স্টেশন, বাস স্ট্যান্ডে ব্যাগপত্র নিয়ে উপচে পড়ছে মানুষের ভিড়। করোনা-কালে লকডাউনের সময়ে বাড়ি ফেরার চেষ্টার ছবি যেন ফিরে এল বুধবার, বিধানসভা ভোটের প্রথম দফার আগের দিন। ভিন্-রাজ্য থেকে ফিরলেন বহু পরিযায়ী শ্রমিক। তবে ভোট দিতে বাড়ি পৌঁছনোর যানবাহন পেতে নাকাল হলেন অনেকে। বাসে ঝুলে, ট্রেনে গাদাগাদি করে রওনা দিলেন বাড়ির পথে।
কেরল থেকে মুর্শিদাবাদে ফেরার জন্য আসানসোল স্টেশনে ট্রেন থেকে নেমেছিলেন আনারুল মণ্ডল, কেশব সিংহেরা। ভোটের জন্য প্রশাসন অনেক বাস নিয়ে নেওয়ায়, বাড়ি ফেরার বাস পাননি। আনারুলেরা জানান, মোটা টাকা দিয়ে গাড়ি ভাড়া করতে হচ্ছে তাঁদের। লালগোলা, জঙ্গিপুর টাউন স্টেশনে নেমে অনেকে বাস বা ট্রাকে ওঠেন। পরিযায়ী শ্রমিকদের অধিকার রক্ষা নিয়ে সক্রিয় একটি মঞ্চের মুখ ভগবানগোলার আসিফ ফারুকের কথায়, “লালগোলা, ভগবানগোলায় পরিযায়ী শ্রমিক ঘরে ঘরে। ভিন্-রাজ্যে অনেকের উপরে বাংলাদেশি সন্দেহে নির্যাতন হয়েছে। এখন অনেকেই ভোটের কালি হাতে লাগাতে মরিয়া হয়ে ঘরে ফিরছেন।’’
পুরুলিয়া বাস স্ট্যান্ডে ওড়িশা থেকে ফেরা পরিযায়ী শ্রমিক শেখ আনারুল, শেখ আমির খানেরা এ দিন বলেন, ‘‘কোনও বাস নেই। চড়া ভাড়া দিয়ে টোটোয় ফিরতে হবে।’’ বীরভূমের রামপুরহাট স্টেশনে নেমে অনেককে বহরমপুর, রঘুনাথগঞ্জ যাওয়ার বাসের মাথায় গাদাগাদি করে চাপতে দেখা যায়। ১৪ নম্বর জাতীয় সড়কের ধারে নানা জায়গায় পরিযায়ী শ্রমিকেরা গাড়ির জন্য অপেক্ষা করেন। পশ্চিম মেদিনীপুরের কেশপুরের মহিষদা গ্রামের সুশান্ত মাল জানান, বেঙ্গালুরুর একটি হ্যাচারিতে কাজ করেন। সপরিবার ভোট দিতে ফিরেছেন। তাঁর কথায়, ‘‘আমি ও স্ত্রী ট্রেনের অসংরক্ষিত কামরায় প্রায় পুরোটাই দাঁড়িয়ে এসেছি। যত কষ্টই হোক, ভোটটা দিতে হবে।’’ আর এক পরিযায়ী শ্রমিক জয়দেব মেটারির কথায়, ‘‘তিন মাস আগে সংরক্ষিত কামরার টিকিট কাটার চেষ্টা করেও পাইনি। অগত্যা অসংরক্ষিত কামরায় দাঁড়িয়ে এসে অসুস্থ হওয়ার দশা।’’
ভোটের জন্য সরকারি, বেসরকারি বহু বাস তুলে নেওয়ায় উত্তরবঙ্গে যাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয় বুধবার। শিলিগুড়ির তেনজিং নোরগে বাস স্ট্যান্ডে ক্ষুব্ধ যাত্রীদের একাংশ টিকিট কাউন্টার ভাঙচুর করেন বলে অভিযোগ। জলপাইগুড়ি, কোচবিহার, মালদহ, দুই দিনাজপুর— সর্বত্রই দুর্ভোগের অভিযোগ উঠেছে। উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ নিগম সূত্রে জানা গিয়েছে, অন্য দিন যেখানে ছ’শো বাস চলে, এ দিন সেখানে প্রায় দু’শো বাস রাস্তায় নেমেছিল। নিগমের ম্যানেজিং ডিরেক্টর দীপঙ্কর পিপলাইয়ের অবশ্য দাবি, ‘‘আমরা যাত্রী পরিষেবায় সাধ্য মতো বাস নামিয়েছি।’’
এ দিন আমডাঙায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য, ‘‘কাল রাত থেকে কোলাঘাটে কেউ যেতে পারছে না। রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছে। পশ্চিম মেদিনীপুরে রেল, রাস্তা ব্লক করে দিয়েছে। ভেবেছে দু’দিনের জমিদারি করবে।’’ কোলাঘাটের এক পুলিশ আধিকারিক জানান, জাতীয় ও রাজ্য সড়কে যানজট নেই। বিজেপির তমলুক সাংগঠনিক জেলার সহ-সভাপতি দেবব্রত পটনায়কের কটাক্ষ, ‘‘সাধারণ মানুষ অত্যাচার থেকে বাঁচতে এ বার নির্বাচনে তৃণমূলকেই ‘ব্লক’ করবেন।’’