• ‘পরিচালক পুরো পারিশ্রমিক পেয়ে গিয়েছেন’, অঞ্জনের অভিযোগের প্রেক্ষিতে সাফ জবাব ‘সাজঘর’ প্রযোজক সুমনের
    আনন্দবাজার | ২১ এপ্রিল ২০২৬
  • রবিবার পরিচালক অঞ্জন কাঞ্জিলাল অভিযোগ উগরে দেন প্রযোজক সুমন সেনগুপ্তের বিরুদ্ধে। ‘সাজঘর’ ছবির প্রযোজক কারও বকেয়া পারিশ্রমিক মেটাননি, এমনটাই দাবি করেছেন পরিচালক। এই কারণেই নাকি এখনও মুক্তি পাচ্ছে না ছবিটি। অঞ্জনের অভিযোগের ভিত্তিতেই এ বার মুখ খুললেন প্রযোজক সুমন।

    তাঁর দাবি, এটা ঠিক কথা যে, এখনও অনেকের পুরো পারিশ্রমিক তিনি দিয়ে উঠতে পারেননি। কিন্তু পরিচালক অঞ্জন পুরো পারিশ্রমিকই পেয়ে গিয়েছেন। সুমন বলেন, “যখন এই কাহিনি শুনেছিলাম তখনই বলেছিলাম, এই ছবি ছোট আকারে তৈরি করা সম্ভব নয়। আমার পক্ষেও এখনই এত বড় মাপের ছবি তৈরি করা সম্ভব নয়।” ছবিতে মুখ্য চরিত্রে অভিনয় করেছেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, অঙ্কুশ হাজরা, ঐন্দ্রিলা সেন-সহ আরও অনেকে।

    ২০২১ সালের জুন মাসে প্রথম ছবির কাহিনি শুনেছিলেন প্রযোজক। গল্প শুনেই তিনি জানিয়েছিলেন, এই ছবি তৈরি করতে গেলে প্রায় চার থেকে পাঁচ কোটি টাকা লাগবে। সেই ক্ষমতা তাঁর নেই। দেড় থেকে দু’কোটি টাকা বিনিয়োগ করতে পারতেন। তার পরে যৌথ ভাবে প্রযোজনা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

    সুমন যোগ করেন, “প্রথমে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় এই ছবিতে অভিনয় করতে রাজি ছিলেন না। নতুন পরিচালক অঞ্জনের সঙ্গে কাজ করার কোনও ইচ্ছা ছিল না তাঁর। পরে অনেক আলোচনা করে ঠিক হয় সবটা।” শুটিং করতে গিয়েও অনেক বাধার মুখে পড়তে হয়েছিল প্রযোজককে। যৌথ প্রযোজনা হওয়া সত্ত্বেও শুটিংয়ের সেই ধাপের সব খরচ বহন করেছিলেন সুমন নিজেই, দাবি তাঁর। পোস্ট প্রোডাকশনের জন্য বরাদ্দ টাকাও চলে যায় শুটিংয়ে।

    বহু বাধার পরেও শুটিং শেষ হয়। সুমন জানিয়েছেন, ‘পিরিয়ড ড্রামা’র ক্ষেত্রে তো কোনও নির্দিষ্ট সময়সীমা থাকার কথা নয়। এই ছবি যদি তিন বছর পরেও মুক্তি পায় তা নিয়ে তো সমস্যা হওয়ার কথা নয়। সুমন যোগ করেন, “সত্যি বলতে, একমাত্র ভদ্রা বসুর পারিশ্রমিক দেওয়া বাকি ছিল। কারণ, উনি একেবারে পারিশ্রমিক নিতে চেয়েছিলেন। ভাগে ভাগে নিতে চাননি তাই। বাকি সবাই পারশ্রমিক পেয়ে গিয়েছেন। কিছু টেকনিশিয়ানের পারিশ্রমিক দেওয়া বাকি রয়েছে।” এই পরিস্থিতিতে কি তা হলে মুক্তি পাবে না ‘সাজঘর’?

    তবে পরিচালকের অভিযোগ, “ইন্ডাস্ট্রিতে অনেক সময়েই সঙ্গে সঙ্গে টাকা পাওয়া যায় না। ধৈর্য ধরে কাজ করতে হয়। আমিও সেটাই করেছি। ভদ্রতা করেছি। তার ফল পাচ্ছি। নিজেকে ভিখারি মনে হচ্ছে।” তবে সুমন জানিয়েছেন, পরিচালক পুরো পারিশ্রমিক পেয়ে গিয়েছেন। প্রযোজক বলেন, “আমি আর প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি দেওয়ার কথা ভাবছি না। কোনও একটি ওটিটি প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে কথা বলব। কেউ যদি কেনে, তারা বকেয়া টাকা মিটিয়ে দেবে আর আমরা বাকি লভ্যাংশ নিয়ে নেব।” তবে পরিচালক-প্রযোজকের এই দ্বন্দ্বের মাঝে কোনও মন্তব্য করেননি ছবির শিল্পীরা।
  • Link to this news (আনন্দবাজার)