‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’ ও ‘যুবসাথী’র প্রত্যেক প্রাপক বিজেপি-ঘোষিত তিনহাজারি ভাতা পাবেন? দলের তরফ থেকে কী জানালেন স্মৃতি
আনন্দবাজার | ২১ এপ্রিল ২০২৬
ক্ষমতায় এলে দেড় হাজার টাকার ভাতাকে তিন হাজার করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বিজেপি। প্রতিশ্রুতির প্রভাব বাড়াতে ‘ভরসা কার্ড’ বিলি করাও শুরু হয়েছে। কিন্তু বর্তমান সুবিধাপ্রাপকদের প্রত্যেকেই সেই তিনহাজারি ভাতা তালিকায় ঠাঁই পাবেন কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা জল্পনা। প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী স্মৃতি ইরানি সোমবার সে জল্পনার উত্তর দিলেন। ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’ বা ‘যুবসাথী’ প্রাপকদের বর্তমান তালিকা সম্পর্কে কোনও মন্তব্য তিনি করলেন না। কিন্তু বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে সরকার গড়লে এ ধরনের ভাতা কাদের জন্য নিশ্চিত করা হবে, তা স্পষ্ট করে গেলেন স্মৃতি।
মহিলা সংরক্ষণ তথা সংবিধান সংশোধন বিল লোকসভায় পাশ না-হওয়া নিয়ে বিরোধী শিবিরকে বিজেপির লাগাতার আক্রমণ চার দিনে পড়ল। গত শুক্রবার বিলটি লোকসভায় আটকে যেতেই সমাজমাধ্যমে আক্রমণাত্মক পোস্ট শুরু হয়েছিল বিজেপির তরফ থেকে। শনিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়ে কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি, ডিএমকে এবং তৃণমূলকে আক্রমণ করেন। রবিবার কলকাতায় এসে একই বিষয় নিয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করেন সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু। সোমবার সে তালিকায় যোগ হল স্মৃতির নাম। ভোটের পশ্চিমবঙ্গে এসে তিনি তৃণমূলকে ‘মহিলা বিরোধী’ বলে আক্রমণ করলেন। স্মৃতি বললেন, ‘‘২০২৩ সালে যে নারীশক্তি বন্দন অধিনিয়ম বিল পাশ হয়েছিল, তাতেই ২০২৬ সালে আসন পুনর্বিন্যাসের কথা উল্লিখিত ছিল ৩৩ শতাংশ আসন মহিলাদের জন্য সংরক্ষণের পূর্বশর্ত হিসাবে। তখন তৃণমূল এই বিলকে সমর্থন করেছিল। কিন্তু এ বার সমর্থন করল না।’’
পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ক্ষমতায় এলে মহিলা এবং বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য যে ভাতার প্রতিশ্রুতি দলের ‘সংকল্পপত্রে’ ঘোষণা করা হয়েছে, সে প্রসঙ্গেও স্মৃতি মুখ খোলেন। তাঁকে আনন্দবাজার ডট কমের প্রশ্ন ছিল— যাঁরা এখন ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’ বা ‘যুবসাথী’ পাচ্ছেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে কি তাঁরাই তিন হাজার টাকা করে পাবেন? নাকি তখন নতুন করে সুবিধাপ্রাপকদের তালিকা তৈরি হবে? দেশের প্রাক্তন নারী ও শিশুকল্যাণ মন্ত্রী বলেন, ‘‘আমরা নিশ্চিত করব প্রত্যেক পরিবার, প্রত্যেক মহিলা যাতে এই বিধিবদ্ধ আর্থিক সুবিধা পান।’’ তবে তিন হাজার টাকার ভাতা ছাড়া আর কোন কোন আর্থিক সুবিধার প্রতিশ্রুতি বিজেপি দিয়েছে, স্মৃতি তা-ও মনে করান। তাঁর কথায়, ‘‘আমরা মহিলাদের জন্য শুধুমাত্র ভাতা ঘোষণা করিনি। আমরা তাঁদের জন্য সরকারি চাকরিতে ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ ঘোষণা করেছি। আমরা স্নাতক স্তরে ভর্তি হওয়া মেয়েদের জন্য ৫০ হাজার টাকার এককালীন আর্থিক সহায়তা ঘোষণা করেছি। আমরা গর্ভবতী মহিলাদের জন্য ২১ হাজার টাকা এবং ছ’টি পুষ্টি কিট দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছি।’’
লোকসভায় মহিলা সংরক্ষণ বিল পাশ না-হওয়া প্রসঙ্গে তৃণমূলকে সোমবার আক্রমণ করে স্মৃতি বলেন, ‘‘আমরা অবাক হয়ে গিয়েছি যে, তৃণমূলের মহিলা নেত্রী তৃণমূল সাংসদদের নির্দেশ দিয়েছেন, এই বিল যেন পাশ না-হয়।’’ স্মৃতির কথায়, ‘‘এই ধোঁকা শুধু দেশের মহিলাদের দেওয়া হয়েছে, এমন নয়। পশ্চিমবঙ্গের মানুষকেও ধোঁকা দেওয়া হয়েছে। আসন পুনর্বিন্যাসের ফলে পশ্চিমবঙ্গে লোকসভার আসন বাড়লে কেন্দ্রীয় কোষাগার থেকে বেশি বরাদ্দও পশ্চিমবঙ্গ পেত। তার পাশাপাশি মহিলাদের প্রতিনিধিত্ব সংসদে বাড়ত।’’ তাঁর তোপ, ‘‘তৃণমূলের এই ধোঁকা পশ্চিমবঙ্গ এবং গোটা দেশের মহিলারা মনে রাখবে।’’
স্মৃতিকে পাল্টা আক্রমণ করেছেন তৃণমূলের রাজ্য সহ-সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদার। তিনি বলেছেন, ‘‘মহিলা সংরক্ষণ বিল তো এর আগেই সংসদে পাশ হয়ে গিয়েছে। এই বিলের উদ্দেশ্য তো ছিল পিছনের দরজা দিয়ে লোকসভার আসনসংখ্যা বাড়ানো। ২০২৯ সালে মোদী কিছুতেই ক্ষমতায় ফিরতে পারবেন না বুঝে বিজেপি এটা করতে চাইছে। মুখোশটা মহিলা সংরক্ষণের। আর ভিতরের অসদুদ্দেশ্য হল এমন ভাবে আসন পুনর্বিন্যাস করা, যা সত্যনিষ্ঠ নয়।’’ জয়প্রকাশের কথায়, ‘‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সংসদে এবং বিধানসভায় শতাংশের বিচারে সবচেয়ে বেশি মহিলাদের পাঠিয়েছেন। পঞ্চায়েত, পুরসভায় তিনিই সবচেয়ে বেশি মহিলা সংরক্ষণ দিয়েছেন। তাঁকে মহিলা বিরোধী বলে বিজেপির লাভ হবে না। গলার জোরে মিথ্যা বললে মিথ্যাটা সত্য হয়ে যায় না।’’