• ভরতপুরে বুথে অশান্তি, ইভিএম বিকল বহরমপুরে,পুনর্নির্বাচনের দাবিতে কমিশনের দ্বারস্থ কংগ্রেস
    আনন্দবাজার | ২৪ এপ্রিল ২০২৬
  • প্রথম দফার ভোট চলাকালীন মুর্শিদাবাদের ভরতপুর ও বহরমপুর—দু’টি বিধানসভা কেন্দ্রেই অনিয়মের অভিযোগ তুলে সরব হল কংগ্রেস। বুথ দখল থেকে ইভিএম বিকল—একাধিক অভিযোগ এনে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তুলল কংগ্রেস। বৃহস্পতিবার কংগ্রেস নেতা নিলয় প্রামাণিক মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ অগ্রবালের কাছে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন।

    কংগ্রেসের অভিযোগ, ভরতপুর বিধানসভা কেন্দ্রের একাধিক বুথে পোলিং এজেন্টদের জোর করে বার করে দেওয়া হয়। সালার থানার অন্তর্গত ১৫৭, ১৫৮, ১৫৯, ১৬০, ১৬৪, ১৬৫, ১৬৬, ১৬৭, ১৬৮ ও ১৬৯ নম্বর বুথে এই ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি। তাঁদের আরও অভিযোগ, এজেন্টদের সরিয়ে দেওয়ার পর শাসকদলের কর্মীরাই বেআইনি ভাবে ভোট পরিচালনা করেন। কংগ্রেসের মতে, এই পরিস্থিতি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার পরিপন্থী এবং ভোটের স্বচ্ছতাকে মারাত্মক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। কংগ্রেস দাবি করেছে, একাধিক বার প্রশাসনকে জানানো হলেও তৎপরতার সঙ্গে কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি। উল্টে অভিযোগ জানাতে প্রতিনিধিদের থানায় যেতে বলা হয়। পাশাপাশি দ্রুত প্রতিক্রিয়া বাহিনী (কিউআরটি) সরিয়ে নেওয়ায় বুথগুলিতে নিরাপত্তার অভাব তৈরি হয়েছে বলেও অভিযোগ। স্থানীয় শাসকদলের নেতাদের ভূমিকা এবং কিছু পুলিশকর্মীর সঙ্গে তাঁদের যোগসাজশের অভিযোগও তোলা হয়েছে।

    এই প্রেক্ষিতে কংগ্রেসের দাবি—প্রভাবিত বুথগুলিতে পুনর্নির্বাচন, পোলিং এজেন্টদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা গ্রহণ। অন্যদিকে, বহরমপুর বিধানসভা কেন্দ্রের ১৪১ নম্বর বুথে ইভিএম বিকল হয়ে ভোটগ্রহণে দীর্ঘ সময় বিঘ্ন ঘটে বলে অভিযোগ। সকাল ৮টা ২৫ মিনিটে প্রথম সমস্যা ধরা পড়লেও দুপুর ১২টা ৪৭ মিনিট পর্যন্ত তা মেরামত হয়নি। ফলে বহু ভোটার ভোট না দিয়েই ফিরে যেতে বাধ্য হন। প্রার্থী অধীররঞ্জন চৌধুরী একাধিক বার বিষয়টি জানালেও কোনও কার্যকর পদক্ষেপ হয়নি বলে অভিযোগ। কংগ্রেসের দাবি, দ্রুত ইভিএম মেরামত বা পরিবর্তনের পাশাপাশি ভোটারদের অধিকার রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রয়োজনে ভোটের সময় বৃদ্ধি বা পুননির্বাচনের ব্যবস্থার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। দু’টি ঘটনাকেই অত্যন্ত গুরুতর বলে দাবি করে কংগ্রেস নেতৃত্বের বক্তব্য, নির্বাচন প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখতে অবিলম্বে নির্বাচন কমিশনের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
  • Link to this news (আনন্দবাজার)