‘নেতা’ রাজীব কুমারের প্রথম বিবৃতি, ‘৫০০ জন বেআইনি ভাবে আটক এবং ধৃত’! হুঙ্কার দিলেন আধিকারিকদের প্রতি
আনন্দবাজার | ২৩ এপ্রিল ২০২৬
ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের পুলিশপ্রধান। এখন তিনি ‘নেতা’। অবসরপ্রাপ্ত আইপিএস রাজীব কুমার এখন তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ। সক্রিয় রাজনীতির ময়দানে আসার পর ‘নেতা’ রাজীব কুমারের প্রথম বিবৃতি এল প্রকাশ্যে। অভিযোগ তুললেন, ভোটের মুখে ৫০০ জনকে বেআইনি ভাবে আটক এবং গ্রেফতার করা হয়েছে। একই সঙ্গে এই গ্রেফতারির সঙ্গে জড়িত আধিকারিকদের উদ্দেশে হুঁশিয়ারিও দিয়ে রাখলেন।
দলের অবস্থান বুঝিয়ে রাজীব জানিয়ে দিলেন— যে আধিকারিকেরা এ সব করছেন, তাঁদের প্রত্যেককে আদালত পর্যন্ত টেনে নিয়ে যাওয়া হবে। বুধবার এক বিবৃতিতে তিনি জানান, পুলিশ পর্যবেক্ষকদের শুধুমাত্র মৌখিক নির্দেশের ভিত্তিতেই ৫০০ জনকে বেআইনি ভাবে আটক এবং গ্রেফতার করা হয়েছে। এই গ্রেফতারিগুলি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেই মনে করছেন তিনি। রাজীবের দাবি, এই ঘটনা স্পষ্টতই ফৌজদারি কার্যবিধি এবং বর্তমানে প্রযোজ্য নির্বাচনী আইনকে লঙ্ঘন করে। তাঁর বক্তব্য, পর্যবেক্ষক বা পুলিশ পর্যবেক্ষকেরা এমন নির্দেশ দিতে পারেন না।
গত ৩১ জানুয়ারি রাজ্য পুলিশের ভারপ্রাপ্ত ডিজি-র পদ থেকে অবসর নেন রাজীব। তার প্রায় এক মাস পরে, ২৭ ফেব্রুয়ারি তৃণমূল ঘোষণা করে, প্রাক্তন ডিজি রাজীবকে তারা রাজ্যসভায় পাঠাচ্ছে। এর পরে চলতি মাসেরই ৭ তারিখ রাজ্যসভার সাংসদ হিসাবে শপথ নেন রাজ্যের প্রাক্তন পুলিশপ্রধান। অবসরপ্রাপ্ত আইপিএস রাজীবের ‘নেতা’ হয়ে ওঠার পরে এই প্রথম রাজনৈতিক বিবৃতি দিলেন। ঘটনাচক্রে, এই বিবৃতি এল প্রথম দফার ভোটের ঠিক আগের দিনই।
বেআইনি ভাবে ৫০০ জনকে আটক এবং গ্রেফতারির অভিযোগ তুলে বুধবার মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও)-র দফতরে দেখা করতে গিয়েছিলেন রাজীব। তাঁর সঙ্গে ছিলেন তৃণমূলের দুই প্রার্থীও— শ্যামপুকুরের শশী পাঁজা এবং বেহালা পূর্বের শুভাশিস চক্রবর্তী। বেআইনি গ্রেফতারি নিয়ে নিজেদের অভিযোগের কথা সিইও মনোজ অগ্রবালকেও জানান রাজীব। তাঁর দাবি, সিইও-ও স্বীকার করে নিয়েছে, পর্যবেক্ষকেরা এমন কোনও নির্দেশ দিতে পারেন না।
একই সঙ্গে যে আধিকারিকেরা ওই ৫০০ জনকে ‘বেআইনি ভাবে আটক এবং গ্রেফতার’ করেছেন বলে তিনি মনে করছেন, তাঁদের উদ্দেশেও হুঙ্কার দিয়ে রাখলেন সাংসদ রাজীব। হুঁশিয়ারি দিলেন, “ওই আধিকারিকেরা যে পদমর্যাদার, যে রাজ্যেরই হোন না কেন, যে (রাজনৈতিক) আনুকূল্যই থাকুক না কেন— প্রত্যেককে নাম ধরে ধরে চিহ্নিত করা হবে। তাঁদের বিরুদ্ধে চার্জশিট গঠন করা হবে এবং আদালত পর্যন্ত টেনে নিয়ে যাওয়া হবে। অন্য রাজ্য হওয়ায় তাঁরা কোনও রক্ষাকবচ পাবেন না, রাজনৈতিক দায়মুক্তিও পাবেন না। প্রত্যেকের বিরুদ্ধেই আইনানুগ পদক্ষেপের জন্য পূর্ণ শক্তি প্রয়োগ করা হবে।”
বেআইনি গ্রেফতারির অভিযোগ তুলে রাজীব আরও বলেন, “আজ আমরা গ্রেফতার করলাম। দু’দিন পরে জামিন হয়ে গেল। ভোট হয়ে যাওয়ার আমরা ভুলে গেলাম, এমনটা হবে না। কেউ কোনও এজেন্সি বা কমিশনের পিছনে দাঁড়াতে পারবেন না। প্রত্যেককে ব্যক্তিগত ভাবে এর জবাব দিতে হবে।” পুলিশ পর্যবেক্ষকদের প্রসঙ্গে তাঁর ব্যাখ্যা, পর্যবেক্ষকদের কাজ পর্যবেক্ষণ করা। তাঁরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তাঁর পর্যবেক্ষণ জানাবেন। সেই কর্তৃপক্ষ পদক্ষেপ করবেন। পর্যবেক্ষকদের প্রসঙ্গে রাজীবের আরও প্রশ্ন, “হোটেলের ঘরে কোনও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের সঙ্গে কি তাঁরা একান্তে দেখা করতে পারেন?” যদিও এ বিষয়ে পরে বিস্তারিত মন্তব্য করেননি তৃণমূল সাংসদ।
তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিভিন্ন নির্বাচনী প্রচারসভায় দলীয় কর্মীদের ‘বেআইনি গ্রেফতারি’র আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। সম্প্রতি প্রশাসনের আধিকারিকদের একাংশকে সতর্ক করে দিয়ে মমতা বলেন, “যারা যারা এ সব করে বেড়াচ্ছ, ভেবো না আমরা লক্ষ রাখছি না। বিজেপি তো শিগগিরই যাবে, তোমরা যেখানেই থাকো আমি কিন্তু ক্ষীরের নাড়ু পাঠাব। সকলের নাম, ঠিকানা, ফোন নম্বর জোগাড় করে রাখছি।”
নির্বাচনমুখী পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলের ৮০০ কর্মীকে গ্রেফতার করা হতে পারে বলে সন্দেহ করছে তৃণমূল। তা নিয়ে মামলাও হয়েছে হাই কোর্টে। বুধবার সেই মামলায় সব পক্ষের বক্তব্য শুনে রায়দান স্থগিত রেখেছে হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ।