• ঠাকুরবাড়ির আঙিনায় সভার প্রস্তুতি মোদীর
    আনন্দবাজার | ২৫ এপ্রিল ২০২৬
  • বিধানসভা ভোটের প্রচারের একেবারে শেষ পর্যায়ে, ২৬ এপ্রিল, রবিবার গাইঘাটার ঠাকুরনগরে মতুয়া ঠাকুরবাড়ির আঙিনায় জনসভা করতে আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ঠাকুরবাড়ি সংলগ্ন মাঠে সভার আয়োজন করা হয়েছে। শুরু হয়েছে মঞ্চ বাঁধার কাজ। ঠাকুরবাড়ির সামনে মতুয়া ধর্ম মহামেলার মাঠে তৈরি হচ্ছে হেলিপ্যাড। কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী নিজেই ঠাকুরনগরে সভা করার আগ্রহ দেখিয়েছেন। তাঁর মতে, মতুয়া উদ্বাস্তুদের জন্য নতুন ঘোষণা আসতে পারে এবং যাঁদের নাম বাদ গিয়েছে তাঁদের আশ্বস্ত করবেন প্রধানমন্ত্রী।

    ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে একই জায়গায় সভা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। সে সময়ে তিনি মতুয়া সম্প্রদায়ের ‘বড়মা,’ প্রয়াত বীণাপাণি ঠাকুরের সঙ্গে দেখা করে আশীর্বাদ নেন এবং মতুয়া উদ্বাস্তুদের নাগরিকত্ব দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। পরবর্তীতে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ) কার্যকর হয়। সেই সভার পর থেকে বনগাঁ মহকুমায় মতুয়াদের বড় অংশ বিজেপির দিকে ঝুঁকেছেন বলে দলের একাংশের দাবি।

    তবে এবারের পরিস্থিতি ভিন্ন। এসআইআর প্রক্রিয়ায় বনগাঁ মহকুমার চারটি বিধানসভা কেন্দ্র মিলিয়ে বিপুল সংখ্যক মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। অভিযোগ, ১ লক্ষ ৭১ হাজার ৫৬৯ জনের নাম চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে। খসড়া ও বিবেচনাধীন তালিকা মিলিয়ে ৮৫ হাজার ৩৯৬ জনের নাম বাদ পড়েছে। সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, বাদ পড়াদের মধ্যে বড় অংশ মতুয়া উদ্বাস্তু সম্প্রদায়ের। এই পরিস্থিতিতে তাঁদের একাংশের মধ্যে ক্ষোভ, অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

    ৮২ বছরের মতুয়া ভক্ত কার্তিক বৈরাগী-সহ অনেক মতুয়া ভক্তের প্রশ্ন, ‘‘২০২৪ সালে ভোট দিয়েছিলাম। আমাদের ভোটে উনি প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। এখন আমাদের নাম তালিকা থেকে বাদ! এর দায় কি প্রধানমন্ত্রী এড়াতে পারবেন? কী বলেন আমরা শুনতে চাই।” যোগেশচন্দ্র বিশ্বাস নামে আর এক মতুয়া ভক্তের কথায় “আমরা নিশ্চয়ই সিএএতে আবেদন করলে নাগরিকত্ব পাব। প্রধানমন্ত্রী তাঁর ব্যবস্থা করবেন আশা করি।’’ গাইঘাটার বিজেপি প্রার্থী সুব্রত ঠাকুরও দাবি করেছেন, ‘‘সিএএ অনুযায়ী আবেদন করলে নাগরিকত্ব পাওয়া সম্ভব এবং কেউ দেশছাড়া হবেন না— এই নিশ্চয়তা প্রধানমন্ত্রী দেবেন।’’

    অন্য দিকে, তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ মমতা ঠাকুর বলেন, ‘‘এসআইআর প্রক্রিয়ায় যে সব মতুয়া উদ্বাস্তু নাম বাদ গিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী কি তাঁদের ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠাতে আসছেন? ২০১৯ সালে প্রধানমন্ত্রী এসে নিঃশর্ত নাগরিকত্ব দেওয়ার কথা বলেছিলেন। তারপরে আমরা দেখলাম, মতুয়া উদ্বাস্তু মানুষদের ভোটার তালিকা থেকে বাদ দিয়ে দেওয়া হল। এ বারও কি মতুয়াদের ভাঁওতা দিতে আসছেন?’’

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রধানমন্ত্রীর এই সফর অনেকটাই ক্ষোভ প্রশমনের ভাবনা থেকেই। বনগাঁ মহকুমার চারটি বিধানসভা কেন্দ্রেই মতুয়া ভোট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই পরিস্থিতিতে বিপুল সংখ্যক নাম বাদ পড়া বিজেপির জন্য অস্বস্তির কারণ হতে পারে।
  • Link to this news (আনন্দবাজার)