• খামতি অভিজ্ঞতায়, ইভিএম জমায় দেরি মহিলা কর্মীদের
    আনন্দবাজার | ২৫ এপ্রিল ২০২৬
  • ভোট মিটিয়ে সন্ধ্যার মধ্যে কাঁথির ‘ডিসপার্সন সেন্টার অ্যান্ড রিসিপ্ট সেন্টার’ (ডিসিআরসি) পৌঁছে গিয়েছিলেন বহু মহিলা বুথের ভোট কর্মী। তবে গভীর রাতেও ইভিএম জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া শেষ হয়নি। লাইনে দাঁড়িয়ে কয়েক জন মহিলা ভোটকর্মী বলছিলেন, ‘‘কত ফর্মপূরণ করতে হচ্ছে। আগে এ নিয়ে সেই অর্থে কিছু বলা হয়নি। আসলে প্রথমবার তো! অনেক ঝক্কি পোহাতে হচ্ছে।’’

    প্রথম দফায় জেলায় ভোটগ্রহণ মিটেছে সুষ্ঠু ভাবে। এর পরে শুক্রবার ভোর পর্যন্ত চলেছে ‘রিসিপ্ট সেন্টারে’ ইভিএম জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া। সন্ধ্যার মধ্যে প্রায় সব জায়গাতেই ভোট মিটলেও কেন এত দেরি করে ইভিএম জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া চলল? এর জন্য রিসিপ্ট কেন্দ্রগুলির অব্যবস্থাকে যেমন একাংশ ভোটকর্মীরা দায়ী করছেন, তেমনই মহিলা ভোটকর্মীদের অনভিজ্ঞতাও দেরির কারণ বলে দাবি।

    পূর্ব মেদিনীপুরে চারটি ডিসিআরসি করা হয়েছিল। উত্তর ও দক্ষিণ কাঁথি, খেজুরি এবং রামনগর বিধানসভার রিসিপ্ট সেন্টার হয়েছিল প্রভাত কুমার কলেজে। সেখানে পুরুষ ভোটকর্মীদের জন্য এক-একটি কাউন্টারে ১২-১৪ টি বুথের ইভিএম জমা নেওয়া হচ্ছিল। আর মহিলাদের ক্ষেত্রে ১৫টি করে নেওয়া হচ্ছিল। সেন্টার সূত্রের খবর, পুরুষ ভোট কর্মীদের জমা দেওয়ার কাজ রাত ১২টার মধ্যেই শেষ হয়। তবে মহিলাদের ক্ষেত্রে ওই কাজ চলেছে রাত ৩টা পর্যন্ত। অভিযোগ, মহিলা ভোট কর্মীদের লাইনে কোনও শৃঙ্খলা ছিল না। অনেকেই প্রথমবার কর্মী হওয়ায় অনভিজ্ঞ ছিলেন। তা ছাড়া, এ বার ৩৬ রকমের ফর্মপূরণ করে জমা দিতে হচ্ছে। সেই কাজেও হিমশিম খেতে হয়েছে মহিলা কর্মীদের।

    মহিলা ভোট কর্মীদের বক্তব্য, রিসিপ্ট সেন্টারের সংখ্যা বৃদ্ধি করা হলে এ ধরনের সমস্যা হত না। আর, ভোট কর্মীদের আসল কাজ যে ভোটের পরে ওই সব ফর্মপূরণ করা, সেটাও অজানা ছিল অনেকের কাছে। উল্লেখ্য, এ বার জেলায় ১২৫৩টি মহিলা বুথ ছিল। যা সাম্প্রতিক কালের সর্বাধিক।

    তমলুকে জেলাশাসকের অফিস সংলগ্ন শহিদ মাতঙ্গিনী গার্লস কলেজে ছিল ডিসিআরসি। সেখানে তমলুক, ময়না, নন্দকুমার-সহ ছ’টি বিধানসভা কেন্দ্রের ভোট যন্ত্র জমা নেওয়া হয়। এখানেও ছবিটা কার্যত কাঁথির মতো। সন্ধ্যা থেকে রাত ৩টে পর্যন্ত চলেছে কাজ। এখানেও পুরুষ কর্মীদের কাজ আগেই মিটে যায়। অনেক পুরুষ ভোট কর্মীকে পরে মহিলাদের কাজে সাহায্য করতেও দেখা গিয়েছে।

    মহিলা ভোট কর্মীদের প্রশিক্ষণে কী খামতি ছিল? এ বিষয়ে জেলাশাসক তথা জেলা নির্বাচনী আধিকারিক নিরঞ্জন কুমার বলেন, ‘‘পর্যাপ্ত পুরুষ ভোটকর্মী না পাওয়ার কারণে এ বার একক ভাবে মহিলা পরিচালিত বুথের সংখ্যা বৃদ্ধি করতে হয়েছিল। যাদের অনেকে প্রথমবার ভোট কর্মী হয়েছেন। তাই কিছুটা সমস্যা হয়েছিল।’’

    এ দিকে, শুক্রবার প্রার্থী এবং রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের নিয়ে স্ট্রং রুমের নিরাপত্তায় জেলা প্রশাসন এবং কমিশনের প্রতিনিধিরা বৈঠক করেন। বৈঠকের পরে উত্তর এবং দক্ষিণ কাঁথির তৃণমূলের দুই প্রার্থী দেবাশিস ভূঁইয়া এবং তরুণ জানা বলেন, ‘‘আপাতত নিরাপত্তা ঠিকই রয়েছে। তবে বিজেপি অনেক কিছুই করতে পারে।’’ যদিও দক্ষিণ কাঁথি এবং রামনগরের বিজেপি প্রার্থী অরূপ কুমার দাস এবং চন্দ্রশেখর মণ্ডল বলছেন, ‘‘আসলে ওঁরা দীর্ঘদিন ভোট কুশলী সংস্থাকে কাজে লাগিয়ে কারচুপি করেছে তো। তাই ভুল বকছেন।’’
  • Link to this news (আনন্দবাজার)