• কেন্দ্রের ডিএ বাড়তেই নবান্নের তৎপরতা শুরু, বাজেটে ঘোষিত আরও চার শতাংশের ঘোষণা কার্যকর করতে পদক্ষেপ
    আনন্দবাজার | ১৯ এপ্রিল ২০২৬
  • কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) ২ শতাংশ বৃদ্ধি পাওয়ার পর পশ্চিমবঙ্গে ডিএ নিয়ে নতুন করে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। এই আবহেই শনিবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সোনারপুরের এক জনসভা থেকে জানিয়ে দেন, বাজেটে ঘোষিত আরও ৪ শতাংশ ডিএ খুব শীঘ্রই কার্যকর করা হবে। তাঁর এই মন্তব্যের পরেই প্রশাসনিক স্তরে তৎপরতা বেড়েছে বলে জানা যাচ্ছে।

    নবান্ন সূত্রে খবর, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই রাজ্যের অর্থ দফতর এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি জারি করতে পারে। ইতিমধ্যেই অন্তর্বর্তী বাজেটে রাজ্য সরকারি কর্মীদের জন্য চার শতাংশ ডিএ বৃদ্ধির ঘোষণা করা হয়েছিল। সেই অনুযায়ী এই বৃদ্ধি কার্যকর হলে রাজ্যের কর্মীরা মোট ২২ শতাংশ হারে ডিএ পাবেন। অন্য দিকে, কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের ক্ষেত্রে ডিএ ৫৮ শতাংশ থেকে বেড়ে ৬০ শতাংশে পৌঁছেছে। এই নতুন হার ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাস থেকে কার্যকর হওয়ার কথা। ফলে কেন্দ্র ও রাজ্যের ডিএ-র ফারাক আরও বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৮ শতাংশে, যা নিয়ে কর্মচারী মহলে অসন্তোষ দীর্ঘদিনের।

    অন্য দিকে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে পশ্চিমবঙ্গ সরকার ২০১৬ থেকে ২০১৮ সালের বকেয়া ডিএ পরিশোধের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। রাজ্য সরকারের অধীন বিভিন্ন দফতরের পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির কর্মীদেরও দ্রুত এই বকেয়া মেটানোর চেষ্টা চলছে। ডিএ ইস্যুতে কেন্দ্রীয় স্তরেও নতুন দাবি উঠেছে। কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীরা ইতিমধ্যেই অষ্টম পে কমিশন গঠনের দাবি জানিয়ে আন্দোলনে নেমেছেন। ন্যাশনাল কাউন্সিল-জয়েন্ট কনসাল্টেটিভ মেশিনারির পক্ষ থেকে কেন্দ্রকে একটি স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে, যেখানে বেতন কাঠামোয় বড় পরিবর্তনের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। সেই প্রস্তাব কার্যকর হলে কর্মীদের ন্যূনতম বেতন ১৮ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ৬৯ হাজার টাকায় পৌঁছোতে পারে বলে দাবি।

    এই প্রেক্ষাপটে রাজ্যের কর্মচারীদের মধ্যে প্রশ্ন উঠছে, ঘোষিত ডিএ কবে কার্যকর হবে। ইতিমধ্যেই বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির নেতা স্বপন মণ্ডলের তরফে অর্থ দফতরে ইমেল পাঠিয়ে এই বিষয়ে দ্রুত স্পষ্ট বক্তব্য জানতে চাওয়া হয়েছে। এখন নজর নবান্নের বিজ্ঞপ্তির দিকে— সেখানেই মিলবে ডিএ বৃদ্ধি সংক্রান্ত চূড়ান্ত উত্তর।
  • Link to this news (আনন্দবাজার)