বর্ষার আগেই জল জমা রুখতে তৎপর কলকাতা পুরসভা, উত্তর কলকাতার নতুন পাম্পিং স্টেশন জুনেই আংশিক চালুর লক্ষ্য
আনন্দবাজার | ১৯ এপ্রিল ২০২৬
টানা প্রাক্-মৌসুমি কালবৈশাখীর জেরে উত্তর কলকাতার একাধিক এলাকায় জল জমার ছবি নতুন করে প্রকাশ্যে আসতেই নড়েচড়ে বসেছে কলকাতা পুরসভা। বর্ষা আসার আগেই জল নামানোর পরিকাঠামো শক্তিশালী করতে উদ্যোগী পুরসভা। সেই লক্ষ্যে হৃষীকেশ পার্কে নির্মীয়মাণ নতুন ড্রেনেজ পাম্পিং স্টেশনটি জুনের শুরুতেই আংশিক ভাবে চালু করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
পুরসভার নিকাশি বিভাগ সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় ৬৮ কোটি টাকার এই প্রকল্পের প্রথম ধাপ মে মাসের মধ্যেই শেষ করার লক্ষ্য রাখা হয়েছে। যাতে বর্ষা পুরোপুরি শুরু হওয়ার আগেই অন্তত আংশিক পরিষেবা চালু করা যায়। এই পাম্পিং স্টেশন চালু হলে উত্তর কলকাতার একাধিক জলজটপ্রবণ এলাকায় জল নামার সমস্যার অনেকটাই সমাধান হতে পারে বলে মনে করছে প্রশাসন। বিশেষ করে ঠনঠনিয়া, মুক্তারামবাবু স্ট্রিট, আমহার্স্ট স্ট্রিট, কলেজ স্ট্রিট, কেশব সেন স্ট্রিট এবং ঝামাপুকুর লেনের মতো এলাকায় প্রতি বছর বর্ষার সময় জল জমে দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়। পুরসভার আধিকারিকদের মতে, বর্তমানে এই সব এলাকার ড্রেনেজ ব্যবস্থা ভারী বৃষ্টির চাপ সামলানোর মতো যথেষ্ট শক্তিশালী নয়। আচমকা কালবৈশাখী ঝড় বা অল্প সময়ে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত হলেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
এই পরিস্থিতি সামাল দিতেই নতুন পাম্পিং স্টেশনটি তৈরি করা হচ্ছে, যা দ্রুত জল নিষ্কাশনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। আধিকারিকদের দাবি, এই প্রকল্প চালু হলে জল নামার গতি বাড়বে এবং দীর্ঘক্ষণ জল দাঁড়িয়ে থাকার সমস্যা অনেকটাই কমবে। কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম আগেই এই প্রকল্পের গুরুত্বের কথা উল্লেখ করেছিলেন। কলকাতা পুরসভার নিকাশি বিভাগের এক আধিকারিকের কথায়, ‘‘উত্তর কলকাতায় এই দীর্ঘ জমা জলের সমস্যার সমাধানে জোর দেওয়া হয়েছিল। এতদিনে আংশিক ভাবে সেই সমস্যার সমাধান করা হচ্ছে। অন্য দিকে, স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ এই উদ্যোগে আশাবাদী হলেও পুরোপুরি আশ্বস্ত নন। আমহার্স্ট স্ট্রিটের এক বাসিন্দার কথায়, মাঝারি বৃষ্টিতেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা জল দাঁড়িয়ে থাকে, ফলে যাতায়াতে ভোগান্তি চরমে ওঠে। নতুন পাম্পিং স্টেশন চালু হলে কিছুটা স্বস্তি মিলবে বলেই আশা তাঁদের। অন্য এক বাসিন্দা জানান, ভারী বৃষ্টি হলেই ঘরে আটকে পড়তে হয়, তাই এই প্রকল্প তাঁদের দৈনন্দিন জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলেই প্রত্যাশা।
পুরসভা সূত্রে খবর, সাম্প্রতিক কালবৈশাখী শহরের ড্রেনেজ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা স্পষ্ট করে দিয়েছে। তাই পূর্ণাঙ্গ বর্ষা শুরুর আগেই অন্তত আংশিক ভাবে এই প্রকল্প চালু করা এখন প্রশাসনের কাছে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করে কতটা দ্রুত নাগরিকদের স্বস্তি দিতে পারে পুরসভা, তা সময়ই বলবে।