বিধানসভা নির্বাচনে কোচবিহার জেলায় ৯৬.৪ শতাংশ ভোট পড়েছে। নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রাথমিক ভাবে মনে করা হচ্ছে ভোটদানের ওই হার দেশের মধ্যে রেকর্ড। তার মধ্যে শীতলখুচিতে ৯৭.৫৩ শতাংশ ভোট পড়েছে। এর পরেই রয়েছে মেখলিগঞ্জ। সেখানে ৯৬.৮৭ শতাংশ ভোট পড়েছে। বাকি কেন্দ্রগুলিতেই ভোট পড়েছে ৯৫ শতাংশের আশপাশেই। বাড়তি ভোট কার বাক্সে তা নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে। প্রশাসন সূত্রে অবশ্য মনে করা হচ্ছে, ধারাবাহিক প্রচারেই ভোটদানে মানুষকে ভোটকেন্দ্র পর্যন্ত টেনে আনা সম্ভব হয়েছে। কোচবিহারের জেলাশাসক জিতিন যাদব বলেন, "এ বার ভোটদানে মানুষকে উৎসাহিত করা গিয়েছে। ধারাবাহিক প্রচারেই এই সাফল্য মিলেছে।’’
নির্বাচন কমিশন যে তথ্য প্রকাশ করেছে, তাতে শীতলখুচিতে ৯৭.৬৮ শতাংশের পাশাপাশি, মেখলিগঞ্জে ৯৬.৮৭, মাথাভাঙায় ৯৫.৯৬, কোচবিহার উত্তরে ৯৫.৪৫, কোচবিহার দক্ষিণে ৯৪.৭৬, সিতাইয়ে ৯৬.৫৪, দিনহাটায় ৯৫.৭, নাটাবাড়িতে ৯৫.৮২ এবং তুফানগঞ্জে ৯৫.৩৯ শতাংশ ভোট পড়েছে। ভোটদানের ওই হার আগের নির্বাচনগুলির তুলনায় অনেকটাই বেশি। আগে যেখানে ৮৫ শতাংশের আশেপাশে ভোট পড়ত, সেখানে এত ভোট বেশি পড়ায় শাসক-বিরোধী দু’দলই তা নিয়ে চর্চা শুরু করেছে। তৃণমূল অবশ্য দাবি করেছে, ভোট বেশি পড়েছে বিষয়টি সে রকম নয়। ভোট অন্য বারের মতোই স্বাভাবিক। এ বার যেহেতু ভোটার তালিকা থেকে মৃত, স্থানান্তরি- সহ বেশ কিছু ভোট বাতিল হয়েছে, সে কারণে মোট ভোটের সংখ্যা কমেছে। তাই সংখ্যা হিসেবে ভোট ঠিক থাকলেও শতাংশ বেড়েছে। দিনহাটার তৃণমূল প্রার্থী উদয়ন গুহ বলেন, ‘‘ভোটের হার এ বারও স্বাভাবিক রয়েছে। যেহেতু মোট ভোটারের সংখ্যা কমেছে তাই ভোটদানের বেড়েছে।’’ তিনি দাবি কারেণ, এ বার তৃণমূলের ফল আগের থেকেও ভাল হবে। অধিকাংশ আসনে তৃণমূল জয়ী হবে।’’
বিজেপির অবশ্য দাবি, ভোটদানের এই হার শাসক দলের বিরুদ্ধে ক্ষোভের কারণ। অতিরিক্ত যে ভোট পড়েছে তার পুরোটাই শাসক দলের বিরুদ্ধে গিয়েছে বলে দাবি বিজেপির। বিজেপির কোচবিহার জেলার সাধারণ সম্পাদক সঞ্জয় চক্রবর্তী বলেন, ‘‘এ বার তালিকা স্বচ্ছ হওয়ায় ছাপ্পা ও ফলস ভোট দিতে পারেনি তৃণমূল। মানুষ শাসক দলের বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছে। তা ভোটের হার দেখলেই স্পষ্ট। তৃণমূলের এ বার বিদায়ের পালা।’’