ট্রাইবুনালে কাজই শুরু হয়নি, প্রবেশেও বাধা! নতুন মামলা সুপ্রিম কোর্টে, কী হচ্ছে জানতে চাইবেন প্রধান বিচারপতি কান্ত
আনন্দবাজার | ২০ এপ্রিল ২০২৬
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মতো কাজ হচ্ছে না ট্রাইবুনালে— এই অভিযোগ তুলে নতুন করে শীর্ষ আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হল। দাবি, ট্রাইবুনালে কোনও আইনজীবীকে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। আবেদনকারীরাও সেখানে যেতে পারছেন না। উল্টে ট্রাইবুনালের আবেদনগুলি কম্পিউটারে বিবেচনা করা হচ্ছে। মামলাকারীর বক্তব্য শুনে পশ্চিমবঙ্গের এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন শীর্ষ আদালতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত। এ বিষয়ে কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতির কাছে তিনি জবাব চাইবেন বলেও জানিয়েছেন।
ট্রাইবুনালের কাজের বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে সোমবার শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন আইনজীবী দেবদত্ত কামাত। তাঁর বক্তব্য, সুপ্রিম কোর্ট যে ভাবে বলেছিল, সে ভাবে অ্যাপিলেট ট্রাইবুনাল কাজ করছে না। আইনজীবী বা আবেদনকারীকে সেখানে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর ডিভিশন বেঞ্চের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি। প্রধান বিচারপতির মন্তব্য, ‘‘পশ্চিমবঙ্গের এসআইআর মামলা নিয়ে প্রায়ই দৃষ্টি আকর্ষণ করা হচ্ছে। আমরা নির্দেশ জারি করেছি। তা সত্ত্বেও কেন প্রায় প্রতি দিন আদালতে নতুন নতুন আবেদন করা হচ্ছে?’’
মামলাকারীর আইনজীবী প্রধান বিচারপতির উদ্দেশে বলেন, ‘‘বার বার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে হচ্ছে, কারণ, আপনাদের নির্দেশ মতো কাজ হচ্ছে না। ট্রাইবুনাল আবেদনগুলি কম্পিউটারে বিবেচনা করছে।’’ এর পরেই প্রধান বিচারপতি জানান, এ বিষয়ে কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের বক্তব্য জানতে চাইবেন তিনি।
পশ্চিমবঙ্গের এসআইআর-এ তথ্যগত অসঙ্গতির বিবেচনা এবং নিষ্পত্তির দায়িত্ব কলকাতা হাই কোর্টকে দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। শীর্ষ আদালতের নির্দেশে হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি এই কাজে বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের নিয়োগ করেছিলেন। বিবেচনাধীন তালিকায় থাকা ৬০ লক্ষাধিক নামের নিষ্পত্তি ইতিমধ্যে করে ফেলেছেন বিচারকেরা। তবে সেখান থেকে যাঁদের নাম বাদ গিয়েছে, তাঁরা ট্রাইবুনালে নতুন করে আবেদন করেছেন। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ, ভোটগ্রহণের দু’দিন আগে পর্যন্ত যে নামগুলিকে ট্রাইবুনাল ছাড়পত্র দেবে, তাঁরাও ভোট দিতে পারবেন। কিন্তু অভিযোগ, ট্রাইবুনালের কাজ এখনও ঠিক মতো শুরুই হয়নি। শীর্ষ আদালতের নির্দেশ মতো সেখানে কাজ হচ্ছে না। এই অভিযোগ সম্পর্কেই হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতির কাছে জানতে চাইবেন বিচারপতি কান্ত।