• ‘মেনে চলব সায়লেন্স পিরিয়ড বিধি’, ওসি-দের কাছে রাত ৯টার মধ্যে লিখিত প্রতিশ্রুতি তলব করল নির্বাচন কমিশন
    আনন্দবাজার | ২১ এপ্রিল ২০২৬
  • ‘সায়লেন্স পিরিয়ডে’ আইন মেনে নির্বাচন
    কমিশনের নির্দেশ মতো কাজ করতে হবে। এই মর্মে সব থানার ওসি-কে সার্টিফিকেট দিতে বলল
    নির্বাচন কমিশন। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (সিইও) দফতর সূত্রের খবর,
    মঙ্গলবার ওই সার্টিফিকেট দিতে হবে সংশ্লিষ্ট ওসি-দের। মঙ্গলবারই রাত ৯টার মধ্যে সব
    জেলার পুলিশ সুপারকে ওই বিষয়ে সিইও দফতরে রিপোর্ট দিতে হবে। জানাতে হবে, ওসিরা
    সার্টিফিকেট দিয়েছেন।

    প্রসঙ্গত, ভোট শুরুর ৪৮ ঘণ্টা আগে
    থেকে শুরু হয়, ‘সায়লেন্স পিরিয়ড’। জন প্রতিনিধিত্ব আইন, ১৯৫১-র
    ১২৬ ধারায় এ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করার অধিকার রয়েছে নির্বাচন কমিশনের। কোনও
    ধরনের নির্বাচনী প্রচার, মতামত বা রাজনৈতিক প্রচারে
    নিষেধাজ্ঞা বলবৎ করা হয়। কমিশন জানিয়েছে, কোনও অফিসার যদি
    গাফিলতি বা পক্ষপাতিত্ব করেন, তা হলে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর
    ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সিইও দফতরের তরফে প্রকাশিত ‘সায়লেন্স পিরিয়ড’ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তিতে
    বলা হয়েছে—

    ১. যাঁরা ওই কেন্দ্রের ভোটার নন
    এবং বাইরে থেকে এসেছেন, তাঁদের প্রচার শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে
    (ভোটের ৪৮ ঘণ্টা আগে) এলাকা ছেড়ে চলে যেতে হবে।

    ২. জেলা নির্বাচনী আধিকারিক (ডিইও), পুলিশ
    সুপার ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর সাহায্যে এই নির্দেশ কঠোর ভাবে কার্যকর করতে হবে।

    ৩. বহিরাগত রাজনৈতিক কর্মীদের
    শনাক্ত করার জন্য এলাকার হোটেল, লজ, গেস্ট হাউস,
    ধর্মশালায় চেকিং করতে হবে।

    ৪. চেকপোস্টে নজরদারি বাড়াতে হবে।
    উদ্দেশ্য, জেলা ও রাজ্যের সীমানা দিয়ে যাতে কেউ বেআইনি ভাবে ঢুকতে না পারেন।

    ৫. ফ্লাইং স্কোয়াড, এসএসটি, কিউআরটি (কুইক রেসপন্স টিম) ও সেক্টর অফিসাররা নজরদারি করবে। নিয়মে কোনও
    লঙ্ঘন হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেবে।

    পশ্চিমবঙ্গে প্রথম দফার ভোট ২৩
    এপ্রিল। ১৫২টি বিধানসভা আসনে। ২১ এপ্রিল সন্ধ্যা ৬টা থেকে ২৩ এপ্রিল ভোটগ্রহণ শেষ
    হওয়া পর্যন্ত ‘সায়লেন্স পিরিয়ড’ কার্যকর থাকবে। ১৪২টি আসনে দ্বিতীয় দফায় ভোটগ্রহণ
    ২৯ এপ্রিল হওয়া কথা। ২৭ এপ্রিল সন্ধ্যা ৬টা থেকে একই নিষেধাজ্ঞা জারি থাকবে। কমিশন
    স্পষ্ট করেছে, এই সময় টিভি চ্যানেল বা রেডিয়োতে আলোচনায় অংশ নেওয়া
    অতিথি বা প্যানেলিস্টদের মন্তব্যও যেন কোনওভাবে ভোটারদের প্রভাবিত না করে, তা নিশ্চিত করতে হবে। এমনকি, কোনও মতামত সমীক্ষা বা রাজনৈতিক বার্তাও এই
    সময় প্রচার করা যাবে না। একই সঙ্গে কমিশন মনে করিয়ে দিয়েছে, ৯
    এপ্রিল সকাল ৭টা থেকে ২৯ এপ্রিল সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত ‘বুথফেরত সমীক্ষা’ (এক্সিট
    পোল) প্রকাশ নিষিদ্ধ। এই নির্দেশ অমান্য করলে সর্বোচ্চ দু’বছর পর্যন্ত জেল বা
    জরিমানা, অথবা উভয় শাস্তিই হতে পারে।
  • Link to this news (আনন্দবাজার)