দক্ষিণপন্থী, হিন্দুত্ববাদী বা অসহিষ্ণু কোনও দলের সদস্যকে মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে দেখতে চাই না: ধৃতিমান
আনন্দবাজার | ২৫ এপ্রিল ২০২৬
১. মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে কাকে দেখতে চান?
ধৃতিমান: জানি কিন্তু বলব না। ভোটদাতা হিসাবে গোপনীয়তার অধিকার আমার আছে। তা রক্ষা করাই ভাল। কাকে দেখতে চাইব না, বরং সেটা বলি। দক্ষিণপন্থী দল, হিন্দুত্ববাদী দল বা কোনও অসহিষ্ণু দলের সদস্যকে আমি মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে দেখতে চাইব না।
২. দল দেখে ভোট দেন, না কি প্রার্থী দেখে?
ধৃতিমান: ব্যক্তি বেশি গুরুত্বপূর্ণ আমার কাছে। কিন্তু ব্যক্তিকে নির্বাচন করতে হলে তো দলকে বেছে নিতেই হবে। তাই দুটোই গুরুত্বপূর্ণ।
৩. প্রার্থী বাছাইয়ের পরীক্ষা হলে কেমন হয়? আর জেতার পরে যদি হয় বিধায়কের প্রশিক্ষণ?
ধৃতিমান: এমন হলে তো আদর্শ ব্যবস্থা হত। কিন্তু সেটা হবে না। পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ৩০০ আসন আছে। দাঁড়াবেন প্রায় ১০০০ প্রার্থী। সবাই যে যোগ্য হবেন, সেটা আশা করা যায় না। তবে বিধায়কের প্রশিক্ষণ হলে সেটা ভাল ব্যবস্থা হবে।
৪. নিজে বিধায়ক হলে কী বদলাতে চাইতেন?
ধৃতিমান: বিধায়কের প্রাথমিক ভাবে কী করা উচিত, সেটা বলতে চাই। সাধারণের মনে ভরসা তৈরি করার চেষ্টা করতাম। যে বিশ্বাসটা হারিয়ে যাচ্ছে নির্বাচিত ব্যক্তির উপরে, তা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করতাম।
৫. আপনার পেশার জগতের কোনও অভিযোগ কি ভোট প্রচারে গুরুত্ব পাওয়া দরকার?
ধৃতিমান: ভোটের প্রচারে অবশ্যই গুরুত্ব পাওয়া দরকার। শুধু আমাদের পেশা নয়, স্বাস্থ্য, শিক্ষা বা যে কোনও পেশায় যিনি যুক্ত, তা নিয়ে যদি প্রশ্ন করতে পারেন। বা সমস্যার সমাধান দিতে পারেন, তা হলে তো ভালই হবে।
৬. নির্বাচন প্রক্রিয়াকে দুর্নীতিমুক্ত রাখতে পারে কী কী?
ধৃতিমান: প্রার্থী এক দলের জন্য দাঁড়িয়ে তার পরেই অন্য দলে চলে যাওয়া। এটা বন্ধ হলে দুর্নীতি কিছুটা বন্ধ হতে পারে।
৭. ঘন ঘন দলবদলের বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নেওয়া দরকার?
ধৃতিমান: হ্যাঁ, দরকার তো বটেই। আইন যাতে অক্ষরে অক্ষরে পালন করেন সবাই, সেটাই কড়া ভাবে মেনে চলতে হবে।
৮. রাজনীতিতে অপশব্দের প্রয়োগ কি জরুরি?
ধৃতিমান: আমাদের রাজনৈতিক ব্যবহারে অবনতি হয়েছে। সব সময়েই ‘তু তু ম্যায় ম্যায়’ চলছে।
৯. দেশজ সংস্কৃতি, উন্নয়ন না কি সমান অধিকার— ভোট প্রচারে কী বেশি গুরুত্বপূর্ণ?
ধৃতিমান: কারও সঙ্গে কারও বিরোধ নেই। সবটাই গুরুত্বপূর্ণ। সংস্কৃতি, উন্নয়নের সঙ্গে রাজনৈতিক অবস্থানের তো কোনও দ্বন্দ্ব থাকা উচিত নয়।
১০. ভাতার রাজনীতি সমাজের উন্নতি করে কি?
ধৃতিমান: না, একেবারেই করে না। টাকা পাইয়ে দেওয়ার রাজনীতির সঙ্গে গণতন্ত্রের কোনও সম্পর্ক নেই।
১১. প্রায় বিরোধীশূন্য রাজনীতি কি স্বাস্থ্যকর?
ধৃতিমান: বিরোধীশূন্য রাজনীতি হলে তো ‘ডবল ইঞ্জিন’ রাজনীতি হবে। সবাই এক ভাষায়, এক সুরে কথা বলবেন। সেটা কি আদৌ স্বাস্থ্যকর হবে? রাজনৈতিক ব্যবস্থা হিসাবে গণতন্ত্রই যে ভাল, সেটাই বা কে বলতে পারে।
১২. তারকারা কি ভোট টানার শর্টকাট?
ধৃতিমান: যেখানেই গণতন্ত্র আছে বা নির্বাচন হয় সেখানে এমন এক জন যাকে সবাই চেনে তাঁকে প্রার্থী করার একটা প্রবণতা থাকে। তাতে কোনও দোষ নেই। সে তো তিনি চিকিৎসক, আইনজীবী যে কেউ হতে পারেন। দেখতে হবে, সফল পেশাদার বলেই সে যোগ্য, সেটা ধরে নেওয়া ঠিক নয়।
১৩. পছন্দের রাজনীতিবিদ কে?
ধৃতিমান: এ বিষয় নিয়ে অনেক ভেবেছি। কিন্তু হঠাৎ কারও নাম বলতে পারব না। তবে রাজনীতিক হিসাবে ডাক্তার বিধানচন্দ্র রায়, অধ্যাপক হীরেন মুখোপাধ্যায়কে দেখে মনে হত তাঁদের ভোট দেওয়া যায়।