গত বার বিধানসভা ভোটের আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী রাজ্যে এসে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘দিদি ও দিদি’ বলে সম্বোধন করেছিলেন, যা নিয়ে মহিলাদের অসম্মানের অভিযোগে বিতর্ক বেধেছিল। এ বার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের মমতাকে ‘এই দিদি’ সম্বোধন নিয়ে একই ভাবে মহিলাদের প্রতি অসম্মানের অভিযোগ তুলে সরব হল তৃণমূল কংগ্রেস। সংসদে মহিলা বিল পাশ না-হওয়া নিয়ে তৃণমূলকে যখন ধারাবাহিক নিশানা করছে বিজেপি, তখন ‘নারী অবমাননা’র অভিযোগকে সামনে রেখে নতুন বিতর্ক বাধল রাজ্য রাজনীতিতে। প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে মুখ্যমন্ত্রী ‘হোঁদল কুতকুতে’র মতো আরও যা যা সম্বোধন করেছিলেন, তা মনে করিয়ে দিয়ে অবশ্য পাল্টা সরব হয়েছে বিজেপি।
এই বার প্রচারে এসে শাহ বলেছেন, ‘এই দিদি, কান খুলে শুনে নাও...।’ তার পরেই, শাহের বক্তৃতার এই অংশ এবং ২০২১-এ মোদীর ‘দিদি ও দিদি’ সম্বোধনের ভিডিয়ো পাশাপাশি তুলে ধরে মঙ্গলবার তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বার বার নারী শক্তির কথা বলেন। অথচ প্রধানমন্ত্রী তিন বার নির্বাচিত মহিলা মুখ্যমন্ত্রীকে ‘দিদি ও দিদি’ বলে কটাক্ষ করেন, যা অবজ্ঞাসূচক। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও সেই সুরে ‘এই দিদি’ বলে এক জন সম্মাননীয় নেত্রীকে ব্যঙ্গ করছেন। এটা বাংলা এবং দেশের প্রতিটি মহিলার অপমান। ৪ মে, বাংলার মানুষ এই ভণ্ডামির বিরুদ্ধে চূড়ান্ত রায় দেবেন।’
মুখ্যমন্ত্রীর ২০২১-এর একটি বক্তব্যের কথা মনে করিয়ে দিয়ে রাজ্য বিজেপির অন্যতম সাধারণ সম্পাদক লকেট চট্টোপাধ্যায় পাল্টা বলেছেন, “দিদি তো বলেছেন (শাহ)। নাম ধরে ডাকেননি। মুখ্যমন্ত্রী তো কখনও হরিদাস পাল, হোঁদল কুতকুত বলেছেন। উনি তো দেশের রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কাউকেই বাদ দেন না। ফলে তৃণমূলের মুখে সম্বোধন নিয়ে এই সব কথা মানায় কি?”
পুরো বিষয়টিকে বিজেপির ‘নারী বিদ্বেষ, নৈতিক দেউলিয়াপনা, রাজনৈতিক আত্মহত্যা’ বলে দলীয় ভাবে সরব হয়েছে তৃণমূল। তাদের বক্তব্য, ‘এটা (শাহের সম্বোধন) এক জন অপরাধীর মতো ভাষা। এটাই ঘটে, যখন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর চেয়ারে এক জন খুনি-মানসিকতার মানুষ বসেন। পুরোটাই নারী-বিদ্বেষ এবং পিতৃতান্ত্রিক, পুরুষতান্ত্রিক ঔদ্ধত্য। এটা বিজেপির শীর্ষ থেকে তৃণমূল স্তর পর্যন্ত তাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতির অংশ।’ একই সুরে রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যও বলেছেন, “মানুষ বুঝে গিয়েছেন, মহিলাদের বিজেপি নেতারা কতটা সম্মান করেন। বাংলার মহিলারা এর জবাব দেবেন।” তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ সাগরিকা ঘোষেরও বক্তব্য, “এটাই বিজেপির আসল চেহারা। সংসদে নারী শক্তির কথা বলেন (বিজেপি নেতৃত্ব), অথচ বাস্তবে তিন বারের মহিলা মুখ্যমন্ত্রীকে অপমান করেন।” মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে অবমাননাকর মন্তব্য করেছেন শাহ, এই অভিযোগ তুলে লোকসভার সাংসদ মহুয়া মৈত্র বলেছেন, “এই প্রতারক, মাওয়ালিদের (শাহ) সম্পর্কে সচেতন থাকুন। আগামিদিনে কোথাও কোনও ক্ষমতা পেলে যে কী করবে, তা ভেবে ভোট দিন। অমিত শাহ বরাবরের গুন্ডা!”