ভোট মিটেছে। ভোটদানের হার বাড়ায় বর্ধিত ভোট কোন পক্ষে যেতে পারে, চর্চা শুরু হয়েছে জেলার রাজনৈতিক অলিন্দে। বিরোধীদের দাবি, এই প্রবণতা প্রতিষ্ঠান-বিরোধিতাকে ইঙ্গিত করে। শাসক দল অবশ্য বর্ধিত ভোটদানের হারকে উন্নয়নের পক্ষে সমর্থন হিসাবে দেখছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, পুরুলিয়ায় এসআইআর-পর্বে কম-বেশি দু’লক্ষ ভোটার বাদ পড়েছেন। তাই মোট ভোটারের নিরিখে এ বার দু’শতাংশের মতো ভোটই বেশি বেড়েছে। তবে যে আসনগুলিতে লড়াই সমানে সমানে, সেখানে বর্ধিত ভোটদান প্রভাব ফেলতে পারে। সেখানে নির্ণায়ক হতে পারে পরিযায়ী-ভোটের অভিমুখ।
ঘটনা হল, এসআইআর প্রক্রিয়ায় জেলায় প্রথমে ভাল সংখ্যক ভোটারের নাম বাদ পড়েছিল। পরে শুনানিতে নাম অন্তর্ভুক্ত হলেও ঝক্কি পোহাতে হয়েছে। ওই ভোটারদের একাংশের আশঙ্কা ছিল, ভোট না দিলে হয়তো নাম পুরো বাদ যেতে পারে। তাই তাঁরা বুথমুখী হন। একই আশঙ্কায় এ বার ভাল সংখ্যায় পরিযায়ী শ্রমিকও ভোট দিতে ফিরেছিলেন। যা ভোটদানের হার বাড়িয়েছে বলে মত অনেকের। ভোটদানের হার সব চেয়ে বেশি বলরামপুর কেন্দ্রে (৯২.২৭ শতাংশ), সর্বনিম্ন কাশীপুরে (৮৬.৫৪ শতাংশ)।
বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, এই রাজ্যে কাজ না পেয়ে জেলার বহু শ্রমিক ভিন্ রাজ্যে পাড়ি দিয়েছেন। তৃণমূলের সরকারকে উৎখাত করার লক্ষ্যেই তাঁরা নিজেরা খরচ করে গুজরাত, রাজস্থান, ছত্তীসগঢ়ের মতো বিজেপি-শাসিত রাজ্যগুলি থেকে বাড়ি ফিরেছেন ভোট দিতে। পুরুলিয়ার বিজেপির সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতোর দাবি, ”রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের লক্ষ্যেই এ বারে বেশি ভোটার লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দিয়েছেন।”
পাল্টা তৃণমূলের দাবি, এসআইআর-পর্বের ভোগান্তি যে বিজেপির কারণে পোহাতে হয়েছে, ভোটারেরা তা ভালই জানেন। ক্ষুব্ধ ভোটারেরা বিজেপিকে শিক্ষা দিতেই ভোটের লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন। দলের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট সুষেণ মাঝি বলেন, ”সব সময়ে বর্ধিত ভোট প্রতিষ্ঠান-বিরোধী হয় না। এ বার ভোট বেড়েছে পরিযায়ী শ্রমিকদের ফিরে আসা ও এসআইআরের আতঙ্কে। পরিযায়ীরা ভোটাধিকার হারানোর আশঙ্কায় বিজেপিকে শিক্ষা দিতেই ভোট দিতে ফিরেছেন। ভোটারেরা সামগ্রিক ভাবেও বাংলার উন্নয়নকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে বুথমুখী হয়েছিলেন।”
যদিও পরিযায়ী ভোট কোনও ভাবেই তৃণমূল পাবে না, দাবি করছে কংগ্রেস। দলের জেলা সভাপতি নেপাল মাহাতো মনে করাচ্ছেন, পঞ্চায়েত নির্বাচনে এর চেয়ে বেশি ভোট পড়ে। রাজনৈতিক দলগুলিই উদ্যোগী হয়ে পরিযায়ী শ্রমিকদের ফিরিয়ে আনে। তবে এ বার তাঁরা নিজেরাই ফিরেছেন। নেপালের মতে, ‘‘এই রাজ্য থেকে মূলত বিজেপি-শাসিত রাজ্যেই কাজে যান শ্রমিকেরা। তাঁরা ফিরে দলগুলির স্থানীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে যে ভাবে যোগাযোগ করেননি। চুপচাপ ভোট দিয়েছেন। কার পক্ষে তাঁদের ভোট, তা বড় ফ্যাক্টর হতে পারে। তবে তৃণমূলের পক্ষে যাবে না।”
বর্ধিত ভোট কোন পক্ষে যাবে, তা নিয়ে মন্তব্যে নারাজ সিপিএম। দলের পুরুলিয়ার সম্পাদক প্রদীপ রায় বলেন, ‘‘নির্বাচনে সর্ব ক্ষেত্রেই তৃণমূল ও বিজেপি, এই মেরুকরণের চেষ্টা চলেছে। আমরা তা ভেঙে নির্বাচনে লড়াই করেছি। আমাদের প্রতি ভোটারদের সমর্থন বাড়বে।”