পরিবহণ ক্ষেত্রে কেন্দ্রের বিভিন্ন বৈষম্যমূলক নীতি ও রাজ্যে বাণিজ্যিক গাড়ির চালকদের উপরে পুলিশি হয়রানির প্রতিবাদে ভোটে বাম প্রার্থীদের হয়ে প্রচারে নেমেছে এআইটিইউসি-র পরিবহণ শ্রমিক সংগঠন। তাদের অভিযোগ, রাজ্য সরকার পরিবহণ শ্রমিকদের সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের আওতায় আনতে কিছুই করেনি। উল্টে সরকারি পরিবহণ নিগমগুলিতে চুক্তিভিত্তিক চালক ও কর্মী নিয়োগ করে তাঁদের নিরাপত্তাহীনতা আরও বাড়িয়েছে। চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের বেতনে বৈষম্যের কারণেও ক্ষোভ রয়েছে কর্মীদের মধ্যে।
একই ভাবে বেসরকারি ট্যাক্সি, অ্যাপ-ক্যাব বা বেসরকারি বাসচালকদের জন্যও সামাজিক সুরক্ষার ব্যবস্থা সরকার করেনি বলে দাবি এআইটিইউসি-র সর্বভারতীয় পরিবহণ শ্রমিক সংগঠনের নেতা নওলকিশোর শ্রীবাস্তবের। অভিযোগ, ট্যাক্সি ও অ্যাপ-ক্যাব চালকদের আয়ের স্থিরতা নেই। বেসরকারি অ্যাপ-ক্যাব সংস্থাগুলির ব্যবসায়িক মানসিকতায় রাশ টানতে বলা হলেও সরকারি তৎপরতা নেই। সরকারি যাত্রিসাথী অ্যাপ গুরুত্ব হারিয়েছে। সেই সঙ্গে রাস্তায় পুলিশের যথেচ্ছ জরিমানা আদায় পরিবহণ ক্ষেত্রকে আরও রুগ্ন করে তুলেছে।
এই সব অভিযোগ নিয়েই শিয়ালদহ কোর্ট চত্বরের কাছে সভা করেছে ওই বাম সংগঠন। সেখানে এআইটিইউসি-র রাজ্য নেতৃত্ব লীনা চট্টোপাধ্যায়, পরিবহণ কর্মী সংগঠনের খোকন ঘোষ, ক্যাবচালক সংগঠনের অরূপ মণ্ডল ছিলেন। সেখানে এসআইআরের নামে যথেচ্ছ নাম কাটার প্রতিবাদও করা হয়েছে। ২৭ এপ্রিলের মধ্যে শ্যামবাজার, টালিগঞ্জ, মালোপাড়া-সহ একাধিক ট্যাক্সি স্ট্যান্ডে সভা করা হবে বলে জানানো হয়েছে। তবে শাসকদলের সমর্থনের ভিত অটোচালক সংগঠনগুলির মধ্যে ছড়িয়ে রয়েছে। যদিও এলপিজি গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি-সহ নানা বিষয়ে চালকদের মধ্যে বিক্ষিপ্ত ক্ষোভ সেখানেও রয়েছে।