তাঁর নাম না নিয়ে দলনেত্রী এলাকায় সভা করতে এসে কড়া বার্তা দিয়ে গিয়েছেন। দলের হয়ে কাজে না নামলে, বিজেপিকে সাহায্য করলে তৃণমূল থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার হুঁশিয়ারি পর্যন্ত দিয়েছেন। মন্তেশ্বরের সভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এমন মন্তব্য মানতে পারছেন না পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি আহমেদ হোসেন শেখের ঘনিষ্ঠ নেতা-কর্মীরা। তাঁদের দাবি, নেত্রী মন্তেশ্বরের বর্তমান পরিস্থিতি পুরোটা খতিয়ে না দেখেই কড়া ভাষা বলেছেন।
মন্তেশ্বর বিধানসভার বালিজুড়ি গ্রামের ৭৮ নম্বর বুথের সভাপতি টোটন শেখ, ভারুচা গ্রামের ২৩ নম্বর বুথের সভাপতি পার্থ ঘোষ, মন্তেশ্বর গ্রামের নেত্রী সুভদ্রা রায়দের দাবি, গত কয়েক বছর ধরে আহমেদের নেতৃত্বে তাঁরা তৃণমূল করছেন। তাঁদের দাবি, ‘‘মানুষের আপদে-বিপদে ওঁকেই দেখা যায়। ব্লকের ১৩টি পঞ্চায়েতেই ওঁর নেতৃত্বে কাজ হয়েছে। তাই অনেকে আশা করেছিল, এ বার তাঁকে ভোটের টিকিট হয়তো দেওয়া হবে। দলের বিদায়ী বিধায়ক টিকিট টিকিট পরে নিজের পছন্দমতো লোকজনকে নিয়ে প্রচার করছেন। ব্লক বা অঞ্চল নেতৃত্ব তাঁর সঙ্গে নেই।’’
আহমেদ-অনুগামীদের আরও অভিযোগ, দলনেত্রীর সভা নিয়েও ব্লক নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা করেননি প্রার্থীর লোকজন। তাই তাঁরা সভায় যাননি। তাঁদের আক্ষেপ, ‘‘নেত্রী আমাদের নেতা আহমেদ হোসেন শেখকে নিয়ে বিভিন্ন কথা বললেন, তাঁকে দল থেকে তাড়ানোর হুমকি দিলেন। এ কথা আমরা হজম করতে পারিনি। কারণ, গত বছর দশেক ধরে মন্তেশ্বর ব্লকে তৃণমূলকে আগলে রেখেছেন আহমেদই।’’
আহমেদের সঙ্গে সোমবার চেষ্টা করেও ফোনে যোগাযোগ করা যায়নি। তবে তাঁর ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত দলের এক ব্লক নেতার দাবি, ‘‘নেত্রীর কাছে কিছু নেতা মিথ্যে অভিযোগ করেছেন। সেগুলি এক বার যাচাই করে দেখা দরকার ছিল।’’
তবে মুখ্যমন্ত্রীর কড়া বার্তার পরে খুশি প্রার্থী সিদ্দিকুল্লা অনুগামীদের মধ্যে। ব্লক নির্বাচন কমিটির আহ্বায়ক আতিকুর রহমান, দুই সহ-আহ্বায়ক আজিজুল হক ও সুব্রত মুখোপাধ্যায়দের দাবি, ‘‘দলে থেকে দলের ক্ষতি করতে চাইলে নেত্রী কাউকে রেয়াত করেন না। গত কয়েক বছর ধরে মন্তেশ্বরের বুকে কী ভাবে গুন্ডামি চলছিল, তা মুখ্যমন্ত্রীর নজর এড়ায়নি। মন্তেশ্বরে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তাঁর পদক্ষেপকেস্বাগত জানাই।’’