ভোটের আগের রাতে তৃণমূল ছাড়লেন গোপীবল্লভপুরের বিদায়ী বিধায়ক! শুভেন্দুর হাত ধরে বিজেপিতে খগেন্দ্র
আনন্দবাজার | ২৩ এপ্রিল ২০২৬
রাত পোহালেই ভোট জঙ্গলমহলে। প্রথম দফায় ভোটগ্রহণ হবে ঝাড়গ্রামের গোপীবল্লভপুরেও। তবে ভোটের আগের রাতে সেই তৃণমূলের গড় গোপীবল্লভপুরে ভাঙন। সেখানকার বিদায়ী বিধায়ক খগেন্দ্রনাথ মাহাতো তৃণমূল ছেড়ে যোগ দিলেন বিজেপিতে। সল্টলেকের বিজেপির কার্যালয়ে তাঁর যোগদানপর্বে উপস্থিত ছিলেন শুভেন্দু অধিকারী এবং রাজ্য সাধারণ সম্পাদক শশী অগ্নিহোত্রী।
খগেন্দ্রের এই যোগদান আকস্মিক বলে জানান শুভেন্দু। তাঁর কথায়, ‘‘আজ (বুধবার) বিকেলেই আমাদের সঙ্গে দেখা করেছিলেন খগেন্দ্রনাথ। কোনও শর্ত ছাড়াই বিজেপিতে যোগ দিতে চেয়েছিলেন। পেশায় তিনি চিকিৎসক। গোপীবল্লভপুর-সহ জঙ্গলমহলে প্রচুর মানুষকে সেবা করেন।’’ রাজ্যের বিরোধী দলনেতার মতে, তৃণমূলের ‘অপশাসনের’ বিরুদ্ধে বিজেপির লড়াইকে শক্ত করতেই খগেন্দ্রের দলবদল। শুভেন্দু বলেন, ‘‘দুর্নীতিগ্রস্ত সরকার সরাতে তিনি এসেছেন। অপশাসনের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে চলমান প্রচারকে ত্বরাণ্বিত করতে চান। চান বাংলায় পরিবর্তন।’’
শুভেন্দু আরও বলেন, ‘‘গোপীবল্লভপুর সংলগ্ন ওড়িশায় দেড় বছরে বিজেপি সরকার যা কাজ করেছে, তা দেখে মুগ্ধ খগেন্দ্র। তিনি চান পশ্চিমবঙ্গেও এই কাজ হোক। বিজেপির সংকল্পপত্রে কুড়মালি ভাষাকে অষ্টম তফসিলের অন্তর্ভুক্ত করার যে কথা রয়েছে, তাতে খুশি তিনি।’’ বিজেপিতে যোগ দিয়ে শুভেন্দুর কথাতেই সায় দেন গোপীবল্লভপুরের বিদায়ী বিধায়ক। তিনি বলেন, ‘‘আমি বিশ্বাসঘাতকতার শিকার। যেমন এক কথায় রাজনীতিতে এসেছিলাম। সেই ভাবেই বিজেপিতে এলাম। আমিও চাই পরিবর্তন হোক।’’
২০২১ সালে বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল প্রার্থী করেছিল খগেন্দ্রকে। ওই আসনে ২০১১ ও ২০১৬ সালে জিতেছিলেন চূড়ামণি মাহাতো। ২০২১ সালে তাঁর জায়গায় প্রার্থী করা হয়েছিল খগেন্দ্রকে। পাঁচ বছর ওই কেন্দ্রে বিধায়ক ছিলেন তিনি। তবে এ বারের নির্বাচনে তাঁকে আর টিকিট দেয়নি রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল। এ বার ওই কেন্দ্রে তৃণমূলের প্রার্থী ঝাড়গ্রাম পুরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর অজিত মাহাতো। তার পর থেকেই তৃণমূলের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করেছিলেন খগেন্দ্র। দলীয় কোনও নেতার ফোনও ধরছিলেন না। যোগাযোগ রাখেননি। অনেকেরই ধারণা হয়েছিল, দলবদল করবেন খগেন্দ্র।
সেই জল্পনা সত্যিই করে বুধবার রাতে কলকাতায় এসে বিজেপিতে যোগ দিলেন খগেন্দ্র। বিজেপির একাংশের কথায়, বৃহস্পতিবার প্রথম দফার ভোটের কথা মাথায় রেখেই বুধবার রাতে এই যোগদান।