সোনারপুর দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী অভিনেত্রী লাভলি মৈত্র। নির্বাচন না মেটা পর্যন্ত সোনারপুরেই থাকছেন তিনি। সময় কাটাচ্ছেন এলাকার মানুষের সঙ্গে। কখনও নির্বাচনী প্রচার, কখনও আবার সাধারণের সুবিধা-অসুবিধার খোঁজ নেওয়া। আর এই ব্যস্ততার মাঝে অনেকটাই অন্য রকম হয়ে গিয়েছে তাঁর যাপন।
নির্বাচন শুরুর আগে পুরোদমে ধারাবাহিকে অভিনয় করছিলেন লাভলি। ফলে একটা নিয়মে থাকতেই হত। শরীরচর্চা থেকে নিয়মমাফিক খাওয়াদাওয়া— এখন কি সে সব করতে পারছেন? খুব যে নিয়মে হেরফের হচ্ছে তা নয়, তবে অভিনেত্রী বললেন, “আগে নিয়মিত জিমে যেতাম। সেটা এখন হচ্ছে না। আর চা-কফি খাওয়া কমিয়ে দিয়েছি। একেবারে খাচ্ছি না বললেই চলে।”
দিনের শুরুতে চিনি ছাড়া কালো কফি না হলে একেবারেই চলত না অভিনেত্রী লাভলির। কিন্তু এখন সেটাও একেবারেই কমিয়ে দিয়েছেন। লাভলি বলেন, “আগে তো ঘুম থেকে উঠেই কালো কফি খাওয়ার অভ্যাস ছিল। তা একেবারে বন্ধ করে দিয়েছি। এত গরম। মাইগ্রেনের সমস্যা রয়েছে আমার। কফি খেলে মাইগ্রেনের সমস্যা আরও বেশি বাড়ে।”
এই গরমে বাড়ির তৈরি খাবারই এখন লাভলির ভরসা। স্নান সেরে জলখাবারে রুটি-তরকারি খেয়েই বেরিয়ে পড়েন নির্বাচনের কাজে। এই সময় শরীর সুস্থ রাখতে এবং গরমে নিজেকে ঠিক রাখতে বেশি করে ডাবের জল খান লাভলি। তিনি যোগ করেন, “আমি সব সময়ই মেপে খাবার খাই। তবে একটা জিনিস ছাড়া কিছুতেই চলে না আমার। সেটা হল ভাত। আমি হলাম একেবারে ভেতো বাঙালি। রাত হোক বা দুপুর— দু’বেলা ভাত না খেলে চলে না আমার। জানি, অনেকেই হিংসা করবেন এ কথা শুনলে।” দু’বেলা ভাত না খেলে তাঁর নাকি মনেই হয় না যে, কিছু খেয়েছেন।
হালকা খাওয়াদাওয়া এবং রোদ থেকে ত্বককে বাঁচানোর জন্য সানস্ক্রিন— এখন এই দুটোই লাভলির কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি যোগ করেন, “আলাদা করে যে কোনও রূপচর্চা করছি, তা নয়। কারণ, সারা বছর ওইটুকু আমি করেই থাকি। যেমন রাতে ফেসওয়াশ দিয়ে ভাল করে মুখ ধুয়ে, টোনার লাগাই। তার পরে নাইট ক্রিম মেখে ঘুমোতে যাই। এই অভ্যাস আমার অনেক দিনের ।” লাভলি জানিয়েছেন, তিনি রূপচর্চা করতে খুব একটা ভালবাসেন না। অভিনয়ের জন্য বাধ্য হয়ে করতে হয়। কিন্তু, তা ছাড়া মেকআপ না করে থাকতেই বেশি পছন্দ করেন তিনি। লাভলি বলেন, “প্রচারের জন্য রোদে ঘুরতে হচ্ছে, তাই মূলত সানস্ক্রিনই মাখছি। ব্যস এটুকুই। এই গরমে এর চেয়ে বেশি মেকআপ মোটেই সম্ভব নয়।”
নির্বাচনের সময় সাধারণত প্রার্থীরা বিশেষ কিছু পোশাক বাছাই করেন। যেমন বরাহনগরের বিধায়ক সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়কে মূলত শাড়িতেই দেখছেন দর্শক। লাভলির ক্ষেত্রেও কি এমন কোনও বিশেষ পোশাক রয়েছে, যা নির্বাচনী প্রচারের ক্ষেত্রেই শুধুমাত্র পরেন? অনেকের আবার ধারণা, প্রার্থীরা তাঁদের পছন্দসই পোশাকশিল্পীদের তৈরি করে দেওয়া পোশাক পরেই প্রচারে যান। সোনারপুর দক্ষিণের প্রার্থীর কাছে ব্যাপারটা এমন নয়। লাভলি বললেন, “সারা বছরই সুতির পোশাক পরি আমি। আমার আলমারি ঘেঁটে আর কোনও কাপড়ের পোশাক পাবে না কেউ। সুতির শাড়ি, সুতির চুড়িদার পরতে আমি খুব ভালবাসি।” রোদে নিজের এলাকার নানা জায়গায় যেতে হচ্ছে লাভলিকে। তাই এই সময়ে অভিনেত্রী নিজে যে ধরনের পোশাকে আরাম পান, সেটাই পরেন। লাভলি যোগ করেন, “আমি সুতির শাড়ি পরেই প্রচারে বেরোই। তাতে কষ্টটা কম হয়।”
এক মাসেরও বেশি হল সোনারপুরে থাকছেন লাভলি। সেখানে তাঁর একটা ছোট সংসার আছে। অনেক দিন মেয়ের সঙ্গেও দেখা হয়নি তাঁর। মেয়ের স্কুল চলছে। ফলে সে বাড়িতেই আছে। সারা দিন দলের কাজ, নির্বাচনের ব্যস্ততার ফাঁকে, ‘ভিডিয়ো কলে’ মেয়ের খোঁজ নেওয়া চলছে। নির্বাচন মিটলে আবার নিজের পুরনো রুটিনে ফিরবেন লাভলি।