দ্বিমেরু রাজনীতির ভাষ্য থেকে বেরিয়ে বিজেপি এবং তৃণমূল কংগ্রেস, দু’পক্ষকেই হারানোর জন্য পশ্চিমবঙ্গের মানুষের কাছে আবেদন জানালেন সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি। কেরলে ভোট এবং তামিলনাড়ুতে ভোটের প্রচার শেষ হওয়ার পরে এ রাজ্যে বামেদের প্রচারে এসেছেন সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক। আলিমুদ্দিন স্ট্রিটে বুধবার তিনি বলেছেন, ‘‘বাংলা এবং বাংলার মানুষের উন্নতির জন্য তৃণমূল ও বিজেপি এই দুই শক্তিকেই আমাদের পরাস্ত করতে হবে। দুই দলই গণতন্ত্রের উপরে আক্রমণ নামিয়ে এনেছে। বারবার দেখানোর চেষ্টা হচ্ছে, রাজ্যে শুধু বিজেপি ও তৃণমূলের মধ্যে লড়াই। কিন্তু এ বার ভাল ফল করবে বামপন্থীরা।’’ বেবির সংযোজন, ‘‘এই রাজ্যে বিজেপিকে জায়গা করে দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আবার মমতাকে বাজপেয়ী মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ সদস্য করে জাতীয় রাজনীতিতে জায়গা করে দিয়েছিল বিজেপি। বাংলার মানুষ অতীত ইতিহাস জানেন। তারা বিজেপি-তৃণমূলের ফাঁদে পা দেবেন না।’’
ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) নিয়ে নির্বাচন কমিশনকেও নিশানা করেছেন বেবি। তাঁর বক্তব্য, ‘‘স্বাধীনতার পরে প্রথম এ রাজ্যে এমন একটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে, যেখানে লক্ষাধিক মানুষ জানেন না তাঁরা নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন কি না! সাংবিধানিক পদে থেকে জ্ঞানেশ কুমার বিজেপির হয়ে কাজ করছেন।’’ কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের উদ্দেশে তাঁর তোপ, ‘‘অমিত শাহ ‘ক্রোনোলজি’র কথা বলেছিলেন। সিএএ, এনআরসি, এসআইআর এক একটি ধাপ ফ্যাসিবাদী হিন্দু রাষ্ট্র তৈরি করার জন্য।’’ দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে রাজ্যে প্রচারে থাকবেন বেবি, বৃন্দা কারাটেরা।
নদিয়ার পলাশিতে এ দিনই কালীগঞ্জের সিপিএম প্রার্থী, বোমায় নিহত ছোট্ট তামান্নার মা সাবিনা ইয়াসমিনকে নিয়ে মিছিলে ছিলেন বামফ্রন্টের চেয়ারম্যান বিমান বসু। দুর্নীতিগ্রস্ত তৃণমূল ও সাম্প্রদায়িক বিজেপিকে হারানোর ডাক দিয়েছেন তিনি। পরে উত্তর ২৪ পরগনার নোয়াপাড়ার সিপিএম প্রার্থী গার্গী চট্টোপাধ্যায়ের সমর্থনে শ্যামনগরে চৌরঙ্গি মোড় থেকে পলতা বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত মিছিলে যোগ দিয়েছিলেন বিমান। উত্তর ২৪ পরগনারই স্বরূপনগরে ভিড়ে ঠাসা সভায় বক্তা ছিলেন সিপিএমের পলিটব্যুরোর প্রাক্তন সদস্য হান্নান মোল্লা।