প্রথমে বিদেশি অনুদান আইন সংক্রান্ত সংশোধনী বিল (এফসিআরএ) এবং পরে মহিলা সংরক্ষণ বিলের সঙ্গেই লোকসভার আসন পুনর্বিন্যাস বিল সংসদে নিয়ে আসা। ভোটের ঠিক মুখে ওই দুই বিল আনার সময়জ্ঞান নিয়ে এখন প্রশ্ন উঠছে বিজেপির অভ্যন্তরেই। এফসিআরএ-র কারণে কেরল এবং পুনর্বিন্যাস আইনের কারণে তামিলনাডু়তে দলের ভাল ফল অধরা থাকতে চলেছে বলেই মত বিজেপির একাংশের।
এমন নয় যে, বিল না এলে বিজেপি ওই দু’টি রাজ্যে ক্ষমতা দখল করতে পারত। কিন্তু রাজনীতিকদের মতে, এ যাত্রায় দুই রাজ্যে আগের থেকে ভাল ফলের সম্ভাবনা ছিল। বিলগুলি এনে সেই সম্ভাবনা অঙ্কুরে বিনাশ করেছে দলই। কেরলে ভোটের ঠিক দু’সপ্তাহ আগে এফসিআরএ বিলটি লোকসভায় পেশ করে সরকার। অভিযোগ ওঠে, মূলত খ্রিস্টান সংগঠনগুলিতে বাইরে থেকে আসা অর্থের জোগান রুখতেই বিলটি আনা হয়েছে। কেরলের নির্বাচনের আগে সরকার ওই বিল আনায় বিজেপি খ্রিস্টান-বিরোধী বলে প্রচারে নামেন বিরোধীরা। গত লোকসভায় কেরলে একটি আসন জিতেছিল বিজেপি। এ বারে ওই রাজ্যের বিধানসভায় ভাল ফলের সম্ভাবনা ছিল। কিন্তু দলের বিশ্লেষণ, ভোটের ঠিক দু’সপ্তাহ আগে খ্রিস্টান সমাজকে বিমুখ করে সেই সম্ভাবনায় জল ঢেলে দিয়েছেন বিজেপি কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব।
অন্য দিকে সংসদের বিশেষ অধিবেশন ডেকে মহিলা সংরক্ষণ বিলের সঙ্গে কেন্দ্র লোকসভার আসন পুনর্বিন্যাস বিলটি নিয়ে আসতেই বিরোধিতায় ঝাঁপিয়ে পড়ে ডিএমকে। ওই বিল এনে উত্তর ভারতের দল বিজেপি তামিলনাড়ু-সহ দক্ষিণের রাজ্যগুলির লোকসভায় আসন কমাতে চাইছে— এই মর্মে আন্দোলনে নেমে পড়েন ডিএমকে নেতা তথা মুখ্যমন্ত্রী স্ট্যালিন। রাস্তায় নেমে বিল পুড়িয়ে, লোকসভায় বিরোধিতা করে দক্ষিণের অস্মিতার প্রশ্নে তামিলনাড়ুবাসীর ক্ষোভ উস্কে দেন তিনি। দক্ষিণের প্রতি উত্তরের বঞ্চনার অন্যতম কুশীলব হিসাবে বিজেপিকে দাগিয়ে দিয়ে এনডিএ-র বিরুদ্ধে সর্বাত্মক লড়াইয়ের ডাক দেন ডিএমকে নেতৃত্ব। ফলে এখন সকাল-বিকাল নরেন্দ্র মোদী-অমিত শাহেরা তামিলনাড়ুতে গিয়ে প্রচার চালালেও লাভের লাভ কতটা হবে, তা নিয়ে প্রবল সংশয়ে স্থানীয় বিজেপি ও শরিক এডিএমকে নেতৃত্ব।