সংসদে বিরোধীরা প্রস্তাবিত মহিলা সংরক্ষণ সংশোধনী বিল আটকানোর পরে তৃণমূল কংগ্রেসের লোকসভার নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ফোন করে অভিনন্দন জানিয়েছিলেন রাহুল গান্ধী। লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুলের বার্তাকে পশ্চিমবঙ্গে ভোটের বাজারে প্রচারে এনেছিল তৃণমূল। কিন্তু রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনে লড়াইয়ের পরিবেশ আলগা করতে চাইছেন না রাহুল। তিনি এ বার প্রচারে আসছেন কলকাতায়। ওই দিনই রাজ্যে ফের প্রচারে আসার কথা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর। এই পরিস্থিতিতে প্রথম দফার ভোটের দিন, বৃহস্পতিবার কার্যত গঙ্গার দু’পারে মোদী ও রাহুলের টক্কর হওয়ার কথা!
এরই মধ্যে সোমবার উত্তরবঙ্গে এসে মোদীর পাশাপাশি তৃণমূল সরকারকে বিঁধেছেন কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গে। উল্টো দিকে, প্রচারে এসে তৃণমূলকে নিশানা অব্যাহত রেখেছেন দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহ, অসম ও উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যথাক্রমে হিমন্ত বিশ্বশর্মা, যোগী আদিত্যনাথ-সহ বিজেপির তাবড় নেতৃত্ব।
এখনও পর্যন্ত যা ঠিক হয়েছে, বৃহস্পতিবার কলকাতার পার্ক সার্কাস ময়দানে সভা করবেন রাহুল। ওই দিন তাঁর আরও দুই সভা রয়েছে দক্ষিণ শহরতলির মেটিয়াবুরুজ ও প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকারের সমর্থনে শ্রীরামপুরে। রাজ্যে ২০১৬ সালের নির্বাচনে বাম-কংগ্রেস জোটের প্রার্থীদের সমর্থনে রাহুল পার্ক সার্কাস ময়দানেই সমাবেশ করেছিলেন, যেখানে উপস্থিত ছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। ওই দিনই প্রধানমন্ত্রী মোদীরও সভা করার কথা ব্যারাকপুর ও মথুরাপুরে। প্রধানমন্ত্রীর রোড-শো করার কথা হাওড়ায়।
রাজ্যে মোদীর ধারাবাহিক কর্মসূচির দিকে ইঙ্গিত করে এ দিন কোচবিহার ও নকশালবাড়ির সভা থেকে সরব হয়েছেন কংগ্রেস সভাপতি খড়্গে। তাঁর কটাক্ষ, “এত দিন ধরে সরকার, দেশের কাজ ছেড়ে মোদী বিধানসভা নির্বাচনের জন্য ঘুরছেন। উনি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হতে চান, না কি দেশের প্রধানমন্ত্রী থাকতে চান?” মোদীকে ‘মিথ্যার সর্দার’ আখ্যা দিয়ে নির্বাচন কমিশনের সাহায্যে অনিয়ম করা, দু’কোটি চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে ‘পূরণ না-করা’, মহিলা বিলের সঙ্গে আসন পুনর্বিন্যাসকে (ডিলিমেটন) জুড়ে দেওয়ার মতো নানা প্রসঙ্গ তুলেও সরব হয়েছেন খড়্গে। পাশাপাশি, তাঁর তোপ, “এখন এক দিকে বিজেপি, আর এক দিকে তৃণমূল। স্বামী-স্ত্রীর ঝগড়ায় যেমন বাচ্চাদের ক্ষতি হয়, তেমনই দুই জনের ঝগড়ায় বাংলার ক্ষতি হচ্ছে।”
এই প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী রাজ্যে এসে তৃণমূলের ‘গুন্ডা’দের যে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, কার্যত সেই স্বরেরই প্রতিধ্বনি করেছেন দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ। বীরভূমের সাঁইথিয়ায় তিনি বলেছেন, “এখানে বিজেপি সরকার তৈরি করুন। সব গুন্ডা হয় ঘরে ঢুকে যাবে, না হলে জেলে, কিংবা উপরে চলে যাবে!” পাশাপাশি, বিজেপির বিরুদ্ধে বাঙালির আমিষ-খাদ্যভাসে হস্তক্ষেপের আশঙ্কার যে কথা তৃণমূল বার বার বলছে, তা নিয়ে মেদিনীপুরের এনায়েতপুরে এসে অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্তের পাল্টা বক্তব্য, “অসমে বিজেপির সরকার। ওখানে কি মাছ-মাংস বন্ধ?” এর সঙ্গেই, পিংলা ও গড়বেতার সভা থেকে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী বলেছেন, “‘মমতা দিদি আপনার খেলা বন্ধ। এ বার খেলা শেষ, উন্নয়ন হবে।”