• পহেলগামকে সামনে রেখে পরস্পরকে তির শাহ-মমতার
    আনন্দবাজার | ২৩ এপ্রিল ২০২৬
  • পহেলগাম— কাশ্মীরের সেই রক্তাক্ত ভূখণ্ডকেই পরস্পরের বিরুদ্ধে অস্ত্র করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অমিত শাহ।

    পহেলগামে সন্ত্রাসবাদী হানার ঠিক এক বছরের মাথায় বুধবার রাজ্যের নির্বাচনী প্রচারে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ বলেছেন, ‘‘মমতা ও কংগ্রেসের সরকার আতঙ্কবাদীদের বিরিয়ানি খাওয়াত। আমাদের সরকার আসার পরে, নরেন্দ্র মোদী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পরে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক হয়েছে। ‘এয়ার স্ট্রাইক’ হয়েছে। পুলওয়ামার হামলার পরে অপারেশন সিঁদুর করা হয়েছে। পাকিস্তানের ঘরে ঢুকে আতঙ্কবাদীদের সাফাই করা হয়েছে।’’ আর ভোটের আগে রাজ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতি প্রসঙ্গে মমতা বলেছেন, ‘‘পহেলগামে যখন মানুষ মারা যায়, তোমার সাঁজোয়া বাহিনী কোথায় থাকে? দিল্লিতে যখন আক্রমণ হয়, তখন তোমার কেন্দ্রীয় বাহিনী কী করে? ডান্স করে, না কোলাকুলি করে! ’’

    নির্বাচনী মরসুমে প্রবাসে এখন এ রাজ্যে রয়েছেন শাহ। সকাল থেকে হুগলি, হাওড়া ও দুই ২৪ পরগনায় তিনটি সভা ও একটি রোড-শো’য় অংশ নেন তিনি। তিন সভা থেকেই রাজ্যের অনুপ্রবেশ ও আইনশৃঙ্খলা সমস্যা নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসকে বিঁধেছেন শাহ। তিনি বলেছেন, ‘‘আমরা প্রতিটি অনুপ্রবেশকারীকে খুঁজে বার করে দেব। অনুপ্রবেশকারীরা বাংলার যুবকদের চাকরি খেয়েছে। গরিব মানুষদের রেশন খেয়েছে। অনুপ্রবেশকারীরা দেশের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। আগামী ৬ তারিখের পরে অনুপ্রবেশকারীদের পলায়ন শুরু হয়ে যাবে।’’ এই প্রশ্নেই পাল্টা শাহ তথা বিজেপির দিকে আঙুল তুলে মমতা বলেন, ‘‘সবাইকে অনুপ্রেবশকারী বলছো। আমাদের জম্ম-কর্ম সব এখানে। আর আমাদের বলছে, বাংলাদেশি!’’ সংখ্যালঘুদের ভোটের আগে হজে চলে যেতে বলা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন মমতা। তিনি বলেন, ‘‘ভোট নষ্ট করে কেউ যাবেন না। পরে যান। আমরা সব ব্যবস্থা করে দেব।’’

    রাজ্যে ‘কাটমানি’ ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ে দলীয় সভায় সরব কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘‘দিদির গুন্ডাদের বলে যেতে চাই, ২৯ তারিখ ঘরের বাইরে বার হবে না। তা না হলে ৫ তারিখ (ফল ঘোষণার পর দিন) উল্টো করে ঝুলিয়ে শায়েস্তা করা হবে!’’ তার পরেই তৃণমূল নেত্রীর উদ্দেশে তাঁর মন্তব্য, ‘‘দিদি কান খুলে শুনে রাখবেন, ৫ তারিখ হিসাব বরাবর করে দেব!’’ দলের মঞ্চ থেকে মমতাও পাল্টা বলেছেন, ‘‘দিল্লি থেকে এসেছে জগাই-মাধাই! সঙ্গে এনেছে ইডি, সিবিআই। বলছে, তৃণমূলের কাউকে বাইরে রাখা যাবে না।’’ মমতার জবাব, ‘‘তৃণমূলের কেউ বাইরে না- থাকলেও ভোট মানুষ দেবে। আমরা আগের বারের থেকেও বেশি আসন পাব।’’ দলের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘‘কেন্দ্রীয় বাহিনীকে কেউ ভোট দিতে দেবেন না।’’

    অনুপ্রবেশ প্রশ্নে বারবার অসম সরকারের দিকে আঙুল তুলে এনআরসি এবং ডিটেনশন ক্যাম্পের কথা বলেন মমতা। বনগাঁয় দলীয় প্রার্থীদের সমর্থনে প্রচারে এসে অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্তবিশ্ব শর্মা এ দিন পাল্টা বলেছেন, ‘‘দিদি এক বার অসমে এসে দেখে যান, ডিটেনশন ক্যাম্পে কোনও হিন্দু নেই। বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী মুসলিম আছে। এক জনও হিন্দু থাকলে আমি রাজনীতি করব না!’’ তাঁর কথায়, ‘‘পশ্চিমবঙ্গে এক বার বিজেপি সরকার এলে এমন কাঁটাতার বানাব, হাত দিলেই কারেন্ট লাগবে!’’

    এই প্রশ্নে এ দিনও বিজেপিকে আক্রমণ করেছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। দক্ষিণ ২৪ পরগনার জয়নগরে এক সভায় তিনি বলেন, ‘‘যারা আমাদের বাংলাদেশি বলেছে, মনীষীদের অসম্মান করেছে, তাদের শিক্ষা দেওয়ার ভোট হবে এখানে। প্রথম দফায় (বৃহস্পতিবার) উত্তরবঙ্গ ও জঙ্গলমহলেও ওরা সেই জবাব পাবে।’’ উত্তর ২৪ পরগনার নোয়াপাড়ায় পিনকল বাবু কোয়ার্টার থেকে ইছাপুর স্টোর বাজার পর্যন্ত রোড-শো করতে গিয়েও অভিষেকের মন্তব্য, ‘‘এই রোড-শো দেখে মনে হচ্ছে, বিজয় উৎসব ইতিমধ্যেই হয়ে গিয়েছে! জয় শুধু সময়ের অপেক্ষা। অমিত শাহ ও নরেন্দ্র মোদী রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে ব্যঙ্গ করেছেন। অনুরোধ করছি, মাথা ঠান্ডা রাখুন, জল খান। অর্জুন সিংহ পদ্মফুলের জায়গায় এ বার সর্ষেফুল দেখবে। দু’বছর আগে ব্যারাকপুরে যে হেরেছে, আবার হারবে। নোয়াপাড়ায় ভাটপাড়ার সন্ত্রাস নিয়ে আসতে চাওয়া এই হার্মাদকে স্কুলে দু’বার ফেল করলে যেমন টিসি দেয়, তেমনই এ বার টিসি ধরাবেন!’’
  • Link to this news (আনন্দবাজার)