• সাধারণে দেখে পরিষেবা মিলছে কি না! কোন দল সেটা দিচ্ছে, তা কিন্তু ততটা গুরুত্ব পায় না: ইমন
    আনন্দবাজার | ২৫ এপ্রিল ২০২৬
  • ১. মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে কাকে দেখতে চান?
    ইমন: যে মানুষটি দল, মত, ধর্ম, জাতপাত নির্বিশেষে সকলের জন্য লড়াই করবেন। যিনি সকলের মুখ্যমন্ত্রী হতে পারবেন, সকলের জন্য অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থানের বন্দোবস্ত করতে পারবেন।

    ২. দল দেখে ভোট দেন, না কি প্রার্থী দেখে?
    ইমন: শেষ ২-৩ বছর প্রার্থী দেখেই ভোট দিয়েছি।

    ৩. প্রার্থী বাছাইয়ের পরীক্ষা হলে কেমন হয়? আর জেতার পরে যদি হয় বিধায়কের প্রশিক্ষণ?
    ইমন: খুবই ভাল হয়। কিন্তু কে নেবে পরীক্ষা? কী দেবে প্রশিক্ষণ? তাঁরও তো পরীক্ষা নেওয়ার প্রয়োজন। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত হতে হবে তাঁকে।

    ৪. নিজে বিধায়ক হলে কী বদলাতে চাইতেন?
    ইমন: আমি বিধায়ক হলে রাজ্যের সব জায়গায়, তা সে রেডিয়ো হোক, এফএম চ্যানেল হোক, শপিং মল বা মেট্রো স্টেশন, অগ্রাধিকার বাংলা গানের থাকত।

    ৫. আপনার পেশার জগতের কোনও অভিযোগ কি ভোট প্রচারে গুরুত্ব পাওয়া দরকার?
    ইমন: দরকার। আমাদের মতো শিল্পীরা, যাঁরা মঞ্চে উঠে গান গাই, তাঁদের জন্য পুলিশি নিরাপত্তা একটু আঁটোসাঁটো হলে ভাল হয়। এতে শিল্পীদের একটু সুবিধা হয়।

    ৬. নির্বাচন প্রক্রিয়াকে দুর্নীতিমুক্ত রাখতে পারে কী কী?
    ইমন: শিক্ষা। ডিগ্রি অর্জন করাই আসল শিক্ষা নয়। মননের পরিবর্তন দরকার। তাতেই দুর্নীতির কোপ কম পড়বে।

    ৭. ঘন ঘন দলবদলের বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নেওয়া দরকার?
    ইমন: কী লাভ! যাঁরা দল বদলাতে চান, তাঁরা এমনিতেই করবেন। আমার মতে, এই বিষয়ে খুব বেশি জাজমেন্টাল হওয়া উচিত নয় আমাদের। কেউ যদি দল পরিবর্তন করে সাধারণ মানুষের জন্য কাজটা অন্তত করেন, তা হলে অসুবিধা নেই। সাধারণ মানুষ দেখে, পরিষেবা মিলছে কি না। কোন দল পরিষেবা দিচ্ছে, সেটা কিন্তু ততটা গুরুত্ব পায় না।

    ৮. রাজনীতিতে অপশব্দের প্রয়োগ কি জরুরি?
    ইমন: জীবনের কোনও ক্ষেত্রেই অপশব্দের প্রয়োগ জরুরি নয়। রাজনীতিতে তো নয়-ই। তবে এখানে একটা বিষয় ভাবতে হবে, কোনও সত্য কথাকে জোরের সঙ্গে বললে যদি কারও অপশব্দ বলে মনে হয়, সেটা ঠিক নয়। কিন্তু গালমন্দ, ঘৃণাভাষণ ইত্যাদি অবশ্যই অপশব্দের মধ্যেই পড়ে। যেহেতু এটা রাজার নীতি, সমাজের অভিভাবক মঞ্চে দাঁড়িয়ে কথা বলেন, সে ক্ষেত্রে খুব খারাপ কথা কিন্তু মানুষকে আঘাত করতে পারে।

    ৯. দেশজ সংস্কৃতি, উন্নয়ন না কি সমান অধিকার— ভোট প্রচারে কোনটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ?
    ইমন: বাক্‌স্বাধীনতা চাই। আমার যে ভাবে ইচ্ছা, সে ভাবে বাঁচব। আর তার জন্য কোনটা গুরুত্বপূর্ণ, আমি জানি না। তবে ভোটের প্রচারে উন্নয়নকে জরুরি বলে মনে করি।

    ১০. ভাতা-র রাজনীতি সমাজের উন্নতি করে কি?
    ইমন: তৃতীয় বিশ্বের একটি দেশের নাগরিক আমরা। সেখানে ভাতা খুবই প্রয়োজনীয়। এ রকম পরিবারও চিনি, মাসে হাজার টাকাও ঘরে আসত না। তাঁরা এখন ভাতা পেয়ে আগের থেকে ভাল আছেন। এটা সমাজের উন্নতি কি না বলতে পারব না, কিন্তু নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের অনেকেই উপকৃত হচ্ছেন। এটা অস্বীকার করতে পারব না।

    ১১. প্রায় বিরোধীশূন্য রাজনীতি কি স্বাস্থ্যকর?
    ইমন: কোনও ক্ষেত্রেই স্বাস্থ্যকর নয়। প্রতিযোগিতায় আমি দৌড়োচ্ছি, অথচ পিছনে ফিরে দেখলাম, কেউ নেই, তা হলে দৌড়োনোর স্পৃহাটা কমে যাবে। ঘাড়ের কাছে কেউ নিঃশ্বাস ফেললে তবেই না দৌড়োনোটা সঠিক হবে। তাই বিরোধী থাকা দরকার।

    ১২. তারকারা কি ভোট টানার শর্টকাট?
    ইমন: কোন তারকাদের কথা হচ্ছে? রাজনীতির ময়দানের যাঁরা তারকা, তাঁরাও কিন্তু ভোট টানেন। আমাদের দেশের সবচেয়ে বড় তারকা তো নরেন্দ্র মোদী এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এঁদের অন্য কোনও ক্ষেত্রের তারকাদের প্রয়োজন পড়ে না। কিন্তু তার পরও যাঁদের নেওয়া হয় দলে, তাঁরা কিন্তু নিজের নিজের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত। সাধারণ মানুষ তাঁদের দেখে অনুপ্রাণিত হন, ভরসা পান। তাই ভোট টানার শর্টকাট বলা যেতেও পারে সে ভাবে দেখলে।

    ১৩. পছন্দের রাজনীতিবিদ কে?
    ইমন: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, ত্রিপুরার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার এবং বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। সিপিএম-এর মানিক সরকারের আতিথেয়তা স্বচক্ষে দেখে এসে আমি মুগ্ধ। বুদ্ধবাবুর সঙ্গে আলাপ হওয়ার সৌভাগ্য হয়নি। কিন্তু সবচেয়ে বেশি কাছ থেকে দেখেছি এবং অবাক হয়েছি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেখে। এই বয়সেও যে ভাবে খাটতে পারেন তিনি, তা অকল্পনীয়!
  • Link to this news (আনন্দবাজার)