• ‘নিরুত্তর’ প্রযোজক সুমন! পারিশ্রমিক না-পাওয়ায় কাজ বন্ধ ‘সাজঘর’-এর, ছবি আদৌ মুক্তি পাবে?
    আনন্দবাজার | ১৯ এপ্রিল ২০২৬
  • পর্দার নেপথ্যে কী ঘটে? ‘সাজঘর’ ছবিতে দেখাতে চেয়েছিলেন পরিচালক অঞ্জন কাঞ্জিলাল। ছবি ‘ক্যানবন্দি’ তিন বছর ধরে। কারণ, প্রযোজক সুমন সেনগুপ্ত কারও বকেয়া পারিশ্রমিক মেটাননি!

    পরিচালক অঞ্জন বোধহয় ভাবতেও পারেননি, ‘গ্রিন রুম’-এর গল্প দেখাতে গিয়ে নিজের ছবির অন্দরের কিস্‌সা ফাঁস হয়ে যাবে! তিনি এর আগে ইমপা-র সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। খবর, সেই সময়ে প্রযোজক আশ্বাস দিয়েছিলেন, দু’মাসের মধ্যে প্রত্যেকের পারিশ্রমিক মিটিয়ে দেবেন। কাজও শেষ হয়ে যাবে। কিন্তু কোথায় কী?

    সমাজমাধ্যমের পাশাপাশি আনন্দবাজার ডট কম-এর কাছেও বাধ্য হয়ে এ বার মুখ খুলেছেন অঞ্জন। তাঁর কথায়, ‘‘২০১৭ সালে গল্পটা প্রথম শুনিয়েছিলাম। যাঁকেই শুনিয়েছি, তিনিই এককথায় ছবি করতে রাজি। চূড়ান্ত কথা হয় সুমনবাবুর সঙ্গে। শুট শেষ। এডিট শেষ। অথচ পারিশ্রমিক পাচ্ছেন না অভিনেতা, কলাকুশলীরা। ডাবিংয়ের টাকা পেলেও তাঁরা ওই কাজ করে দেবেন। কিছু না পেলে তাঁরাই বা কেন করবেন?’’ অঞ্জন একাধিক বার যোগাযোগের চেষ্টা করেছেন প্রযোজকের সঙ্গে। অভিযোগ, হয় তিনি মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, আর না হয় ফোন ধরেননি। এ ভাবেই গত তিন বছর ধরে পড়ে আছে ‘সাজঘর’। ছবির কাহিনিকার সুমনা কাঞ্জিলালের মতে, নির্দিষ্ট সময়ে ছবি মুক্তি না পেলে তার কি আর মূল্য থাকে?

    অঞ্জনের ছবির কেন্দ্রীয় চরিত্র প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। এ ছাড়াও আছেন ভদ্রা বসু, দেবেশ রায়চৌধুরী, ঐন্দ্রিলা সেন, অঙ্কুশ হাজরা, কনীনিকা বন্দ্যোপাধ্যায়, অনুভব কাঞ্জিলাল ও আরও অনেকে। পরিচালক জানিয়েছেন, প্রসেনজিৎ স্বয়ং একাধিক বার চেষ্টা করেছিলেন। কোনও ফল হয়নি। এ দিকে, প্রযোজক ছবির স্বত্ব না ছাড়ায় অন্য প্রযোজকও বিষয়টিতে যুক্ত হতে পারছেন না। অঞ্জন তাই সমাজমাধ্যমে আবার দরবার করেছেন ইমপা সভাপতি পিয়ার কাছে, অভিনেতাদের জন্য আর্টিস্ট ফোরামের কাছে, কলাকুশলীদের জন্য ফেডারেশনের কাছে। তাঁর যুক্তি, ‘‘ইন্ডাস্ট্রিতে অনেক সময়েই সঙ্গে সঙ্গে টাকা পাওয়া যায় না। ধৈর্য ধরে কাজ করতে হয়। আমিও সেটাই করেছি। ভদ্রতা করেছি। তার ফল পাচ্ছি। নিজেকে ভিখারি মনে হচ্ছে।’’ তাঁর আরও আফসোস, প্রয়াত অভিনেত্রী ভদ্রা বসু পারিশ্রমিক পেলেন না, নিজের কাজও দেখতে পেলেন না!

    তিনটি সংগঠনের সভাপতির সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়েছিল। কী বলছেন তাঁরা? পিয়া বলেছেন, ‘‘বছর দুই আগে প্রযোজক-পরিচালক, উভয় পক্ষকেই মুখোমুখি বসিয়ে আলোচনা করেছিলাম। তখন প্রযোজক পারিশ্রমিক মেটানোর আশ্বাস দিয়েছিলেন।’’ তিনিও জানান, প্রযোজক সুমনকে ফোনে পাওয়া যায় না। পরিচালকের উদ্দেশে তাঁর বার্তা, চাইলে সংগঠন বিষয়টি নিয়ে আবার আলোচনায় বসবে। একই কথা ফেডারেশন সভাপতিরও। স্বরূপ বলেছেন, ‘‘আমার সঙ্গে পরিচালক যোগাযোগ করলেই বিষয়টি দেখব।’’ আর্টিস্ট ফোরামের সম্পাদক শান্তিলাল মুখোপাধ্যায় যথেষ্ট সহানুভূতির সঙ্গে বিষয়টি শুনেছেন। বলেছেন, ‘‘পুরোটাই ইমপার-র মাধ্যমে হবে। কারণ, ছবির প্রযোজকদের বিষয়টি ওই সংগঠন দেখে। আমাদের জানানো হলে, প্রয়োজনে নিশ্চয়ই ইমপা-র সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনায় বসব।’’

    যাঁকে নিয়ে এত হুলস্থুল, সেই প্রযোজক সুমন কী বলছেন? তাঁর সঙ্গেও যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছিল। ফোন বেজে গিয়েছে তাঁর।
  • Link to this news (আনন্দবাজার)