• ভোট দেওয়ার আগে দু’ধাপে পরিচয় যাচাই ভোটারদের, ‘পাশ’ করলে তবেই মিলবে ভোটদানে অনুমতি, কড়া নির্দেশ কমিশনের
    আনন্দবাজার | ২০ এপ্রিল ২০২৬
  • নির্বাচনের দিন ভোটকক্ষে সঠিক ভোটার প্রবেশ করছেন কি না, তা দু’ধাপে যাচাই করতে হবে। দু’দফায় ‘পাশ’ করার পরেই ভোটকক্ষে প্রবেশের অনুমতি পাবেন কোনও ভোটার। রাজ্যের ভোট সুষ্ঠু ভাবে পরিচালনার জন্য এমনটাই নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

    প্রত্যেক বুথে ভোটারেরা ভোট দেওয়ার আগে তাঁদের পরিচয় যাচাই করার নিয়ম আগে থেকেই রয়েছে। এ বার সেই নিয়মে আরও কড়াকড়ি করল কমিশন। জানিয়ে দেওয়া হল, প্রত্যেক ভোটারের পরিচয় দু’ধাপে যাচাই করতে হবে। প্রথম ধাপে যাচাই করবেন সেখানে কর্তব্যরত কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান। তার পরের ধাপে যাচাই করবেন বুথস্তরের আধিকারিক (বিএলও)-রা।

    কমিশন জানিয়েছে, ভোট দিতে যাওয়া কোনও ব্যক্তির সঙ্গে কমিশনের নির্ধারিত পরিচয়পত্রগুলির মধ্যে যে কোনও একটির মূল (অরিজিনাল) কপি অবশ্যই থাকতে হবে। তা রয়েছে কি না, সেটি নিশ্চিত করবেন সেখানে মোতায়েন থাকা কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান। কমিশন নির্ধারিত পরিচয়পত্রগুলির মধ্যে কোনও একটির মূল কপি দেখাতে পারলে, তবেই প্রথম ধাপে ‘পাশ’ করবেন ওই ভোটার। দ্বিতীয় ধাপে তাঁর পরিচয় যাচাই করবেন সেই ভোটকেন্দ্রে তৈরি ‘ভোটার সহায়তা বুথ’-এ উপস্থিত বিএলও। সঠিক ভোটারই ভোট দিতে এসেছেন কি না, তা নিশ্চিত করবেন বিএলও।

    বিএলও-র কাছে যাচাই পর্বে পাশ করলেই তবেই ওই ভোটারকে বুথের ভিতরে ভোট দিতে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে। এই প্রক্রিয়া কঠোর ভাবে পালন করা হচ্ছে কি না, সে দিকেও নজরদারি চালাতে হবে সংশ্লিষ্ট সেক্টর অফিসারদের। কমিশন জানিয়েছে, ভোটগ্রহণের দিন ভোটকেন্দ্রগুলিতে যাতে কোনও ধরনের অনভিপ্রেত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি তৈরি না হয়, তা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপগুলি করতে হবে।

    আগামী বৃহস্পতিবার রাজ্যে প্রথম দফার ভোট রয়েছে। ২৯ এপ্রিল রয়েছে দ্বিতীয় দফার ভোট। প্রথম দফার ‘সাইলেন্স পিরিয়ড’ (যে সময় থেকে প্রচার বন্ধ হয়) শুরু হচ্ছে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে। দ্বিতীয় দফার ক্ষেত্রে তা শুরু হচ্ছে ২৭ এপ্রিল সন্ধ্যা ৬টা থেকে। ওই সময়ে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রাখতে কী করণীয়, তা নিয়ে ইতিমধ্যে রাজ্য পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর আধিকারিকদের সঙ্গে ভিডিয়ো কনফারেন্সে বৈঠক সেরেছে কমিশন। মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও)-র দফতর থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, ভোটের আগের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বেআইনি জমায়েত নিষিদ্ধ করতে ১৬৩ ধারা জারি করতে হবে। যে সব এলাকায় ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার হার বেশি, সেই এলাকাগুলিতে বেশি করে নজর দিতে বলেছে কমিশন।

    একই সঙ্গে এ-ও বলা হয়েছে, ভোটকেন্দ্রের ১০০ মিটারের মধ্যে কোনওরকম নির্বাচনী প্রচার চালানো যাবে না। ভোটকেন্দ্রের চারপাশে ওই ১০০ মিটারের পরিধিকে চক বা রঙ দিয়ে চিহ্নিত করতে হবে, যাতে তা সকলে দেখতে পান। বলে দেওয়া হয়েছে, ভোটার নন এমন কোনও ব্যক্তিকে ভোটকেন্দ্রের ভিতরে বা তার কাছাকাছি জমায়েত করতে দেওয়া যাবে না। ভোটকেন্দ্রের কাছে বা ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার সরু গলিগুলিতে যাতে কোনো ধরনের জমায়েত না হয়, তা-ও নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।
  • Link to this news (আনন্দবাজার)