• ‘মাস্টার-প্ল্যান’ কি কাজে আসবে, চর্চা সিপিএমে
    আনন্দবাজার | ২৪ এপ্রিল ২০২৬
  • মাথায় লাল টুপি। গলায় ঝোলানো দলের প্রতীক আঁকা উত্তরীয়। এক গ্রাম থেকে অন্য গ্রামে হেঁটে চলেছেন মাস্টার মশাই। সঙ্গী লাল ঝান্ডা কাঁধে দলের কর্মী-সমর্থকেরা। দুপুরে একটু বিশ্রাম সেরে ফের শুরু হচ্ছে প্রচার। বাড়ি ফিরছেন রাতে। প্রার্থী ঘোষণার পর থেকে এটাই রুটিন পূর্বস্থলী উত্তরের সিপিএম প্রার্থী প্রদীপ কুমার সাহার। ২০১৬-এ এই আসনে জিতেছিলেন প্রদীপ। তাঁর দাবি, ‘‘এ বার প্রচারে সাড়া মিলছে ভাল। মানুষের উচ্ছ্বাস দেখে মনে হচ্ছে হারানো ভোট আমাদের বাক্সে ফিরছে।’’ কুলকামিনী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন প্রধান শিক্ষিক প্রদীপ বহু দশক ধরে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। সমাজসেবার সঙ্গে যুক্ত থাকেৃন সারা বছর। সিপিএমের দাবি, মাস্টার মশাইয়ের নিজস্ব ভোটব্যাঙ্ক রয়েছে।

    ২০১১ থেকে পূর্বস্থলী উত্তরে টানা সিপিএমের প্রার্থী হয়ে আসছেন প্রদীপ। ২০১৯ লোকসভা নির্বাচনে বামেদের ভোটব্যাঙ্কে ধস নামায় দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসে বিজেপি। ২০২১ বিধানসভা ভোটে প্রদীপ হারেন তৃণমূল প্রার্থী তপন চট্টোপাধ্যায়ের কাছে। গত পঞ্চায়েত ভোটে এই কেন্দ্রের অধীন পূর্বস্থলী ২ ব্লকের তিনটি পঞ্চায়েত দখল করে বিজেপি। ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনের ফল বলছে, পূর্বস্থলী উত্তরে বিজেপির থেকে তৃণমূল এগিয়ে রয়েছে মাত্র ৩২৬৮ ভোটে। বাম-কংগ্রেস জোট পেয়েছে ২৩,২১১টি। এ বার এই কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী করেছে বাম জমানার প্রয়াত পূর্তমন্ত্রী ক্ষিতি গোস্বামীর মেয়ে বসুন্ধরা গোস্বামীকে। বিজেপির পাশাপাশি প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছে কংগ্রেসও। এই চতুর্মুখী লড়াইয়ে জয়ের আশা কতটা? সিপিএম প্রার্থীর দাবি, ‘‘তৃণমূল, বিজেপিতে চলে যাওয়া মানুষেরা আমাদের কাছে ফিরছেন। লড়াইয়ে রয়েছি। জেতার আশা করছি।’’

    তৃণমূল ও বিজেপির আগে ভোটপ্রচারে নেমেছেন প্রদীপ। জোর দিয়েছেন প্রত্যন্ত গ্রামে ছোটো মিছিল ও সভায়। এখনও পর্যন্ত কম-বেশি ৫০টি মিছিল হয়েছে। আর দিন চারেকের মধ্যে সমস্ত এলাকায় হেঁটে প্রচার শেষ করবেন তিনি। তার পরে জোর দেওয়া হবে পথসভায়।

    বামেরা যাই ভাবুন, সিপিএম এই কেন্দ্রে ভোট বাড়াতে পারবে বলে মনে করছে না তৃণমূল। পূর্বস্থলী উত্তর বিধানসভা এলাকা থেকে অতীতে তৃণমূলের টিকিটে জয়ী প্রাক্তন জেলা পরিষদ কর্মাধ্যক্ষ দেবাশিস নাগ বলেন, ‘‘হারানো ভোট আর ফিরে পাবে না সিপিএম। উল্টে সিপিএম এবং বিজেপির অনেক ভোট এ বার আমাদের বাক্সে আসবে। আমাদের জয়ের ব্যবধান বাড়বে।’’ যদিও তৃণমূলের আর এক নেতা মনে করেন, ‘‘মাস্টার মশাইয়ের নিজস্ব ভোটব্যাঙ্ক রয়েছে। প্রচারও করছেন জোর কদমে। বিজেপিতে যাওয়া ভোট কিছুটা সিপিএমে ফিরলে আমাদের লাভ।’’ বিজেপি প্রার্থী গোপাল চট্টোপাধ্যায়ের বক্তব্য, ‘‘সিপিএম প্রার্থীর মাস্টার মশাই নামে পরিচিতি রয়েছে ঠিকই, তবে মানুষ ভোট দেবেন প্রতীক দেখে। সিপিএম এখন ডুবন্ত জাহাজ। ওদের ভরসায় অঙ্ক না কষলেই ভাল করবে তৃণমূল। এই কেন্দ্রে পদ্ম ফুটবে।’’
  • Link to this news (আনন্দবাজার)