই দাবি করেছেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক উচ্চ পদস্থ আধিকারিক। সে কারণে বহু বছর পরে এই ফি বৃদ্ধির ভাবনা। তবে ঠিক কী পরিমাণ ফি বৃদ্ধি করা যায়, তা খতিয়ে দেখার জন্যই একটি কমিটি গঠন করা হবে। তবে এই কর্তা জানান, সরকার পোষিত কোনও কলেজের কোনও ফি বৃ্দ্ধি হচ্ছে না।

    এ রাজ্যে সব থেকে বেশি বেসরকারি কলেজ রয়েছে মৌলানা আবুল কালাম আজাদ প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে রয়েছে। সেখানে অবশ্য প্রতি বছর কলেজ পরিদর্শন করে অনুমোদন পুনর্নবীকরণ করা হয়। কোর্সের জন্যও পৃথক ফি লাগে বলে জানান একটি বেসরকারি কলেজের আধিকারিক। ম্যাকাউট সূত্রের খবর, অনুমোদনের জন্য প্রয়োজনীয় ফি তারা কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের থেকে অনেকটাই বেশি নিয়ে থাকে। যদিও ম্যাকাউটের এক কর্তা দাবি করেন, তাঁদের বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে যে সব কলেজ রয়েছে সেখানে মূলত পেশাগত কোর্স করানো হয়। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই একদম ভিন্ন। তাই ফি-এর পার্থক্য থাকাটা স্বাভাবিক।

    কিন্তু কী কারণে ফি বৃদ্ধির ভাবনা চিন্তা করতে হচ্ছে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়কে?

    কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কর্তা জানান, যে হারে খরচ বেড়েছে, সে হারে বিশ্ববিদ্যালয়ের আয় বৃদ্ধি হয়নি। নতুন ভাবে পঠনপাঠনের ধারা বদলাতে শুরু করেছে। পেশামুখী নানা কার্যক্রমের জন্য বাড়তি খরচও হচ্ছে। উপাচার্য আশুতোষ ঘোষ বলেন, ‘‘তিন সদস্যের একটি কমিটি করা হয়েছে। তাঁরা সব দিক খতিয়ে দেখে প্রস্তাব দেবে। তারপরে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’’
  • Link to this news (আনন্দবাজার)