• প্রচারের শেষলগ্নে কোচবিহারে রোড শো ‘ড্রিম গার্ল’ হেমার! কলকাতায় পাত পেড়ে মাছ-ভাত খেলেন অনুরাগ
    আনন্দবাজার | ২১ এপ্রিল ২০২৬
  • পশ্চিমবঙ্গে প্রথম দফার ভোটপ্রচার শেষ হওয়ার ঘণ্টা কয়েক আগে
    কোচবিহারে রোড শো করলেন বিজেপি সাংসদ হেমা মালিনী। অন্য দিকে, কলকাতায়
    সাংবাদিক সম্মেলন সেরে পাত পেড়ে মাছ-ভাত খেলেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অনুরাগ
    ঠাকুর। তার পরে বললেন, ‘‘খান এবং খেতে দিন, তবে খাবার।’’ মনে করা হচ্ছে, তৃণমূলের কটাক্ষের জবাব দিতেই মাছ-ভাত
    খেলেন তিনি। প্রথম দফার ভোটের প্রচারের শেষ দিনে রাজ্যে জমজমাট প্রচার সারল
    কেন্দ্রের শাসকদল।

    বৃহস্পতিবার রাজ্যের ১৫২টি আসনে ভোট। প্রথম দফার ভোটে
    মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে সায়লেন্স পিরিয়ড শুরু। কমিশন নির্দেশ দিয়েছে, যাঁরা
    ওই কেন্দ্রের ভোটার নন এবং বাইরে থেকে এসেছেন, তাঁদের প্রচার
    শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে (ভোটের ৪৮ ঘণ্টা আগে) এলাকা ছেড়ে চলে যেতে হবে। এই
    সায়লেন্স পিরিয়ড শুরুর আগেই কোচবিহারে রোড শো করলেন হেমা, যেখানে
    ভোট রয়েছে বৃহস্পতিবার। কোচবিহার পুরসভার সামনে থেকে শুরু হয়ে সাগরদিঘি পার করে
    বাজার ঘুরে শহর পরিক্রমা করে মিছিল।

    কোচবিহার দক্ষিণের বিজেপি প্রার্থী রথীন্দ্রনাথ বসুর হয়ে
    সেই রোড শো করেন হেমা। বিজেপির জেলা কার্যালয় থেকে রাসমেলা ময়দান, মিনা
    কুমারী চৌপতি হয়ে হুডখোলা জিপে চেপে রোড শো করেন তিনি। তাঁকে দেখতে রাস্তার দু’ধারে জড়ো হন বহু মানুষ।

    অন্য দিকে, কলকাতায় বিজেপি সাংসদ তথা প্রাক্তন
    কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অনুরাগ ঠাকুর এবং রাজ্যসভার সাংসদ হর্ষবর্ধন শ্রিংলা সাংবাদিক
    সম্মেলন করেন। অনুরাগ বলেন, ‘‘বাংলায় নির্বাচন হল মমতা বনাম
    জনতা। আর জনতা যখন নির্বাচন তাদের হাতে নেয় তখন বিচারও তারা একতরফাই করে।’’
    বিজেপি সাংসদ আরও বলেন, ‘‘গত ১৫ বছর ধরে যে
    তোষণ নীতি, দুর্নীতি, স্বজনপোষণের
    রাজনীতি তৃণমূল করেছে, তার ফল তারা এই নির্বাচনে পাবে।’’
    অনুরাগ টিএমসি-র নতুন অর্থও তৈরি করেছেন। তাঁর কথায়, ‘‘টিএমসির অর্থ হল টেরর (সন্ত্রাস), মানি লন্ডারিং
    (তছরুপ) এবং কাটমানি।’’ এর পরে অনুরাগ মোদীর ‘গ্যারান্টির’ কথা মনে করিয়ে দেন। কর্মসংস্থান থেকে
    চাকরির পরীক্ষায় ৫ বছরের ছাড়, প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার
    প্রস্তুতিতে ১৫ হাজার টাকা এবং শূন্যপদ স্বচ্ছতার সঙ্গে পূরণের প্রতিশ্রুতির কথা
    মনে করান তিনি।

    অন্য দিকে, হর্ষবর্ধন বলেন, ‘‘মঙ্গলবার উত্তরবঙ্গে নির্বাচনী প্রচার শেষ হচ্ছে। দেশের প্রধানমন্ত্রী
    নরেন্দ্র মোদী যেখানেই গিয়েছেন প্রচারে, মানুষজন তাঁকে বিপুল
    ভাবে স্বাগত জানিয়েছেন। এমনকি, প্রধানমন্ত্রীর ব্রিগেড
    সভাতেও তিল ধারণের জায়গা ছিল না। এখন সময় এসে গিয়েছে, বাংলার
    মানুষ তৃণমূলকে সরিয়ে বিজেপি-কে আনতে প্রস্তুত।’’ সাংবাদিক
    সম্মেলন শেষে অনুরাগ সকলের সঙ্গে মাছ-ভাত খান। তার পরে তিনি বলেন, ‘‘রাজ্যের মানুষের যা খুশি তা-ই খাবেন, নিজের ধর্মাচারণ করবেন। কিন্তু অন্যের খাদ্যাভ্যাস বা ধর্মাচারণে বাধাদান নয়।’’ তৃণমূল প্রচারে বার বার দাবি করেছে,
    বিজেপি ক্ষমতায় এলে বাঙালির মাছ-ভাত খাওয়া বন্ধ করে দেবে। মনে করা
    হচ্ছে, সেই কটাক্ষের জবাব দিয়ে বঙ্গবাসীকে আশ্বস্ত করতেই
    মাছ-ভাত খেলেন অনুরাগ।

    এর আগে বিজেপির কোনও নেতা প্রচারে গিয়ে মাছ হাতে ঘুরেছেন।
    কেউ মাছবাজারে গিয়ে আঁশবটিতে বসেছেন মাছ কাটতে। কেউ মাছ খেতে খেতে সাক্ষাৎকার
    দিয়েছেন। কেউ জনতাকে সাক্ষী রেখে দরদাম করে মাছও কেনেন। বিজেপি ক্ষমতায় এলে
    বাঙালির পাত থেকে মাছ-মাংস কেড়ে নেবে বলে যে তত্ত্ব তৃণমূল খাড়া করার চেষ্টা
    করছে,
    তা নস্যাৎ করার লক্ষ্যেই বিজেপি প্রার্থীদের এ রকম ‘মৎস্যমুখী’ প্রচার বলে মনে করা হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গে
    প্রচারে এসে প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেছেন, ‘‘১৫ বছরের শাসনকালে
    তৃণমূল আপনাদের মাছও দিতে পারেনি। সেটাও বাইরে থেকে আনতে হচ্ছে।’’
  • Link to this news (আনন্দবাজার)