দু’মাসও নেই, ভারতে কি আদৌ দেখা যাবে ফুটবল বিশ্বকাপ! এখনও আগ্রহ দেখায়নি কোনও সংস্থা
আনন্দবাজার | ২২ এপ্রিল ২০২৬
চাপ বাড়ছে ফিফার উপর। কোনও উত্তর নেই ফিফা প্রধান জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর কাছে। ফুটবল বিশ্বকাপ শুরু হতে আর ৫০ দিন বাকি। কিন্তু এখনও ভারতে বিশ্বকাপের সম্প্রচারস্বত্ব কেনেনি কেউ। ভারতে কি আদৌ দেখা যাবে বিশ্বকাপ? স্টার, সোনির মতো চ্যানেলগুলি আগ্রহ না দেখানোয় সমস্যা বাড়ছে।
সমস্যা ম্যাচের সময় নিয়ে
১১ জুন থেকে আমেরিকা, মেক্সিকো ও কানাডায় শুরু হবে ফুটবল বিশ্বকাপ। না, ফুটবলের জনপ্রিয়তা বা দর্শকের সংখ্যা সমস্যা নয়। সমস্যা ম্যাচের সময়। আমেরিকা, মেক্সিকো ও কানাডায় খেলা হওয়ায় বেশির ভাগ ম্যাচ শুরু ভারতীয় সময় রাত ১২টার পর। রাত ১২.৩০, ৩.৩০, ভোর ৫.৩০ ও ৬.৩০-এ বেশির ভাগ খেলা রয়েছে। খুব কম খেলা রয়েছে রাত ৯.৩০। সকাল ৭.৩০ সময়ও কয়েকটি ম্যাচ রয়েছে। এই সময়ে বিজ্ঞাপনদাতাদের চাহিদা কম।
বড় দলের খেলা মধ্যরাতে
ভারতে মূলত ব্রাজ়িল ও আর্জেন্টিনার সমর্থক বেশি। পর্তুগাল, জার্মানি ও ইংল্যান্ডের সমর্থকও রয়েছেন। বড় দলগুলির বেশির ভাগ খেলা ভারতীয় সময় মধ্যরাত বা ভোরে। যেমন ব্রাজ়িলের গ্রুপ পর্বের তিনটি খেলার মধ্যে দু’টি রাত ৩.৩০ থেকে। নক আউট পর্ব অর্থাৎ, গ্রুপ অফ ৩২, গ্রুপ এফ ১৬-য় প্রতি দিন তিনটি করে ম্যাচ। শুরু ভারতীয় সময় রাত ১২.৩০, ৩.৩০ ও ভোর ৬.৩০। কোয়ার্টার ফাইনাল হবে রাত ১২.৩০ ও ৩.৩০। সেমিফাইনাল রাত ১.৩০ সময়। ফাইনাল শুরু হবে রাত ১২.৩০।
বিদেশি ফুটবল দেখার যাঁদের অভ্যাস তাঁদের কাছে রাত ১২.৩০ ম্যাচ শুরু সাধারণ ঘটনা। কিন্তু তার পরে তাঁরাও খেলা দেখতে অভ্যস্ত নন। অত রাতে দর্শকের সংখ্যা কম থাকে। ফলে সম্প্রচারকারী চ্যানেল বিজ্ঞাপনের খরচ তুলতে পারবে না। সন্ধ্যায় খেলা হলে একটি ১০ সেকেন্ডের বিজ্ঞাপনের যা খরচ, রাত ১২টার পর তা ১০ গুণ কমে যায়। রাত ৩.৩০ বা তার পর সেই খরচ আরও কমে। তাতেই হয়েছে সমস্যা।
ফিফার প্রস্তাব
ভারতে বিশ্বকাপের সম্প্রচারের জন্য শুরুতে ৯৩৮ কোটি টাকার প্রস্তাব দিয়েছিল ফিফা। এই টাকায় সম্প্রচারস্বত্ব কিনলে ২০২৬ ও ২০৩০ সালের ফুটবল বিশ্বকাপ দেখানোর অধিকার পাওয়া যেত। কিন্তু তাতে কেউ রাজি হয়নি। ফলে ফিফা নিজেই টাকার অঙ্ক কমিয়ে ৩২৮ কোটি টাকা করে। তাতেও কেউ আগ্রহ দেখাচ্ছে না। মনে করা হচ্ছে, টাকার অঙ্ক আরও কমিয়ে ২৩৪ কোটি টাকা করতে পারে ফিফা। তাতেও কি সমাধান মিলবে? অনিশ্চয়তা রয়েছে।
ক্রিকেট-ফুটবলের তফাত
ভারতে ক্রিকেটের রমরমা। সে দেশের খেলাই হোক বা আইপিএল। ৩১ মে পর্যন্ত আইপিএল চলবে। আইপিএলে একটি ম্যাচের জন্য ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডকে ১১৮ কোটি টাকা দেয় জিয়োহটস্টার। সেখানে তার দ্বিগুণ টাকায় দু’টি ফুটবল বিশ্বকাপ আয়োজনের সুযোগও নিতে চাইছে না তারা। বোঝা যাচ্ছে, সমস্যার গভীরতা ঠিক কতটা।
বিকল্প কম
তার মধ্যে এক নতুন সমস্যাও রয়েছে। ভারতীয় বাজারে এখন খেলা দেখায় দু’টি সংস্থা। জিয়োস্টার ও সোনি। ইতিমধ্যেই স্টার স্পোর্টসকে নিজেদের সঙ্গে যুক্ত করে নিয়েছে জিয়ো। ফলে বেশি বিকল্পও নেই। তাই এই দুই সংস্থার হাতেই নির্ভর করছে ফিফার ভাগ্য।
শেষ ভরসা দূরদর্শন
যদি কোনও বেসরকারি চ্যানেল ফুটবল বিশ্বকাপের সম্প্রচার করতে না চায়, তা হলে ফিফার কাছে একটিই বিকল্প পড়ে থাকবে। তা হল প্রসার ভারতী। সরকারি চ্যানেল দূরদর্শনে এর আগেও ফিফা প্রতিযোগিতা দেখানো হয়েছে। ২০২৩ সালে আমেরিকার একটি চ্যানেল ‘১স্টেডিয়া’-র সঙ্গে হাত মিলিয়ে মহিলাদের ফুটবল বিশ্বকাপ দেখিয়েছিল প্রসার ভারতী। সেই ভাবেই এ বারও বিশ্বকাপের সম্প্রচার করতে পারে তারা। কিন্তু তাতে মুখ পুড়বে ফিফার। ফুটবলের বিশ্বযুদ্ধের সাক্ষী ভারতের দর্শকেরা থাকতে না পারলে সমস্যায় পড়বেন ইনফান্তিনোও।