• বাঁকুড়ায় ভোটের কাজ শেষ করে অসুস্থ বিএলও, হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে মৃত্যু! কমিশনকে দুষল পরিবার
    আনন্দবাজার | ২৬ এপ্রিল ২০২৬
  • ভোটের পর মৃত্যু এক বিএলও-র। শনিবার সকালে বাঁকুড়ার মৌলাডাঙার বাড়ি থেকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে শম্পা লাই পরামাণিক নামের এক প্রৌঢ়ার মৃত্যু হয়েছে।

    পরিবারের দাবি, ভোটের দিন প্রবল রোদ এবং গরমে দিনভর বুথের বাইরে বসে নিজের দায়িত্ব সামলেছেন বিএলও শম্পা। ঠিক মতো পানীয় জলও পাননি বলে অভিযোগ। তার মধ্যে কোনও ভাবে ভোটের কাজ শেষ করেন। কিন্তু বাড়ি ফেরার পথে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। শম্পার সহকর্মীদেরও দাবি, ভোটের কাজের সময় অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন তিনি। তার পরেই মৃত্যু হয়েছে তাঁর।

    এ বার বুথে বুথে বিএলও-দের নির্দিষ্ট দায়িত্বভার দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। মৌলাডাঙা গ্রামের আইসিডিএস কর্মী শম্পা পরামানিক বৃহস্পতিবার ভোটের দিন বাঁকুড়া বিধানসভার বাঁকুড়া টাউন বয়েজ হাই স্কুলের ৮৭ নম্বর বুথে কাজ করছিলেন। পরিবারের দাবি, গত ২৩ এপ্রিল দিনভর বুথের বাইরে রোদ-গরমের মধ্যে বসে থেকে থেকে কাজ করতে হয়েছে প্রৌঢ়াকে। পানীয় জলের সরবরাহ ছিল না। ভোটের কাজ মিটিয়ে বাড়ি ফেরার পর কয়েক বার বমি করেন তিনি। বাড়িতেই চিকিৎসা চলছিল।

    কিন্তু শনিবার সকালে শম্পার শারীরিক পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। তাঁকে পরিবারের লোকজন বাঁকুড়া শহরের একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। পথেই তাঁর মৃত্যু হয়। কমিশনের বিরুদ্ধে বিএলও-দের প্রতি অমানবিক আচরণের অভিযোগ করেছে পরিবার। মৃতার স্বামী প্রসেনজিৎ পরামানিক বলেন, ‘‘২৩ এপ্রিল বুথের বাইরে দিনভর কার্যত রোদের মধ্যে বসে থেকে নিজের দায়িত্ব পালন করেছিল আমার স্ত্রী। কমিশনের তরফে ওআরএস এমনকি, পানীয় জলটুকুও তাঁকে দেওয়া হয়নি। ফলে ভোট মিটতেই অসুস্থ হয়ে পড়ে আমার স্ত্রী। আজ তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করি। কিন্তু হাসপাতালে পৌঁছোনোর আগেই তাঁর মৃত্যু হয়।’’

    মৃতার সহকর্মী রিঙ্কু রায় চন্দ বলেন, ‘‘ভোটেরদিন বিএলওদে-র প্রতি নির্বাচন কমিশনের অমানবিক আচরণের কারনেই প্রাণ দিতে হল শম্পাকে।ভোটের দিন ন্যূনতম সাহায্য এবং সহযোগিতা ছাড়াই আমাদের প্রবল রোদের মধ্যে দিনভর কাজকরতে হয়েছে। বহু ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় বাহিনীও আমাদের সঙ্গে যথাযথ ব্যবহার করেনি। আমরাএর বিচার চাই।’’
  • Link to this news (আনন্দবাজার)