বাংলা নববর্ষে পাখিদের খোঁজে রাজ্যের আনাচকানাচে চোখ রেখেছিলেন পাখিপ্রেমীরা। আর তাতেই বকখালির কাছে কার্গিল সৈকতে দেখা মিলেছে ‘ব্ল্যাক-টেলড গাল’ পাখির। জাপান, কোরিয়া, চিনের উপকূলে এর দেখা মিললেও এ দেশে আগে একে কখনও দেখা যায়নি। সংলগ্ন পাতিবুনিয়া সৈকতে আবার ডেরা বেঁধেছে মহা বিপন্ন প্রজাতি ‘স্পুনবিলড স্যান্ডপাইপার’ প্রজাতির দু’টি পাখি। রাশিয়ার বাসিন্দা এই দু’জন গত মাস থেকে বাংলার অতিথি। বাংলা নববর্ষে পাখিগণনায় নতুন নতুন প্রজাতির এই পাখিদের আগমনে খুশির হাওয়া পাখিপ্রেমী মহলে।
গত তিন বছরের মতো এ বারও নববর্ষ উপলক্ষে পাখিগণনা শুরু করেছিল রাজ্যের পাখিপ্রেমী সংগঠন বার্ড ওয়াচার্স সোসাইটি। গত শুক্রবার থেকে রবিবার পর্যন্ত চতুর্থ সংস্করণের গণনায় এখনও পর্যন্ত মাত্র ৪০৭টি প্রজাতির দেখা মিলেছে, চেকলিস্টের সংখ্যা ৪২৫টি— যা গত বারের তুলনায় অনেকটাই কম। ২০২৫ সালের গণনায় রাজ্যে নথিভুক্ত হয়েছিল ৫২৩টি প্রজাতির পাখি। কারণ কী? সোসাইটির সেক্রেটারি সুজন চট্টোপাধ্যায় বলছেন, ‘‘পাখি দেখার সঙ্গে অনেককে যুক্ত করা ও গরমে পাখি-মহলের খবর রাখতেই এই গণনা। এ বার ভোটের কাজে অনেকেই ব্যস্ত, ফলে পাখি দেখার লোক কম। ফলে প্রজাতির সংখ্যাও কমেছে।’’ সংগঠনের সদস্য ও চিকিৎসক কনাদ বৈদ্য বলছেন, ‘‘প্রথম দফার ভোট সামনে। তার জন্য অনেকেই প্রশিক্ষণে ব্যস্ত। অনেকে আবার পাখি দেখলেও নথিভুক্ত করতে উৎসাহী নন। ফলে তত চেকলিস্ট জমা পড়ছে না।’’ কনাদ জানান, কোনও জায়গা থেকে অন্তত ১৫ মিনিট ধরে পাখি দেখে তার নাম নথিভুক্ত করতে হয় ই-বার্ড পোর্টালে। দক্ষিণ দিনাজপুর ও ঝাড়গ্রাম বাদে সব জেলা থেকেই চেকলিস্ট জমা পড়েছে।
তবে এ বারের পাখিসুমারিতে ধরা দিয়েছে কিছু অচেনা, বিরল বা বিপন্ন পাখি। দার্জিলিঙের লাটপাঞ্চারে দেখা গিয়েছে অপেক্ষাকৃত বিরল গ্রিন কোচোয়া। বকখালির কাছে পাতিবুনিয়া ও কার্গিল সৈকতে দেখা মিলেছে গ্রেট নট, রেড নট, কারলিউ স্যান্ডপাইপার, ব্রড-বিলড্ স্যান্ডপাইপার, রাডি টার্নস্টোন প্রজাতির পরিযায়ীদের। এদের মধ্যে অনেকেই বিপন্ন। এ ছাড়া রয়েছে চেস্টনাট-উইংগড্ কাক্কু, হজসনস্ ফ্রগমাউথ, রেড-হেডেড ট্রগন প্রজাতির পাখিও। তবে ‘সুপারস্টার’ অবশ্যই ব্ল্যাক-টেলড গাল ও স্পুনবিলড স্যান্ডপাইপার। দীর্ঘ আট বছর পরে বাংলার উপকূলীয় কাদাভূমিতে স্পুনবিলড স্যান্ডপাইপারের প্রথম দেখা পান পাখিপ্রেমী সন্দীপ দাস, কৌস্তুভ খান ও সৌম্য অয়ন। দু’টি পাখির মধ্যে এক জনের পায়ে আবার রাশিয়ার বিজ্ঞানীদের ট্যাগ লাগানো রয়েছে। আর কার্গিল সৈকতে শান্তনু ঘোষের ক্যামেরায় ধরা দিয়েছে ব্ল্যাক-টেলড গাল।