গত বিধানসভায় তৃণমূল যে ভোটে জিতেছিল তার চেয়ে বেশি ভোটার বাদ পড়েছে গলসি, আউশগ্রাম বিধানসভায়। আবার ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূলের জয়ের ব্যবধানের গা ঘেঁষে রয়েছে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার সংখ্যা।পাশের খণ্ডঘোষ বিধানসভায় আবার নাম বাদ যাওয়ার ভোটারের থেকে ২০২১-এর নির্বাচনে তৃণমূল পাঁচ হাজারের মতো ভোটে এগিয়ে রয়েছে। লোকসভায় সেই ব্যবধান প্রায় দ্বিগুণ হয়।
তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়া আর জয়ের ব্যবধানের অঙ্ক খণ্ডঘোষের তুলনায় গলসি, আউশগ্রামে কঠিন। এই যোগ-বিয়োগের বাইরেও অনেক ভোটারের ভাগ্য ঝুলে রয়েছে। তাঁরা ট্রাইবুনালেও আবেদন করতে পারছেন না। নথি নিষ্পত্তি না হলে ভোটের দিন তাঁরা লাইনে দাঁড়াতে পারবেন না। সে ক্ষেত্রে খণ্ডঘোষও তৃণমূলের কাছে কঠিন হয়ে যেতে পারে।
বিজেপির দাবি, আউশগ্রাম, খণ্ডঘোষে ২০২১ ও ২০২৪—পর পর দু’টি নির্বাচন বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে, বিধানসভার চেয়ে লোকসভায় তৃণমূলের জয়ের ব্যবধান দ্বিগুণ। ২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচনে গলসিতে তৃণমূল ১০ হাজারের বেশি ভোটে হেরেছিল। তার পরের বিধানসভা ও লোকসভা ভোটেও তৃণমূল জেতে। জয়ের ব্যবধান ছিল ২০ হাজারের আশেপাশে। বিজেপি নেতা মৃত্যুঞ্জয় চন্দ্রের দাবি, “নথিই বলছে তৃণমূল ভুয়ো ভোটে জিতেছে। এর বাইরে ভোটার আটকানোর খেলা ছিল। এ বারের ভোটে সব খেলা বন্ধ। আউশগ্রাম, গলসি, খণ্ডঘোষে বিজেপির জয় নিশ্চিত।” আর তৃণমূল বলছে, বৈধ ভোটারদের নাম বাদ যাওয়া নিয়ে স্থানীয় লোকজন ক্ষোভে ফুঁসছেন। নাম তুলতে গিয়ে হয়রান হয়েছেন। এসআইআর বিরোধী ঝড় বইছে। যার ফল দেখা যাবে ভোটবাক্সে।
আউশগ্রামের তৃণমূল প্রার্থী, পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের সভাধিপতি শ্যামাপ্রসন্ন লোহার, গলসির প্রার্থী অলোক মাঝিদের দাবি, “গ্রামে গ্রামে ঘুরে দেখছি এসআইআর নিয়ে দলমত নির্বিশেষে সবার ক্ষোভ রয়েছে। সবাই বুঝতে পারছেন, ভোটার তালিকায় নাম তোলার জন্য গণতান্ত্রিক ভাবে, আদালতে একমাত্র মুখ্যমন্ত্রীই লড়াই করছেন। এর সুফল আমরা পাবই।”
কমিশনের রিপোর্ট বলছে, ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনে গলসিতে বিজেপির ভোট কমেছে ৩৭৪৬টি আর তৃণমূলের ভোট কমেছে ২২৫৪টি। আবার আউশগ্রামে বিজেপির ভোট কমেছে ১১,৬০৯। তৃণমূলের ভোট বেড়েছে ১০,১১১টি। খণ্ডঘোষে বিজেপির ভোট কমেছে ৯৭৯৩টি, তৃণমূলের বেড়েছে ৬৯৬৭টি। এই বাড়া-কমার খেলায় যুক্ত হয়েছে যোগ্য-অযোগ্য আর নিষ্পত্তিহীন ভোটার। গলসি ১ ব্লকের হরিপুর গ্রামের শেখ খুশিরের ছেলে সাজিদ এখনও বিবেচনাধীন। তিনি পরিযায়ী শ্রমিক। খুশির বলেন, “এখনও কোনও সমাধান হয়নি। ট্রাইবুনালে যেতে পারছি না। কি হবেও বুঝতেও পারছি না।” সাদিরদের সঙ্গে ঝুলে রয়েছে রাজনৈতিক দলগুলির ভবিষ্যতও।